তৃণমূল ভবনের তালা খুলে ফেলল মালিকপক্ষকারা আসল তৃণমূল এবং দলীয় প্রতীক কাদের দখলে থাকবে তা নিয়ে TMC-র দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত চলছেই। এবার সেই সংঘাত আরও প্রকট হয়ে উঠেছে বাইপাসের ধারে থাকা তৃণমূল ভবন ঘিরে। শনিবার তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের সংঘাতের আবহ নতুন মোড় নেয়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির মেট্রোপলিটন এলাকার তৃণমূল ভবনে যে তালা লাগিয়েছিল, তা খুলে দিল বিল্ডিংয়ের মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা। দাবি, বিদ্রোহী শিবিরের কাছ থেকে চাবি সংগ্রহ করার পরই তাঁরা তালা খুলে দেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুগামী এবং বিদ্রোহী-দুই শিবিরের মধ্যে দলীয় কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ভবনের মালিকপক্ষ জানিয়েছে, ভাড়া নেওয়া এই ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় সংস্কারের কাজ করা হবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে ছিল প্রগতি ময়দান থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী।
বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামান দাবি করেন, বিল্ডিং ভাড়ার চুক্তিতে দলের পক্ষ থেকে সই করেছিলেন ফিরহাদ হাকিম। তাঁর দাবি, ফিরহাদ এখনও তাঁদের সঙ্গেই রয়েছেন। তাই তৃতীয় ও চতুর্থ তলার তালা খুলে সেখানে দলের যুব, মহিলা, ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনের দফতর চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
আবার শুক্রবার রাতেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির তৃণমূল ভবনের কার্যত 'দখল' নিয়ে তালা বদলে দেয়। নতুন ব্যানার টাঙিয়ে সেটিকেই দলের কার্যকরী সদর দফতর হিসেবে ঘোষণা করে। ঋতব্রতের সঙ্গে ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা এবং আখরুজ্জামান দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক করেন। তাঁদের দাবি, তাঁরাই "আসল তৃণমূল"।
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ এই ঘটনাকে 'দলীয় কার্যালয় দখল' বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার ও পুলিশের মদতেই এই দখলদারি হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি জানান, বিদ্রোহী শিবিরের ব্যানারে অরূপ রায়কে দলীয় চেয়ারম্যান হিসেবে তুলে ধরা হলেও, কালীঘাট শিবিরের ব্যানারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিই গুরুত্ব পেয়েছে। যদিও বিদ্রোহী শিবির জানিয়েছে, তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সরাবে না এবং তাঁকে এখনও দলের পথপ্রদর্শক হিসেবেই মনে করে।