ভরাডুবির পর অবশেষে রাস্তায় মমতাক্ষমতাসীন থেকে বিরোধী দল। গত ৪ মে আচমকাই জোর ধাক্কা খেয়েছে ১৫ বছর ধরে বাংলার মসনদে থাকা তৃণমূল কংগ্রেস। একেবারে বিপুল পরিমাণে আসনে বিজেপির কাছে ধরাশয়ী হয়েছে ঘাসফুল শিবির। তবে রাজ্যে এখনও প্রধান বিরোধী দল তৃণমূলই। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, ক্ষমতা হারাতেই কার্যত যেন চুপসে গিয়েছিল গত ১৫ বছরের শাসক দল। ফলে দলের নীচুতলার কর্মীদের মনে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল, কেন দলীয় কর্মীদের পাশে নেই শীর্ষ নেতৃত্ব? অবশেষে সেই প্রশ্ন উড়িয়ে দিতে চলেছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়।
সূত্রের দাবি, আগামী ২ জুন অবস্থান বিক্ষোভে বসছে প্রাক্তন শাসক শিবির। ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে আগামী ২ জুন কলকাতার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে একদিনের অবস্থান ধরনায় বসছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে এই ধরনা অনুমতির আবেদন করেছে TMC। তবে সূত্রের খবর, এখনও পুলিশের তরফে গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়নি।
একটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ২ জুন সকাল ১০টা থেকে এই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু হবে। প্রথমে মঞ্চে থাকবে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। পরে দুপুরের দিকে মঞ্চে হাজির হবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়।
তবে এই অনুষ্ঠানের অনুমতি ঘিরে ধন্দ তৈরি হয়েছে। কারণ ক্ষমতা হারানোর পর রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে কলকাতার তিনটি পৃথক স্থানে অনুষ্ঠান করার আবেদন করেছিল TMC। কলকাতা পুলিশের তরফে সেই আবেদন খারিজ করা হয়েছিল। এবার ধরনার অনুমতি দেওয়া হয় কিনা, সেদিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
অন্যদিকে, ২ জুন থেকে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বীরভূমের নানুরে গিয়ে ভোট পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা করবেন TMC সাংসদ। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি ও আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন তিনি।