মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়একদিকে আজ ভরা ব্রিগেডে শপথ নিলেন বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে কালীঘাটের বাড়ির সামনে আজ গুটি কয়েক নেতাদের নিয়ে রবীন্দ্র জয়ন্তী পালন করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি বাম, অতিবাম, কংগ্রেস থেকে শুরু করে বিজেপি বিরোধী সব দলকে একসঙ্গে জোট বাঁধার আহ্বান জানালেন।
এ দিন তিনি বলেন, 'আমরা চাই একটা যৌথ প্ল্যাটফর্ম তৈরি হোক। যেখানে সব পলিটিক্যাল পার্টি, যাঁরা বিজেপির বিরোধী, তাঁরা এক জায়গায় আসুক। এমনকী বাম দলদের নিয়েও চলতে পারি। আমার কোনও ইগো নেই। এখন যা অবস্থা বাম, অতিবাম এবং জাতীয় দল সবাইকে একসঙ্গে লড়তে হবে। তেমনই কেউ বাংলাতে চাইলেও আসুন জোট বাঁধি। কোনও রাজনৈতিক দল কথা বলতে চাইলে ৪টে থেকে ৬টা পর্যন্ত অ্যাভেলেবল রয়েছি।' আর মমতার এই তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা নিয়েই বর্তমানে আলোড়িত বাংলার রাজনৈতিক মহল।
অনুষ্ঠান করতে দেয়নি
এ দিন মমতা দাবি করেন, কালীঘাট মোড়, মুক্তদল ও ফায়ার স্টেশনের বিপরীতে এই অনুষ্ঠান করতে চাওয়া হয়েছিল। অনুমতি মেলেনি। তাই বাড়ির সামনে করা হয়েছে। ডেকরেটার্সদের মানা করে দেওয়া হচ্ছে। তাই নিজেরাই চৌকি কেনা হয়েছে। মাইক জোগার করা হয়েছে।
মমতা বলেন, 'আমাদের নীতির লড়াই আজ থেকে শুরু হবে। আমাদের শুভ শক্তির উদয় হোক। মানুষের মঙ্গল হোক।'
উপস্থিতদের শ্রদ্ধা জানালেন মমতা
রবীন্দ্র জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে মমতার বক্তব্য, 'আমি কাউকে আবেদন করা পছন্দ করি না। যাঁদের পছন্দ হবে, নীতির মিল হবে, তাঁরা আসবেন। তাঁরা নিজেদের মাটির টানে, শিকরের টানে একত্রিত হবেন বলে আমি বিশ্বাস রাখি। যাঁরা উপস্থিত হয়েছেন অনেক অনেক প্রণাম ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। রাস্তাই আমাদের পথ দেখাবে।'
আজও ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সরব হন মমতা। তিনি দাবি করেন, সন্ত্রাস চলছে তৃণমূল কর্মীদের উপর। লাগামহীন সন্ত্রাস চলছে। পুলিশ এখন কাজ করছে না। ২০১১ সালের পর কারও উপর আক্রমণ করতে দেওয়া হয়নি। তখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে বুলেট প্রুফ গাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
মমতার আরও অভিযোগ, তৃণমূল হারেনি। হারানো হয়েছে। আর সেটা পরে বোঝা যাবে। তিনি বলেন, 'দিল্লির সব নেতারা আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। সনিয়াজি কথা বলেছেন। রাহুল গান্ধী কথা বলেছেন। খাগড়েজি কথা বলেছেন। উদ্ভব ঠাকরে মেসেজ করেছেন। তেজস্বী মেসেজ পাঠিয়েছে। অখিলেশ ঘুরে গিয়েছেন। এছাড়াও হেমন্ত সোরেন থেকে শুরু করে কেউ বাদ নেই। এমনকী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, আমি নিজে হেরেও এতটা কষ্ট পাইনি, যতটা এখন কষ্ট পেয়েছি। এটা হারানো হয়েছে। আমি সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাই।'
পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত নেতাদের তিনি পরামর্শ দেন, এখন হয়তো বেশি লোক পাওয়া যাবে না। সকলকে ভয় দেখান হচ্ছে। তাই নিয়েই লড়তে হবে।