প্রতীকী ছবিএলপিজি সরবরাহে টান পড়তেই চরম সঙ্কটে পড়েছে কলকাতার মিষ্টির দোকানগুলি। জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও অনিয়মিত সরবরাহের কারণে অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হচ্ছেন মিষ্টির দাম বাড়াতে, আবার কেউ কেউ বিকল্প ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন। ইতিমধ্যেই শহরতলির বহু মিষ্টির দোকান সব মিষ্টির দাম ২ টাকা করে বাড়িয়ে দিয়েছেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আগে যে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার ১,৬৫০ থেকে ১,৭০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তার দাম বেড়ে প্রায় ৫,০০০ টাকায় পৌঁছেছে। তাও আবার নিয়মিত সরবরাহ মিলছে না। ফলে ছোট ও মাঝারি মিষ্টির দোকানগুলির পক্ষে খরচ সামলানো দুষ্কর হয়ে উঠছে।
বেলঘরিয়ার এক মিষ্টির দোকানদার বললেন, 'আমরা আগে যে বাণিজ্যিক এলপিজি ১,৬৫০-১,৭০০ টাকায় কিনতাম, এখন সেটাই প্রায় ৫,০০০ টাকা। তাও আবার নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না। অন্য জ্বালানিতে সরে যাওয়া যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়। তাই বাধ্য হয়েই দাম বাড়াতে হচ্ছে।'
শহরের একাধিক দোকান ইতিমধ্যেই মিষ্টি ও দইয়ের দাম বাড়ানোর ঘোষণা করেছে। কোথাও আবার আগামী মাস থেকে অন্তত ২০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই জ্বালানি-নির্ভর মিষ্টির উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন।
কলকাতার একটি নামী অবাঙালি মিষ্টি প্রতিষ্টানে কর্মী বললেন, 'আমাদের প্রতিদিন ১৭ থেকে ২০টি সিলিন্ডার লাগে। এই পরিস্থিতিতে কালোবাজার থেকে গ্যাস কেনা সম্ভব নয়। তাই আমরা বিকল্প হিসেবে ইন্ডাকশন ব্যবস্থায় যেতে বাধ্য হয়েছি। প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছি। ফলে অন্তত ২০ শতাংশ দাম বাড়ানো ছাড়া আর উপায় নেই।'
এই পরিস্থিতিতে কিছু ব্যবসায়ী ডিজেল চালিত চুল্লির দিকেও ঝুঁকছেন। যদিও সেই পথও খরচসাপেক্ষ, তবুও এলপিজির অনিশ্চয়তা কাটাতে অনেকেই এই বিকল্প বেছে নিচ্ছেন।
তবে সামনে পয়লা বৈশাখ থাকায় এখনই দাম বাড়াতে চাইছেন না অনেক দোকান মালিক। কারণ এই সময়েই মিষ্টির চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। ক্রেতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে কীভাবে উৎপাদন বজায় রাখা যায়, সেই পথ খুঁজছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, বাংলার মিষ্টি শিল্প একটি বিশাল ক্ষেত্র, প্রায় ৬,৫০০ কোটি টাকার এই শিল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষের জীবিকা নির্ভর করে। ফলে এলপিজি সঙ্কট দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব শুধু ব্যবসাতেই নয়, কর্মসংস্থানেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।