সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে দিলপী ঘোষের শোকপ্রকাশ‘গীতশ্রী’ সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে সঙ্গীত জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুকে শোকাহত সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের হাজার হাজার গুণমুগ্ধ শ্রোতা। বুধবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সঙ্গীতশিল্পীর শেষকৃত্য। যেখানে স্বয়ং উপস্থিত থাকবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আবহে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সঙ্গীত শিল্পীর মৃত্যু দুঃখজনক জানানোর পাশাপাশি সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় রাজনীতির শিকার হয়েছিলেন বলেও মন্তব্য করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি।
সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে দিলপী ঘোষ
এদিন দমদম বিমানবন্দরে বিমান ধরার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, "দুঃখের বিষয়, তবে বয়স হয়েছিল, সময়ে গেছেন, কিন্তু তাঁর জায়গা পূরণ করা কঠিন হবে।" সেইসঙ্গে পদ্মশ্রী বিতর্ক নিয়েও মুখ খোলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। দিলীপ ঘোষে বলেন, " দুর্ভাগ্যের বিষয়ে তিনি শেষ জীবনে রাজনীতির শিকার হলেন, পদ্মশ্রী নিতে চান কিনা এই নিয়ে তাঁর কোনও অডিও-ভিডিও দেখলাম না, জোর করে বঞ্চিত করা হল, তৃণমূলের লোকেরাই এই রাজনীতির করেছে, সিপিএম বুদ্ধবাবু ও জ্যোতি বসুকে বসু বঞ্চিত করেছে। একই রকম ভাবে তৃণমূল করল।"
প্রসঙ্গত সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে ২০২২ সালে ‘পদ্মশ্রী’ দিতে চেয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু পদ্মশ্রী সম্মান প্রত্যাখ্যান করেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দেওয়া বহু পুরস্কারই পেয়েছেন এই বরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোন পুরস্কার পাননি। পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় । পদ্মশ্রী প্রত্যাখান করার কারণ হিসেবে প্রতিক্রিয়ায় সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘এভাবে কেউ পদ্মশ্রী দেয়? এরা জানে না আমি কে? নব্বই বছরে আমায় শেষে পদ্মশ্রী নিতে হবে? আর এই ফোন করে বললেই চলে যাব আমি?’ হতাশা আর অপমানে বেদনাহত বর্ষীয়ান সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় প্রতিক্রিয়ায় আরও বলেন, ‘আমি বলে দিয়েছি, আমার পদ্মশ্রীর কোনো দরকার নেই। শ্রোতারাই আমার সব। ‘আমার শরীরটা বেশ খারাপ। আমাকে পদ্মশ্রী নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, দিল্লি থেকে ফোন করা হয়েছে। আমি বলেছি, না আমি পারব না এই সম্মান নিতে যেতে। তারা কারণ জানতে চায়, আমি বলেছি, আমার মন চাইছে না।