Madan Mitra: 'ED-র থেকে AB বেশি ভয়ঙ্কর', অভিষেককে একের পর এক শেল মদনের

মমতার দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন, রাজনৈতিক যাত্রা এবং বহু উত্থান-পতনের সঙ্গী মদনও শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়লেন। অভিষেকের নাম করে বড় তথ্য ফাঁস করলেন। বললেন, 'ED-র চেয়ে AB বেশি ভয়ঙ্কর।'

Advertisement
'ED-র থেকে AB বেশি ভয়ঙ্কর', অভিষেককে একের পর এক শেল মদনেরমদন মিত্র
হাইলাইটস
  • দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন, রাজনৈতিক যাত্রার সঙ্গী
  • সেই মদনও শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়লেন
  • অভিষেকের নাম করে বড় তথ্য ফাঁস করলেন

মমতাপন্থী তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে এবার ঋতব্রত শিবিরে মদন মিত্র। মমতার দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন, রাজনৈতিক যাত্রা এবং বহু উত্থান-পতনের সঙ্গী মদনও শেষ পর্যন্ত তাঁর হাত ছাড়লেন কেন? কামারহাটির বিধায়ক নিজেই জানিয়েছেন আসল কারণটা। 

বুধবার দুপুরে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে যান কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক। চোখে কালো রোদচশমা, সাদা পাঞ্জাবি গায়ে তাঁর পাশে বসে ঘোষণা করেন, 'বাবার দেওয়া মদন মিত্র নাম আর কামারহাটির বিধায়ক পদ বাদ দিয়ে তৃণমূলের সমস্ত পদ ছেড়ে দিলাম।' একাধিকবার দলের অন্দরে তিনি 'সাইড হয়ে গিয়েছেন' বলে চর্চা ওঠা সত্ত্বেও মদন দিদির সঙ্গে ছাড়েননি কখনও। দুর্দিনে যখন একে একে নিভিছে দেউলটি, তখন পুরনো সাথী মদনের উপর ভরসা রেখেছিলেন নেত্রী। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক, ওয়ার্কিং কমিটি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে মদনকে নিয়ে আসেন মমতা। বোঝা যায়, ফিরহাদ, অরূপ, কাকলীর মতো আস্থাভাজনরা যখন একে একে তাঁর সঙ্গ ছাড়ছেন তখন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী মদনের উপর আস্থা অটুট ছিল মমতার। তবে বাস্তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভিতরে ভিতরে অন্যদিকেই মোড় নিচ্ছিল। যে মদন মিত্র সোমবার পর্যন্তও কালীঘাটে মমতার বাসভবনে গিয়েছেন, সেই ব্যক্তিই বুধবার নিজের বাড়ি থেকে সোজা ড্রাইভ করে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরে এসে ঢোকেন। 

কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়লেন?
মদন বলেন, 'যে ভাবে বিধানসভার অন্দরে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস শক্তিশালী হয়ে উঠছে, সেখানে দাঁড়িয়ে এই রাস্তা ছাড়া কোনও উপায় নেই।' এরপরই মদন বলেন, 'মমতা আমাদের সকলের নেত্রী ছিলেন। ওঁর প্রতি এখনও সম্মান আছে। ওঁর ছবি আমার হৃদয়ে আছে। কিন্তু আমরা অভিষেককে বলেছিলাম, কয়েকদিনের জন্য দল ছেড়ে দিন। ৬ মাস বা ১ বছর দূরে চলে যান। আমরা দলটাকে আবার তৈরি করি, তারপর আপনি এসে নিজের পদ নিয়ে নেবেন। তবে উনি রাজি হননি। দল ভেঙে যাচ্ছে, সকলকে মরতে বসেছে অথচ অভিষেককে বাঁচানোর চক্করে সবাইকে মরতে দেওয়া হচ্ছে। দল তো সবার, কারও একার তো নয়। খালি অভিষেকের জন্য দলের সর্বনাশ হল। একটা মানুষের জন্য কি গোটা জাতকে বিসর্জন দেব নাকি? দলের সেনাপতি যদি দলকে ঠিকমতো চালাতে না পারে, আজ গোটা দল ভয়ে কাঁপছে। চলুন তো আমার সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে ধর্মতলায়, দেখি আমায় কে ডিম মারে।'

Advertisement

অভিষেককে তোপ

যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন তাঁর কারও প্রতি কোনও ক্ষোভ কিংবা অভিযোগ নেই। তবে মদনের বক্তব্য, 'ওই অভিষেককে দিয়ে BJP-কে হারানো যাবে না। প্লেন থেকে নেমে, হিটলারি কায়দায়, হুইসেল বাজিয়ে হবে না। মানুষের কাছে যেতে হবে। ED-র চেয়ে AB বেশি ভয়ঙ্কর।'

ED ডাকতেই শিবির বদল?

তবে কি কেন্দ্রীয় এজেন্সি পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকার কারণেই কি তাঁর শিবির বদল? মদন মিত্র বলেন, 'রাজনৈতিক জীবন আর ব্যক্তিগত জীবন আলাদা। আমার পরিবারকে ডেকেছে, তাঁরা অবশ্যই হাজিরা দেবেন, সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। এর সঙ্গে আজকের যোগদানের কোনও সম্পর্ক নেই। প্রমাণ করুক মদন মিত্র টাকা নিয়ে চাকরি দিয়েছে, পারলে গণভোট করুক।'

সবশেষে মদন বলেন, 'তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই রইলাম। কেবল এই ঘর থেকে ওই ঘরে গেলাম। ওই ঘরে হয়তো একটা সুখের পালঙ্ক ছিল। এই ঘরে হয়তো একটা খাটিয়া রয়েছে। আমি খাটিয়ার দিকটাই বেছে নিলাম। দীর্ঘদিন মমতা আমাদের পাশে থেকেছেন, আমরাও কমবেশি তাঁর পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।'

 

POST A COMMENT
Advertisement