Kunal Ghosh : নতুন কমিটির বৈধতা নেই, দাবি কুণালের; ঋতব্রতকে বললেন 'বহিষ্কৃত চাটুকার'

বিরোধী শিবিরের নেতাদের সুবিধাবাদী কটাক্ষ করে তাঁদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, ছাব্বিশের ভোটে তৃণমূল জিতলে এই নেতারা মমতাকে ছেড়ে যেতেন না।

Advertisement
নতুন কমিটির বৈধতা নেই, দাবি কুণালের; ঋতব্রতকে বললেন 'বহিষ্কৃত চাটুকার'ঋতব্রতকে আক্রমণ কুণালের
হাইলাইটস
  • এদিন কুণাল ঋতব্রত-সহ বিরোধী শিবিরের নেতাদের তীব্র আক্রমণ করেন
  • নতুন কমিটিকে কটাক্ষ করেন কুণাল

নিউ টাউনের এক হোটেলে তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সেই কমিটিতে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের জায়গায় চেয়ারম্যান করেছেন হাওড়া মধ্য বিধানসভার বিধায়ক অরূপ রায়কে। দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কেও। এমন খবর প্রচারিত হয়েছে একাধিক সংবাদমাধ্যমে। আর সেই খবর সামনে আসতেই ক্ষোভে ফুঁসছে মমতা-শিবির। 

সূত্রের খবর, এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কালীঘাট বিরোধী শিবিরের ৬০ জন বিধায়ক। এছাড়াও রাজ্য়ের নানা প্রান্তের ৭০ কাউন্সিলর। তাঁদের নিয়েই এই কমিটি গঠন করা হয়। ফিরহাদ হাকিম এবং রথীন ঘোষকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদকের পদ দেওয়া হয়েছে ঋতব্রত ছাড়াও জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা এবং সাবিনা ইয়াসমিনকে। তবে এই কমিটিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, এই কমিটির কোনও বৈধতা নেই। তৃণমূল মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় মানেই তৃণমূল। 

এদিন কুণাল ঋতব্রত-সহ বিরোধী শিবিরের নেতাদের তীব্র আক্রমণ করেন। বলেন, 'এরা নিজের মায়ের পিঠে ছুরি মারতে পারে। কারও কোনও বক্তব্য থাকলে দলে বলতে পারতেন। শোভনদা বা দোলার বক্তব্য থাকতে পারে। আমারও আছে। কিন্তু যদি মনে হয় দল ছেড়ে যাবেন তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রণাম করে ছাড়তে পারতেন। আপনাদের হিম্মত নেই, তাই পারেননি।' 

নতুন কমিটিকে কটাক্ষ করেন কুণাল। বলেন, 'এঁরা নাকি মমতাকেই দল থেকে বাদ দিয়েছে। এই কথা শুনলে হাসি পায়। মমতা তো জনগণের নেত্রী। ঋতব্রত নিজেই বহিষ্কৃত। তিনি একজন চাটুকার। যিনি নিজেই বহিষ্কৃত, তিনি কীভাবে অন্য কাউকে বহিষ্কার করতে পারেন? এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। এঁরা অন্যের স্বার্থসিদ্ধি করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি এখনও মুখ্যমন্ত্রী থাকতেন, তবে এই লোকগুলোই তাঁর পেছনে পেছনে ঘুরতেন আর দিদি, দিদি বলে চিৎকার করতেন।'

বিরোধী শিবিরের নেতাদের সুবিধাবাদী কটাক্ষ করে তাঁদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, ছাব্বিশের ভোটে তৃণমূল জিতলে এই নেতারা মমতাকে ছেড়ে যেতেন না। তাঁর কথায়, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতীকে জিতে অনেকে বিধায়ক, সাংসদ, কাউন্সিলর হয়েছেন। এমন অনেকে আছেন, যাঁরা বিভিন্ন পদে ছিলেন। ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান, কাউন্সিলর, এমআইসি, সরকারি পদে থেকেছেন। এঁরা সবাই মমতার দীর্ঘদিনের সংগ্রামকে হাতিয়ার করে সুবিধা ভোগ করেছেন। তারপরও যদি কারও মনে হয় ছেড়ে যাচ্ছেন, তাহলে নেত্রীকে প্রণাম করে ছেড়ে যান।' 

Advertisement

বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রতি কটাক্ষ করে কুণাল ঘোষ আরও দাবি করেন, যাঁরা একসময় প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রশংসা করতেন, তাঁরাই এখন হঠাৎ করে বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। এটা প্রহসন। তবে সময় এর উত্তর দেবে। মমতা নেত্রী ছিলেন, আছেন আর থাকবেনও।' 

POST A COMMENT
Advertisement