ফাইল ছবিকলকাতার বহু প্রতীক্ষিত মেট্রো প্রকল্পে অবশেষে জট কাটতে চলেছে। আগামী ১৫ মে থেকে চিংড়িঘাটায় শুরু হচ্ছে মেট্রোর লাইন জোড়ার কাজ। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের টানাপোড়েন, প্রশাসনিক জটিলতা এবং আদালতের মামলার কারণে আটকে ছিল এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। তবে এবার কলকাতা পুলিশ যান নিয়ন্ত্রণে সম্মতি দেওয়ায় কাজ শুরু করার পথ পুরোপুরি পরিষ্কার হয়েছে।
মেট্রো সূত্রে খবর, ১৫ থেকে ১৮ মে এবং ২২ থেকে ২৪ মে, এই দুই সপ্তাহান্তে ইএম বাইপাসের চিংড়িঘাটা এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে ৩৬৬ মিটার দীর্ঘ লাইন জোড়ার কাজ চলবে। এতদিন এই অনুমতি না মেলায় প্রকল্প এগোচ্ছিল না। কারণ, ইএম বাইপাস কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত রাস্তা হওয়ায় সেখানে যান নিয়ন্ত্রণ করা নিয়ে আপত্তি ছিল কলকাতা পুলিশের।
পরিস্থিতি বদলায় হাইকোর্টের ভর্ৎসনার পর। এরপর প্রশাসনিক স্তরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত যান নিয়ন্ত্রণে রাজি হয় পুলিশ। মেট্রো কর্তৃপক্ষের দাবি, এবার আর কোনও বড় বাধা নেই, ফলে কাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে।
এই অংশের কাজ সম্পূর্ণ হলে নিউ গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত অরেঞ্জ লাইনের সংযোগ বাস্তবায়িত হতে আর বেশি সময় লাগবে না। ফলে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত অনেকটাই সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুধু অরেঞ্জ লাইন নয়, এবার গতি পেতে পারে শহরের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো প্রকল্পও। জোকা-এসপ্ল্যানেড পার্পল লাইনের কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল বি.সি. রায় মার্কেট এলাকার জমি ও ব্যবসায়ীদের আপত্তির কারণে। সেই সমস্যারও সমাধান হতে পারে বলে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে জোকা থেকে মাঝেরহাট পর্যন্ত পরিষেবা চালু রয়েছে। পুরো প্রকল্প শেষ হলে বেহালাসহ দক্ষিণ-পশ্চিম কলকাতার বহু মানুষের যাতায়াতে বড় সুবিধা হবে।
এছাড়া নোয়াপাড়া-বারাসাত ইয়েলো লাইন প্রকল্পের কাজও নতুন করে গতি পেতে পারে। মাইকেলনগর পর্যন্ত কাজ এগোচ্ছে এবং বারাসাত পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব আগেই জানিয়েছিলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবই কলকাতার একাধিক মেট্রো প্রকল্পের অগ্রগতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে এখন একই রাজনৈতিক দলের সরকার ক্ষমতায় আসায় বহুদিন ধরে আটকে থাকা প্রকল্পগুলিতে নতুন গতি আসবে বলেই মনে করছেন আধিকারিকরা।