Kunal Ghosh: 'খোলসে ঢুকে থাকুন, বাইরের ঝামেলা কমলে বেরোন,' কচ্ছপ দিবসে কুণালের তাত্‍পর্যপূর্ণ পোস্টে কাকে নিশানা?

বিশ্ব কচ্ছপ দিবসে কুণাল ঘোষের ব্যাঙ্গাত্মক পোস্ট। তিনি লিখলেন, 'খোলসটা ব্যবহার করুন। ঝামেলা দেখলে খোলসে ঢুকে থাকুন। খোলসের ভিতর থেকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করুন। বাইরের ঝামেলা একটু কমলে খোলস থেকে বেরোন।' কাকে নিশানা করলেন বেলেঘাটার বিধায়ক?

Advertisement
 'খোলসে ঢুকে থাকুন, বাইরের ঝামেলা কমলে বেরোন,' কচ্ছপ দিবসে কুণালের তাত্‍পর্যপূর্ণ পোস্টে কাকে নিশানা?কুণাল ঘোষ
হাইলাইটস
  • কচ্ছপ দিবসে কুণাল ঘোষের ব্যাঙ্গাত্মক পোস্ট
  • তিনি লিখলেন, 'খোলসটা ব্যবহার করুন'
  • কাকে নিশানা করলেন বেলেঘাটার বিধায়ক?

বিশ্ব কচ্ছপ দিবসে এই প্রাণীদের ভাল রাখার বার্তা নিয়ে হাজির কুণাল ঘোষ। ভাবছেন নিছকই সাধারণ পোস্ট? পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বাস্ততন্ত্র, জীববৈচিত্র, এইসব নিয়ে বলছেন তিনি? প্রথম লাইন পড়ে তেমনটা মনে হলেও, পোস্টটির সবটুকু পড়লে বোঝা যায়, আদতে তিনি নিজের দলেরই একাংশকে বিঁধেছেন। যদিও কারও নাম করেননি বেলেঘাটার বিধায়ক। তবে তাঁর নিশানায় কে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। 

কী লিখলেন বেলেঘাটার বিধায়ক?

কুণাল ঘোষের পোস্টের কিছু কিছু লাইন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি লিখেছেন, 'কচ্ছপ যতদিন বাঁচবে, সিনিয়রিটিকে সম্মান দিয়ে চলুন। তাঁদের দেখে শিখুন। খোলসটা ব্যবহার করুন। ঝামেলা দেখলে খোলসে ঢুকে থাকুন। খোলসের ভিতর থেকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করুন। বাইরের ঝামেলা একটু কমলে খোলস থেকে বেরোন।'

কী চলছে দলের অন্দরে?

প্রসঙ্গত, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দলের শোচনীয় ফলাফলের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। এবং তা যে কেবল নিচুস্তরে আর সীমাবদ্ধ নেই, সেটা বোঝা যাচ্ছে দলের প্রথমসারির বেশ কিছু নেতার 'বেসুরো' মন্তব্যে। কারা রয়েছেন সেই 'বিদ্রোহী'-দের তালিকায়?

সূত্রের খবর, উত্তর কলকাতার সংগঠনের ‘তথৈবচ’ অবস্থা নিয়ে সরব হয়েছেন এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি উলুবেড়িয়া পূর্ব থেকে জিতেছেন, গুটিকয়েক নেতার দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছেন। ঋতব্রত বলেছেন, তিনি দুর্নীতিগ্রস্তদের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছেন এবং চাইছেন, দল এইসমস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। 

তৃণমূলের অনেকের বক্তব্য, ক্ষমতার দাপটে বহু জায়গায় যেমন মানুষ ভয়ে থাকতেন, দলের অন্দরেও তেমন গুমোট পরিবেশ ছিল। নেতার বদলে দলীয় অভিধানে ক্রমশ জাঁকিয়ে বসছিল 'বস' জাতীয় শব্দ। ফলত ক্ষোভ উগরে দিতেও বাকি থাকছে না কেউ। 

এই তালিকায় রয়েছেন খোদ কুণাল ঘোষও। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্র-যুব সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে। দীর্ঘ দিন নেতৃত্বে বদল না-হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিধায়ক। 

আবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গিয়েছে ঋজু দত্তকে। যিনি সাসপেন্ডও হয়েছেন দল থেকে। কোহিনুর মজুমদারও সরব হয়েছেন একই ভাবে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পরাজয় পরবর্তী নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে দলের অন্দরে। ওদিকে, ফিরহাদ হাকিমও অভিষেকের শান্তিনিকেতন নামে বাসভবনের বেআইনি অংশ নিয়ে KMC-র নোটিশ প্রসঙ্গে কার্যত দায় ঝেড়ে ফেলেছেন। এই নোটিশকাণ্ডের পর অভিষেকের থেকে অনেক নেতাই যে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেছেন, তা কার্যত দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার। 

Advertisement

দলের অন্দরে যখন এমন পরিস্থিতি তখন কুণাল ঘোষের কচ্ছপ নিয়ে করা একটি পোস্ট ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে কুণাল লিখেছেন, 'আগে মুখ বাড়িয়ে দেখে নিন কোন দিকে হাঁটবেন। তারপর সুবিধে মতো চলুন। বাঘ, সিংহদের বয়স কম। ওরা অতটা জানে না। যা শেখার কচ্ছপদের মতো সিনিয়র, অভিজ্ঞদের থেকে শিখুন।' এখন সুবিধে মতো চলার জন্য তিনি কাকে পরামর্শ দিলেন, সেটা নিয়ে দুইয়ে দুইয়ে চার করছেন সকলেই। 

 

POST A COMMENT
Advertisement