মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দেবাংশু ভট্টাচার্য সদ্য প্রাক্তন হয়েছেন। রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও মনে করেন, তিনি বা তাঁদের দল হারেনি, হারানো হয়েছে। আর তা থেকে শিক্ষা নিয়ে দলের কর্মীদের লড়াইয়ের বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
কয়েকদিন আগেই দলের বিজয়ী বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তিনি বৈঠকে বসেন তৃণমূলের ডিজিটাল যোদ্ধাদের সঙ্গে। তৃণমূলের আইটি সেলের ইনচার্জ ছিলেন দেবাংশু ভট্টাচার্য। পুনর্গঠনের পরে আর কাউকে ইনচার্জ রাখা হয়নি। ৬ জনের একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। সেই কমিটিতে রয়েছেন দেবাংশু ভট্টাচার্য, উপাসনা চৌধুরী ও তথাগত ভট্টাচার্যের মতো নেতা-নেত্রীরা।
সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান তৃণমূল নেত্রী। সাফ জানান, যাঁরা দলের প্রতি সৎ তাঁদেরই শুধুমাত্র জায়গা থাকবে। কঠোর পরিশ্রমীরা আলাদা গুরুত্ব পাবে।
এদিনের বৈঠকে হাজির ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনিও নেত্রীর সুরে সুর মেলান। জানান, দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে হবে। মানুষের হয়ে কাজ করতে হবে ও জনসংযোগ বাড়ানোর কাজ চলবে। দলকে চাঙ্গা করতে ভোকাল টনিকও দেন দুজনেই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিশেষ করে ইন্ডিয়া জোট নিয়েও কথা বলেন। জানান, রাজ্যে কাজের পাশাপাশি জোটের জন্যও দল লড়বে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্ব দেবেন।
এদিকে আগামীকাল কলকাতার বাসভবনে দলের সব সাংসদকে জরুরি বৈঠকে ডেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবারও তিনি দলের সব প্রার্থীদের সঙ্গে বসবেন বলে খবর। রাজনৈতিক মহলের দাবি, দলকে একজোট রাখতে চাইছেন মমতা। সেই কারণে বৈঠক করছেন ঘন ঘন।
প্রসঙ্গত, তৃণমূলের ভরাডুবির পর একের পর এক নেতা বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন। অনেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও আই প্যাকের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। তার জেরে অস্বস্তিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতিতেই একের পর এক বৈঠক করছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।