Kolkata Airport: বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য মসজিদ বিপজ্জনক! মামলার শুনানি পিছল, গরহাজির মসজিদ কমিটি

কলকাতা এয়ারপোর্টের ভিতরে বাঁকড়া মসজিদের জমি ১৯৬২ সালেই অধিগ্রহণ করেছিল রাজ্য। তারজন্য ক্ষতিপূরণ ও দেওয়া হয়েছে। ওই জমিতে কমিটির কোনও আইনি অধিকার নেই। পাশাপাশি মসজিদটা যে জায়গায় রয়েছে তা নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে কেন্দ্র ও এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে।

Advertisement
বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য মসজিদ বিপজ্জনক! মামলার শুনানি পিছল, গরহাজির মসজিদ কমিটি
হাইলাইটস
  • বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য মসজিদ বিপজ্জনক!
  • মামলার শুনানি পিছল
  • গরহাজির মসজিদ কমিটি

কলকাতা এয়ারপোর্টের ভিতরে বাঁকড়া মসজিদের জমি ১৯৬২ সালেই অধিগ্রহণ করেছিল রাজ্য। তারজন্য ক্ষতিপূরণ ও দেওয়া হয়েছে। ওই জমিতে কমিটির কোনও আইনি অধিকার নেই। পাশাপাশি মসজিদটা যে জায়গায় রয়েছে তা নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে কেন্দ্র ও এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও- এর বেঞ্চে এদিন মসজিদ কমিটি ছাড়া বাকি সব পক্ষ তাদের বক্তব্য জানিয়েছে। আগামী ৯ অক্টোবর মসজিদ কমিটি তাদের বক্তব্য জানাবে।

এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষের হয়ে আইনজীবী সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় এদিন জানান, বাঁকড়া জায়গাটি  বিশরপাড়া এলাকায়। ৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৬১ সালে একটা নোটিসে উল্লেখ করা হয়, রানওয়ের জন্য কিছু জমি প্রয়োজন। সেই মতো গ্রামবাসীদের থেকে জমি অধিগ্রহণ করেছিল রাজ্য। আইন অনুযায়ী বাঁকড়া এলাকার ওই জমি অধিগ্রহণ করা হয়। সেই জমির জন্য ক্ষতিপূরও দেওয়া হয়। মসজিদের কোনও লিগাল রাইট নেই ওই জায়গায়। জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে মানে মসজিদ তার থেকে বাদ এমন নয়।

তাদের পক্ষ থেকে আরও যুক্তি দেওয়া হয়, ইসলাম ধর্ম পালনের জন্য মসজিদ অপরিহার্য কোনও স্থান নয়; খোলা জায়গাতেও তা পালন করা সম্ভব। অন্যান্য ধর্মীয় স্থানের তুলনায় এর গুরুত্ব কম বা বেশি, এমনটি নয়। উপাসনার অধিকার একটি নিজস্ব ও অবিচ্ছেদ্য অধিকার। বৃহত্তর জনস্বার্থের বিবেচনায় এটি কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। ভারতে প্রচলিত মুসলিম আইন অন্যান্য ইসলামি দেশের আইনের মতোই। এটি কোনও বিশেষ সুবিধা প্রদান করে না। অন্যান্য ধর্মের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম, মন্দির বা গির্জার ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটেছে।

বিমানবন্দরে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ত্রুটি নিয়ে ৪টি গোপন রিপোর্ট রয়েছে।  বিমানবন্দরের এলাকায় নমাজ পড়তে আসা ব্যক্তিদের চলাচলের বিষয়টি এর অন্তর্ভুক্ত। এরপর, ২৩ মে ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কলকাতা এয়ারপোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০ মে বাঁকড়া মসজিদ-সংক্রান্ত বিষয়ে এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। এতে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী, বাঁকড়া মসজিদের সদস্যবৃন্দ এবং মসজিদ কমিটির চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উল্লেখ করা হয় যে, এটি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।

Advertisement

এলাকাটি পাখি ও শেয়ালে পরিপূর্ণ, তাই নিরাপদে বিমান অবতরণ করানো কঠিন। তাছাড়া সম্প্রসারণের জন্যও এই জমি প্রয়োজন। এরপর ৮ই জুলাই ২০২৬ তারিখে বাঁকরা মসজিদের প্রেক্ষিতে এয়ারপোর্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করার জন্য আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এটি রাতারাতি ঘটে যাওয়া কোনও ঘটনা নয়। ঘটনাটি ১১ই জুলাই ঘটেছিল এবং তারা ২৭শে আগস্ট আদালতে এসেছেন। এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও বিমান চলাচল সংক্রান্ত নিরাপত্তা জড়িত। এক্ষেত্রে কোনও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের প্রয়োজন নেই। মামলাটি শুনানির যোগ্য নয়। কোন অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সব পক্ষের  হলফনামার পরিপ্রেক্ষিতে মামলার শুনানি করা হোক।

অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল ধীরজ ত্রিবেদী CISF-  এর পক্ষে জানান, মসজিদটা এমন জায়গায় রানওয়ে টপকে সেখানে যেতে হয়। এয়ারপোর্টের নিরাপত্তার জন্য এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক। কে নমাজের নামে ঢুকে পড়বে তার কোনও ঠিক নেই। রাজ্যে বহু বছর আগে এই জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, সেটা জানানো হয়নি। এই মসজিদ   নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। ৯ অক্টোবর ফের শুনানি এই মামলার। মসজিদ কমিটির আইনজীবী তাদের বক্তব্য জানাবেন।

POST A COMMENT
Advertisement