
কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র - পিটিআই ফাইল ছবিমদন মিত্র কি রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চলেছেন? তাঁর বক্তব্যে সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম দিন থেকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম সঙ্গী মদন মিত্রের গলায় এখন রাজনীতি নিয়ে তীব্র ঘৃণা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম সঙ্গী
২০২৬ সালের ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে মদন মিত্র কামারহাটি বিধানসভা কেন্দ্রে জিতে বিধায়ক হয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের একেবারে জন্মলগ্ন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন। তার আগে কংগ্রেস নেতা ছিলেন। সম্প্রতি তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ত্যাগ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের শিবিরে গিয়ে যোগ দেন। ভোটের রেজাল্টের পরে অনেক দিন যদিও তাঁকে মমতার পাশেই দেখা গিয়েছে। কিন্তু গত ১৫ জুলাই হঠাত্ তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের তৃণমূল কংগ্রেসের সব পদ থেকে ইস্তফা দেন। তার পরেই তাঁকে দেখা যায়, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বসে মিটিং করছেন।

রাজনীতি থেকে অবসরের ইঙ্গিত
এমনকী কয়েকদিন আগে নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জও করেন তিনি। এহেন মদনের হঠাত্ কী হল? রাজনীতির প্রতি তীব্র ঘৃণা ব্যক্ত করে মদন বলছেন, 'আমি নিজে ব্যক্তিগত ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছি, আস্তে আস্তে কতটা রাজনীতি থেকে সরে যাওয়া যায়।'
রাজনীতির উপরে তীব্র ঘৃণা
কারণ হিসেবে তিনি নিম্নমানের রাজনীতিকেই দুষছেন। তাঁর মন্তব্য, 'যত দিন যাচ্ছে, রাজনীতির উপরে আমার ঘৃণা ছাড়া আর কিছু বাড়ছে না। একেবারে আমার মনের মধ্যে প্রতি মুহূর্তে বেরিয়ে আসছে, সবাই না-হলেও, রাজনীতি এখন স্কাউন্ড্রেলদের (বখাটে) শেষ রিসর্টে পরিণত হচ্ছে। স্কাউন্ড্রেলদের আস্তাকুঁড় হয়ে গিয়েছে।'
কলকাতা মেট্রোপলিটনে তৃণমূল ভবনে যে গণেশ পুজো হয়, তাঁর উদ্যোক্তা মূলত মদন মিত্রই। সপ্তাহ দুয়েক আগেই সেই পুজোর দখল নিতে দেখা যায় ঋতব্রত শিবিরের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে। এমনকী ২১ জুলাই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের মঞ্চেই দেখা গিয়েছে মদনকে। যে মদনকে রাজনৈতিক জীবনের সিংহভাগ সময়েই দেখা যেত ২১ জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শহিদ দিবসের মঞ্চে।