মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়Mamata Abhishek Gyanesh Kumar: লোকসভা ভোটের মুখে বঙ্গ রাজনীতিতে পারদ এখন সপ্তমে। একদিকে যখন দিল্লির নির্বাচন কমিশনার রাজ্যের পুলিশ কর্তাদের কড়া বার্তা দিচ্ছেন, ঠিক তখনই ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে তার পালটা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) কে দেওয়া নির্বাচন কমিশনের হুঁশিয়ারির প্রসঙ্গ টেনে মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। অফিসারদের ভয় দেখাচ্ছেন যারা, তারা মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন। মনে রাখবেন, ইডি-সিবিআই দেখালে ছাব্বিশের ভোটে হবে বাইবাই।’ এদিন মুখ্যমন্ত্রী আক্রমণাত্মক মেজাজে বলেন, ‘যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন, রেকর্ড কিন্তু থাকবে। বিজেপি চলে গেলে আমিই আপনাকে প্রথম ট্রান্সফার করব।’
ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এদিন কলকাতায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সেখানে তিনি সাফ জানান, ভোটের পরেও কোনও অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর কিছুক্ষণ পরেই ধর্মতলায় গর্জে ওঠেন তৃণমূল নেত্রী। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে ‘স্পাইডারম্যান’ ও ‘রাজনৈতিক হ্যাংলা’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘সব ভয় দেখিয়ে দখল করলেও বাংলা দখল করতে পারছে না। তাই সিবিআই আর আর্মি হেডকোয়ার্টারকে পার্টি অফিস বানানো হয়েছে। বাচ্চাদের মতো ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছেন।’ এদিন জ্ঞানেশ কুমারকে ভ্যানিশ কুমার বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। এনআরসি ও ভোটার তালিকা নিয়ে সরব হয়ে নেত্রীর প্রশ্ন, ‘কেন বেছে বেছে সংখ্যালঘু ও বাঙালিদের নাম বাদ যাচ্ছে?' এমনকী হিন্দুদের নামও বাদ যাচ্ছে বলে তাঁর দাবি। যাঁরা এখানে থাকে, তারা প্রত্যেকেই ভারতীয়।
এদিকে, ধর্মতলার সভা থেকে বিস্ফোরক দাবি করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করেন, ‘কলকাতার যে হোটেলে অমিত শাহ থাকেন, সেই হোটেলের সেই ঘরেই বর্তমানে রয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। আমার কাছে প্রমাণ আছে।’ অভিষেক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, এর আগে বহু চ্যালেঞ্জ করলেও বিজেপি বা অমিত শাহ তার উত্তর দিতে পারেননি।
নেত্রীর সাফ কথা, আগেরবার বিজেপি একশোর গণ্ডি পার করতে পারেনি, এবার ‘দিল্লি তে পগারপার’ করে দেওয়া হবে। ভোটারদের প্রভাবিত করতে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও এদিন অভিযোগ তোলেন তিনি। সব মিলিয়ে ভোটের দামামা বাজার আগেই কলকাতার রাজপথ থেকে দিল্লির বিরুদ্ধে যুদ্ধের দামাম বাজিয়ে দিল ঘাসফুল শিবির।