Mamata Banerjee: কুণালের পাশে মমতা, এত করেও 'দিদি'র মন পেলেন না কল্যাণ!

বুধবার লোকসভার বাদল অধিবেশনে সাসপেন্ড হন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, রাজ্য বিধানসভায় একদিনের জন্য সাসপেন্ড হন কুণাল। অথচ মমতা কুণালকেই বেশি গুরুত্ব দিলেন।

Advertisement
Mamata Banerjee: কুণালের পাশে মমতা, এত করেও 'দিদি'র মন পেলেন না কল্যাণ! মমতার লেখায় কুণাল, ব্রাত্য কল্যাণ
হাইলাইটস
  • কুণালের সাসপেনশনের প্রতিবাদে মমতা।
  • কল্যাণের হয়ে কোনও কথা বললেন না।

এ যেন এক যাত্রায় পৃথক ফল! কুণাল ঘোষের পাশে দাঁড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফেসবুকে পোস্ট করলেন দীর্ঘ লেখা। কিন্তু, আশ্চর্যজনকভাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে থাকল নীরবতাই! অথচ রাজনৈতিক অভিঘাত বিবেচনা করলে কুণালের থেকেও কল্যাণের সাসপেনশন আরও বেশি গুরুত্বের। প্রশ্ন উঠছে, ২১ জুলাই মঞ্চে বাদানুবাদের পর কল্যাণকে কি ব্রাত্যই করে দিলেন মমতা? 

বুধবার রাজ্য বিধানসভায় আখরুজ্জামানের সামনে গিয়ে কুণাল ঘোষ জানতে চান, কেন তাঁকে বক্তা তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হল? সেই নিয়েই দু'পক্ষের কথা কাটাকাটি। উত্তাল বিধানসভা। স্পিকার রথীন্দ্র বসুর নির্দেশে কুণালকে বের করে দেন মার্শালরা। একদিনের জন্য সাসপেন্ড হন কুণাল। 

এই ঘটনার প্রতিবাদে ফেসবুকে মমতা লেখেন,'আজ বিধানসভার মধ্যে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক কুণাল ঘোষের কন্ঠরোধের চেষ্টায় যে বর্বরোচিত আচরণ করা হল, তার তীব্র নিন্দা করছি। একজন বিধায়কের কথা বন্ধ করতে তাকে শারীরিক নিগ্রহ করা হল, মার্শাল দিয়ে বার করে সাসপেন্ড করা হল। নিজেদের বি-টিমকে সামনে রেখে এই চক্রান্ত সরকার পক্ষেরই। আমাদের বিধায়করা এর প্রতিবাদে ওয়াকআউট করেন। বিধানসভায় কুণালকে বলতে দেওয়া হচ্ছে না। গুন্ডাদমন বিল থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্র বাজেট, আমাদের দল এতে বক্তা হিসেবে কুণালের নাম দিয়েছিল। কিন্তু স্পিকারের অনৈতিকভাবে নিয়োগ করা বিরোধী মুখ্যসচেতক কুণালের নাম বাদ দিচ্ছে। সরকারপক্ষ চাইছে না গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রকৃত বিরোধী কন্ঠ বলুক। ওরা নিজেদের বি-টিম দিয়ে সাজানো বিরোধী অংশ থেকে নির্বিষ ভাষণ চায়। আজ কুণাল পুলিশবাজেটে চলতি পুলিশরাজ ও সন্ত্রাস নিয়ে বলতে তৈরি ছিল। তাই বিজেপি ও বিজেপির দালালদের চক্রান্তে ওর নাম কাটা হল। যে নাম কেটেছে, সে নিজেই যখন সরকারকে খুশি করা ভাষণ দিতে যায়, সেই বিতর্কিত ও সরকারপোষিত বিরোধী মুখ্যসচেতককে কুণাল তখন প্রতিবাদ করে বলে," আমাকে বলতে দেওয়া হচ্ছে না কেন?" তারপরই কুণালের উপর দমনপীড়ন চলে। আমরা এর নিন্দা করছি। বিধানসভার মধ্যে বিধায়ক যদি আক্রান্ত হয়, তাহলে গোটা বাংলায় কীভাবে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হচ্ছে, সেটা স্পষ্ট। এসব করে তৃণমূল কংগ্রেসকে থামিয়ে রাখা যাবে না'। (বাক্যগঠন ও বানান অসম্পাদিত)

Advertisement

প্রণিধানযোগ্য, বুধবারই লোকসভা থেকে সাসপেন্ড হয়েছেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কল্যাণের জন্য এক লাইনও লেখেননি মমতা। অথচ রাজনীতির ধারেভারে কল্যাণের সাসপেনশন অনেক বেশি গুরুত্বের। তাঁকে গোটা বাদল অধিবেশনেই থাকতে হবে অধিবেশনকক্ষের বাইরে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তৃণমূলের বিদ্রোহী, অধুনা এনসিপিআইয়ের মহিলা  সাংসদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করেছেন। 

প্রশ্ন উঠছে, কল্যাণের থেকে কি দূরত্ব বাড়াচ্ছেন মমতা? অনেকেই বলছেন, ক্রমাগত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে চলেছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। ২১ জুলাইয়ে মঞ্চে বাদানুবাদের ঘটনার পরও অভিষেককে নিশানা করেছেন। প্রশ্ন তুলেছেন দলে অভিষেকের ভূমিকা নিয়েও।  
 

POST A COMMENT
Advertisement