Mamata Banerjee Jaya Bachchan: মমতা-জয়া বচ্চনের সাক্ষাৎ নিয়ে মুখ খুললেন মহুয়া মৈত্র, কটাক্ষ ঋতব্রতদেরও

জয়া বচ্চন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎ দুই নেত্রীর মধ্যে সৌহার্দ্য, ভালোবাসা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্কের ভিত্তিতে বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁদের একসঙ্গে দেখা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। মহুয়া বলেন, "জয়া বচ্চন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ। তৃণমূল কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ে দুই দল একসঙ্গে থেকেছে।

Advertisement
মমতা-জয়া বচ্চনের সাক্ষাৎ নিয়ে মুখ খুললেন মহুয়া মৈত্র, কটাক্ষ ঋতব্রতদেরওMamata Banerjee Jaya Bachchan: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে জয়া বচ্চন

Mamata Banerjee Jaya Bachchan Mahua Moitra: কলকাতায় এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ জয়া বচ্চন। এই সাক্ষাৎকে ঘিরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি জানান, অনেক দিন ধরেই কলকাতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করার কথা বলছিলেন। অবশেষে সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। দুই নেত্রীর মধ্যে সৌহার্দ্য, ভালোবাসা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক দেখে খুব ভালো লেগেছে। তাঁদের একসঙ্গে দেখা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। মহুয়া বলেন, "জয়া বচ্চন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ। তৃণমূল কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ে দুই দল একসঙ্গে থেকেছে। তাই তাঁদের এই সাক্ষাৎ দুই বন্ধু এবং দুই সহযোদ্ধার মিলন বলেই তিনি মনে করেন।"

ঋতব্রত গোষ্ঠীর নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে মহুয়া মৈত্র বলেন, আসল তৃণমূল কে, সেটা কাউকে গিয়ে প্রমাণ করার দরকার নেই। যিনি মনে করেন কোথাও গিয়ে নিজেকে আসল তৃণমূল বলে দাবি করতে হবে, তিনি তৃণমূলের আদর্শই বোঝেন না। তাঁর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তৃণমূল, তৃণমূলই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের প্রতীকও তাঁর নিজের হাতে আঁকা।

জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করে মহুয়া বলেন, তিনি প্রথমে বাংলার ভোট গায়েব করেছেন। তারপর নির্বাচনের সময় গণতন্ত্র গায়েব করেছেন। এরপর রামমন্দির ট্রাস্টের বোর্ডে থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির ঘটনাও গায়েব করেছেন। এবার রিতব্রত তাঁর কাছে গিয়েছেন কীভাবে তৃণমূলের প্রতীক উধাও করা যায় তা শিখতে। তাই একজন বোকা গিয়েছেন একজন উধাও করার ওস্তাদের কাছে। বাংলার মানুষ সবই বুঝতে পারছেন।

তিনি আরও বলেন, যারা নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করছেন, তারা এখনও তৃণমূল কংগ্রেস কী এবং তার আদর্শ কী, সেটাই বুঝতে পারেননি। নির্বাচন কমিশনের কাছে যদি কারও যেতে হয়, তাহলে তাদেরই যেতে হবে। কারণ তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের পরিচয় নিয়ে কোনও সংশয়ে নেই। মহুয়া মৈত্র বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কখনও দাঁড়িয়ে বলতে হবে না যে তিনিই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা। বাংলার মানুষ, দেশের মানুষ এবং বিশ্বের মানুষ জানেন এই দলের জন্ম কীভাবে হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে কোনও শংসাপত্র নিয়ে নিজের পরিচয় প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই। তৃণমূল কর্মী কিংবা তৃণমূলকে ভোট দেওয়া দুই কোটি ষাট লক্ষ মানুষেরও কোনও প্রমাণ দেওয়ার দরকার নেই। যারা দাবি করছে তারাই নিজেদের প্রমাণ করার চেষ্টা করছে।

Advertisement

বিরোধী শিবিরকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, তাঁদের এক সাংসদকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি নিজের দলের নামই ঠিকমতো বলতে পারেননি। কখনও বলছেন তাঁরা সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া, আবার কখনও বলছেন তাঁরাই আসল তৃণমূল। আগে বলতেন দিদির সঙ্গেই আছেন, এখন বলছেন তাঁরাই প্রকৃত তৃণমূল। এসব দাবি করে কোনও লাভ হবে না। বাংলার মানুষ জানেন আসল তৃণমূল কংগ্রেস কোনটি।

মহুয়া বলেন, যে নারী সিপিএম আমলে কংগ্রেস ছেড়ে একা নতুন লড়াই শুরু করেছিলেন, নিজের হাতে দলের প্রতীক এঁকেছিলেন, নয় জন সাংসদ থেকে এক জনে নেমে আবার সেই দলকে গড়ে তুলে টানা তিন বার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, তাঁর দলের প্রতীক নিয়ে কোনও উদ্বেগ থাকার কারণ নেই। প্রয়োজন হলে তিনি আবার নতুন প্রতীক আঁকতে পারবেন। কিন্তু সেই ক্ষমতা অন্যদের নেই।

রাজ্যে গুণ্ডা আইন কার্যকর হওয়ার পরদিন কালীগঞ্জের ঘটনার প্রসঙ্গও তোলেন মহুয়া মৈত্র। তিনি বলেন, সবাই দেখেছেন কীভাবে দলীয় পতাকা হাতে এবং জয় শ্রীরাম স্লোগান তুলে একদল মানুষ ভিড় তৈরি করে নেমেছিল। বাংলার মানুষ সবকিছুই দেখছেন এবং বিচারও করবেন।

 

POST A COMMENT
Advertisement