I-PAC-এ ED হানার খবর কী ভাবে পেলেন মমতা?আইপ্যাকে ED হানা নিয়ে শোরগোল রাজ্য রাজনীতিতে। আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি তল্লাশির খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন হাজরা মোড়ে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার জানালেন, গতকাল কী হচ্ছিল তা সকালবেলা তিনি জানতেনই না।
এদিন মমতা বলেন, "আমি জানতামও না কিছু। সকালে কিছু একটা হচ্ছে বলে আমি খবর পেয়েছিলাম। কিন্তু আমি বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাইনি, কারও কাছে জানতে চাইনি। কারণ, মাথায় আঘাত করার পর থেকে আমি ভোর ৪টের আগে কোনওদিনই ঘুমাতে পারি না। আমাকে তাই ভোরের দিকেই ২-৩ ঘণ্টা ঘুমিয়ে নিতে হয়। অভিষেক আমাকে মেসেজ করেছিল। কিন্তু আমি সেটা দেখতে পাইনি।"
এরপর মমতা বলেন, "আমি গতকাল যা করেছি তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান হিসেবে করেছি। যা করেছি, তাতে কোনও অন্যায় করেনি...। BLO-2 দের ঠিকানা আমাদের অনুমোদন দেওয়া I-PAC-এর অফিস থেকে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। আমি খবরটা শুনে প্রথমে ভেবেছিলাম কথা বলতে এসেছে। পরে প্রতীককে ফোন করে দেখলাম ফোন বেজে যাচ্ছে...। এরপরই আমার সন্দেহ হয়...দলের সব নিয়ে পালাচ্ছে না তো? "
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে ইডি-র তল্লাশির খবর আসতেই সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রতীকের বাড়িতে ঢোকেন। কিছুক্ষণ পর সবুজ রঙের একটি ফাইল হাতে বেরিয়ে আসেন মমতা। তখনই তিনি অভিযোগ করেন, ইডি তাঁর দলের আইটি সেক্টরের অফিস ও ইনচার্জের বাড়িতে হানা দিয়েছে এবং দলের হার্ড ডিস্ক, ফোন, প্রার্থিতালিকা ও পার্টির স্ট্র্যাটেজি বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করছে।
প্রতীকের বাড়ির পর সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরেও পৌঁছোন মুখ্যমন্ত্রী। দফতর থেকে নীচে নামার সময় পুলিশকর্মীদের হাতে ফাইলের গোছা দেখা যায়। সেগুলি মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ির পিছনের আসনে তোলা হয়। রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারও তখন সেক্টর ফাইভে পৌঁছে যান। সেখানে তিনি ED আধিকারিকদের হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।