Baruipur Case: 'বারুইপুর যেতে চেয়েছিলেন মমতা, ব্যারিকেড পুলিশের', দাবি তৃণমূলের

বারুইপুরে পুকুরে উদ্ধার ১১ বছরের নাবালিকার দেহ। ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনায় রাজ্যের বর্তমান সরকারকে নিশানা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

Advertisement
'বারুইপুর যেতে চেয়েছিলেন মমতা, ব্যারিকেড পুলিশের', দাবি তৃণমূলের বারুইপুর যেতে মমতাকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ।
হাইলাইটস
  • বারুইপুরে নাবালিকাকে খুন করে ধর্ষণের অভিযোগ।
  • মমতাকে যেতে বাধা, অভিযোগ কুণালের।

বারুইপুরে যেতে চেয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে আটকে দিয়েছে বিরাট পুলিশবাহিনী। রবি-সন্ধ্যায় এমন বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, কাল অর্থাৎ সোমবারও ব্যারিকেড থাকবে বলে সূত্র মারফত খবর পেয়েছেন। যদিও সরকারিভাবে কিছু বলা হয়নি। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার সময় পর্যন্ত এ ব্যাপারে পুলিশের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। 

বারুইপুরে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগে রণক্ষেত্র বারুইপুর। এলাকায় পুলিশি টহল। মোতায়েন আধা সামরিক বাহিনী। ওই ঘটনায় রাজ্য সরকারকে ইতিমধ্যেই আক্রমণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার দলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ দাবি করলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বারুইপুর যেতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, 'বারুইপুর যেতে চেয়েছিলেন @MamataOfficial জননেত্রী। খবর পেয়ে তাঁকে আটকাতে তাঁর বাড়ির সামনে বিরাট পুলিশবাহিনী, ব্যারিকেড। যাতে নেত্রী এখন বেরোতে না পারেন। সূত্রের খবর, কালও এই ব্যারিকেড থাকবে। পুলিশের তরফে এখনও সরকারিভাবে কিছু বলা হয়নি। কিন্তু একাধিক সূত্র বিষয়টি জানাচ্ছে। নেত্রী তৈরি হয়ে গিয়েছিলেন। আপাতত পরিস্থিতি জটিল'। (বানান ও বাক্যগঠন অসম্পাদিত)

এদিকে, ক্ষমতায় আসার আগে নারীসুরক্ষা নিয়ে বিজেপির প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এক্স হ্যান্ডেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন,'নারীদের সুরক্ষায় ব্যর্থ বিজেপি। এমন একটা পরিবেশ তৈরি করছে, যেখানে জঘন্য অপরাধে অভিযুক্তরা রাজনৈতিক ছত্রছায়া পাচ্ছে। মনে হচ্ছে, রাজনৈতিক যোগ থাকলেই বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করা যায়। আইনের শাসনের চেয়ে ক্ষমতার প্রভাব বেশি। প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক চাপ ন্যায়বিচারের পথকে কি অবরুদ্ধ করে দিচ্ছে। বারুইপুরের এই ভয়াবহ ঘটনার নেপথ্যে আসল সত্য এটাই! নারীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলায় এসেছিল বিজেপি। অথচ এই ধরনের প্রতিটি ঘটনাই বুঝিয়ে দিচ্ছে তাদের প্রতিশ্রুতি কতটা ফাঁপা। সেই সঙ্গে এই নীরবতাও অনেক কথা বলে দিচ্ছে। কোনও প্রতিবাদ নেই। কোনও ক্ষোভ নেই। জবাবদিহিতার কোনও দাবি নেই। কারও পদত্যাগের কোনও দাবি নেই। বিবেকের জাগরণ নেই। ন্যায়বিচার যখন বেছে বেছে করা হয় এবং প্রতিবাদে রাজনীতি থাকলে, তখন কেবল ভুক্তভোগীই কষ্ট পায় না, তার চড়া মূল্য চোকাতে হয় গোটা সমাজকে। অত্যন্ত লজ্জাজনক পরিস্থিতি'।

Advertisement

রবিবার সকালে বারুইপুরে এক নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর রণক্ষেত্র গোটা এলাকা। অভিযোগ, ধর্ষণের পর তাকে খুন করা হয়েছে। ক্ষুব্ধ জনতা এক অভিযুক্তকে ধরে গণধোলাই দেয়। সেখানেই মৃত্যু হয় ওই যুবকের। পুলিশের একটি গাড়িতে চালানো হয় ভাঙচুর। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে চলে বিক্ষোভ। এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

অভিযোগ, শনিবার ১২ বছরের ওই নাবালিকা বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ বাড়ি থেকে কিছু জিনিসপত্র কিনতে বের হয়েছিল। তারপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। রবিবার সকালে এলাকার একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সারা রাত নাবালিকা খোঁজ থাকলেও পুলিশ কোনও সাহায্য করেনি। এরপর এক সন্দেহভাজনকে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে জানায় দেহটি কোথায় রয়েছে। তার দেখানো পুকুর থেকে দেহ উদ্ধার হতেই বেধড়ক মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আসা পুলিশের একটি গাড়িতেও ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা।
 

POST A COMMENT
Advertisement