'বাচ্চাদের ডিম BJP কর্মীরা পাচ্ছেন,' মিড ডে মিল নিয়ে নিশানা মমতার

কলকাতার স্কুলগুলিতে এবার মিড-ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইসকনকে ৷ বাজেটে এমনটাই ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এই নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল বিতর্ক চলছে। প্রশ্ন উঠছে, সরকারি স্কুলের মিড-ডে মিলে কি এবার বাচ্চাদের পাতে ডিম-মাছের বদলে শুধুই মিলবে রাজমা আর ডাল। রান্নার দায়িত্ব কি তবে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের হাত থেকে কেড়ে তুলে দেওয়া হবে ইসকনের মতো কোনও ধর্মীয় সংস্থার হাতে। মিড-ডে মিলে ডিম বন্ধ নিয়ে এর আগে একাধিকবার রাজ্যের বিজেপি সরকারকে নিশানা করেছে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস। এবার ডিম প্রসঙ্গে মুখ খুললেন স্বয়ং নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

Advertisement
'বাচ্চাদের ডিম BJP কর্মীরা পাচ্ছেন,' মিড ডে মিল নিয়ে নিশানা মমতারবিজেপিকে তীব্র তোপ মমতার

কলকাতার স্কুলগুলিতে এবার মিড-ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে  ইসকনকে ৷ বাজেটে এমনটাই ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এই নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল বিতর্ক চলছে। প্রশ্ন উঠছে,  সরকারি স্কুলের মিড-ডে মিলে কি এবার বাচ্চাদের পাতে ডিম-মাছের বদলে শুধুই মিলবে রাজমা আর ডাল। রান্নার দায়িত্ব কি তবে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের হাত থেকে কেড়ে তুলে দেওয়া হবে ইসকনের  মতো কোনও ধর্মীয় সংস্থার হাতে। মিড-ডে মিলে ডিম বন্ধ নিয়ে এর আগে একাধিকবার রাজ্যের বিজেপি সরকারকে নিশানা করেছে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস। এবার ডিম প্রসঙ্গে মুখ খুললেন স্বয়ং নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে বুধবার মিছিল করে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস শিবির। এই নিয়ে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে  তুমুল বাগবিতণ্ডা হয় দুই শিবিরের। বচসা-ধস্তাধস্তি-হাতাহাতি চলতে থাকে দু’পক্ষের মধ্যে। এই নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে এদিন মুখ খোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ তোলেন  তৃণমূলকে মিছিল করতে বাধা দেওয়ার। উত্তরপ্রদেশের থেকেও রাজ্যের খারাপ অবস্থা বলে তোপ দাগেন মমতা। গোটা ঘটনায় পুলিশকে কাঠগড়ায় তুলেছেন কালীঘট তৃণমূলের নেত্রী। শান্তিপূর্ণ মিছিল হলেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন মমতা। আর এই প্রসঙ্গেই মিড ডে মিলের কথা তোলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, মিড ডে মিলে ছাত্রদের  ডিম বন্ধ করেছে। বিজেপি কর্মীদের সেই ডিম দেওয়া হচ্ছে। অপব্যবহার চলছে। রাম মন্দির ট্রাস্টকে গিয়ে সেই ডিম মারুক। প্রসঙ্গত, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর 'ডিম থেরাপি' চলছে। তা নিয়েই কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

প্রসঙ্গত, এর আগেও  ডিম ইস্যুতে গর্জে উঠেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিতে নিশানা করে বলেছিলেন, বাচ্চারা স্কুলে মিড-ডে মিলের ডিম পাচ্ছে না! আর আপনারা হাট্টিমাটিম করে বেড়াচ্ছেন! রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে কালীঘাট তৃণমূলের একনিষ্ঠ নেতা-কর্মীদের ‘টার্গেট’ করে যে ডিম থেরাপি  শুরু করেছে বিজেপি, গত শনিবার ফেসবুক লাইভে জনসাধারণের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে  সেই  সংস্কৃতির তীব্র নিন্দা করেন কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী। একইসঙ্গে, মিড-ডে-মিলের দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দিয়ে শিশুদের পাত থেকে ডিম ‘হাপিস’ করে দেওয়া নিয়েও বিজেপিকে একহাত নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মিড-ডে-মিলের কাজ হারানো লক্ষ লক্ষ কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে তৃণমূলনেত্রীর তোপ, মিড-ডে মিলে যাঁরা রান্না করতেন, যাঁরা হেলপার হিসেবে কাজ করতেন— আজকে তাঁরা হাহাকার করছেন। কাজ দেওয়ার ক্ষমতা নেই, কিল মারার গোসাঁই! লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন-জীবিকা আপনারা কেড়ে নিয়েছেন! বগটুইয়ের একটি পরিবার আমার কাছে এসেছিল। আমি ৪ বছর আগে চাকরি দিয়েছিলাম তাঁদের, পার্মানেন্ট চাকরি। সেই চাকরিও আপনারা কেড়ে নিয়েছেন! এত প্রতিহিংসা কেন?

Advertisement

এদিকে কলকাতা পুর এলাকার স্কুলে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে পিটিশন দাখিল হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। রাজ্যের বক্তব্য নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই মামলায় বুধবার রাজ্যের কাছে গোটা বিষয় জানতে চেয়ে হলফনামা চেয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। মামলাকারীর তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায় আদালতে সওয়াল করেন, কলকাতার ১ হাজার ৮০০ স্কুলে আপাতত ইসকন রান্না করা খাবার দেবে বলে রাজ্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এলাকার পিছিয়ে পড়া মহিলাদের কর্মসংস্থানের জন্য তাঁদের মাধ্যমে গড়া স্বনির্ভর গোষ্ঠীর এই রান্না করার কথা। স্কুল চত্বরে হয় সেল্ফ হেল্প গ্রুপ বা স্কুলের নেতৃত্বে ওই রান্না হওয়ার কথা। তা না হলে ২৫ লক্ষ মহিলা কর্মহারা হবেন। এ দিন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র আদালতে বলেন, ‘গোটা ব্যাপারটাই প্রস্তাব। আমাদের একটা প্রস্তাব এসেছে, সেই পর্যন্ত। আগাম মামলা দায়ের হয়েছে।’ যা শুনে বিচারপতি বলেন, ‘আপনার যুক্তি মেনে নিয়েও বলছি, মামলাকারী একটা ভিত্তি থেকে মামলা করেছেন। আগামিদিনে এই নিয়ে একটা বিজ্ঞপ্তি জারি করল সরকার আর এক ঝটকায় কয়েক লক্ষ মহিলার কাজ চলে গেল, তখন কী হবে?’ এজির বক্তব্য শুনে মামলাকারীর আইনজীবী বলেন, ‘এজি তা হলে বলুন যে সে দিন সিএম ফ্লোরে এমন কিছু বলেননি।’ বিচারপতি জানান, রাজ্যকে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে, বিষয়টি আসলে কী।' চার সপ্তাহ পরে ফের মামলার শুনানি।
 

POST A COMMENT
Advertisement