Kolkata Metro: চার দশকের পুরোনো ব্যবস্থার বিদায়, মেট্রোর ১৫টি টানেলে বসছে ৫৮৫ কোটির প্রযুক্তি

কলকাতা মেট্রোর সবচেয়ে পুরোনো ও ব্যস্ত উত্তর–দক্ষিণ করিডোরের (ব্লু লাইন) ভূগর্ভস্থ অংশে বড়সড় আধুনিকীকরণে উদ্যোগী হল মেট্রো কর্তৃপক্ষ। বেলগাছিয়া থেকে রবীন্দ্র সরোবর পর্যন্ত ১৫টি ভূগর্ভস্থ স্টেশনের টানেল বায়ুচলাচল ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নতুন করে আপগ্রেড করা হচ্ছে।

Advertisement
চার দশকের পুরোনো ব্যবস্থার বিদায়, মেট্রোর ১৫টি টানেলে বসছে ৫৮৫ কোটির প্রযুক্তিপ্রতীকী ছবি
হাইলাইটস
  • কলকাতা মেট্রোর সবচেয়ে পুরোনো ও ব্যস্ত উত্তর–দক্ষিণ করিডোরের (ব্লু লাইন) ভূগর্ভস্থ অংশে বড়সড় আধুনিকীকরণে উদ্যোগী হল মেট্রো কর্তৃপক্ষ।
  • বেলগাছিয়া থেকে রবীন্দ্র সরোবর পর্যন্ত ১৫টি ভূগর্ভস্থ স্টেশনের টানেল বায়ুচলাচল ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নতুন করে আপগ্রেড করা হচ্ছে।

কলকাতা মেট্রোর সবচেয়ে পুরোনো ও ব্যস্ত উত্তর–দক্ষিণ করিডোরের (ব্লু লাইন) ভূগর্ভস্থ অংশে বড়সড় আধুনিকীকরণে উদ্যোগী হল মেট্রো কর্তৃপক্ষ। বেলগাছিয়া থেকে রবীন্দ্র সরোবর পর্যন্ত ১৫টি ভূগর্ভস্থ স্টেশনের টানেল বায়ুচলাচল ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নতুন করে আপগ্রেড করা হচ্ছে।

এই স্টেশনগুলির অধিকাংশই চার দশকেরও বেশি আগে নির্মিত। বুধবার প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মেট্রোর এক মুখপাত্র জানান, ১৯৭০-এর দশকে আইআইটি খড়গপুরের নকশায় তৈরি মূল বায়ুচলাচল ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ভাল পরিষেবা দিয়েছে। ২০১১ সালে কিছু পরিবর্তন আনা হলেও, বর্তমানে সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রেক চালু হওয়ায় পুরোনো ব্যবস্থার উপাদানগুলি তাদের কার্যকাল শেষের পথে পৌঁছেছে। তাই এই আপগ্রেড এখন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।

নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, ভূগর্ভস্থ জল সংরক্ষণ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টানেল ও স্টেশনগুলিতে অগ্নি-নিরাপত্তা আরও মজবুত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মেট্রো রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক শুভ্রাংশু শেখর মিশ্র জানান, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হতে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে এবং আনুমানিক ব্যয় হবে ৫৮৫ কোটি টাকা। তাপ বায়ুচলাচল ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার জন্য একটি জাপানি সংস্থার ভারতীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে এই কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে।

শক্তিশালী নতুন পাখা বসছে
সংস্কার কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল আধুনিক ও শক্তিশালী বায়ুচলাচল পাখা স্থাপন। পাশাপাশি জল-ভিত্তিক শীতলীকরণ ব্যবস্থা বদলে বায়ু-ভিত্তিক শীতলীকরণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

চুক্তিপ্রাপ্ত সংস্থার এক ঊর্ধ্বতন কর্তা কৌশিক রায় জানান, নন-এসি রেকের জায়গায় এখন সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রেক চালানো হচ্ছে। এসি ট্রেন ব্রেক করার সময় বেশি তাপ উৎপন্ন করে, যার ফলে ট্রেন ঢোকার সময় প্ল্যাটফর্মে তাপমাত্রা বেড়ে যায়। নতুন পাখাগুলি সেই গরম বাতাস বাইরে বের করে দিয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

এই পাখাগুলি আগের তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ খরচ করে চলবে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানায়, তাপমাত্রা ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেলেও এই পাখাগুলি টানা দুই ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে সক্ষম। অগ্নিকাণ্ডের সময় টানেল থেকে ধোঁয়া ও গরম বাতাস বের করতেও এগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

Advertisement

প্রতি দুটি স্টেশনের মাঝের প্রতিটি শ্যাফটে তিনটি করে পাখা বসানো হবে, দুটি চালু থাকবে এবং একটি স্ট্যান্ডবাই হিসেবে রাখা হবে।

এছাড়াও প্ল্যাটফর্মের ট্র্যাকের উপরের ছাদে বসানো হবে ওভার ট্র্যাক এক্সহস্ট (OTE) পাখা। এসি ট্রেনের ছাদে থাকা প্যাকেজ ইউনিট থেকে যে গরম বাতাস বের হয়, এই পাখাগুলি তা টেনে বাইরে বের করে দেবে।

মেট্রোর এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিটি আট কোচের রেকে মোট ১৬টি আরএমপিইউ ইউনিট থাকে। সেই অনুযায়ী প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের উপরে ১৬টি করে এক্সহস্ট পাখা বসানো হবে। এর ফলে বছরে আনুমানিক ২১ কোটি টাকা বিদ্যুৎ খরচ সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জল থেকে বাতাসে শীতলীকরণ ব্যবস্থার বদল
বর্তমানে ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলির ছাদে থাকা কুলিং টাওয়ারের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ জল ব্যবহার করে প্ল্যাটফর্ম ঠান্ডা রাখা হয়। নতুন প্রকল্পে এই জল-ভিত্তিক ব্যবস্থার বদলে বায়ু-শীতল চিলার বসানো হবে।

মেট্রোর এক কর্মকর্তা জানান, এর ফলে বছরে প্রায় ১৮ কোটি লিটার ভূগর্ভস্থ জল সাশ্রয় হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বেশিরভাগ ভূগর্ভস্থ স্টেশন কলকাতা পুরসভার ৭ ও ৮ নম্বর বরোর মধ্যে অবস্থিত, যেখানে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর ইতিমধ্যেই উদ্বেগজনক হারে নেমে যাচ্ছে।

আধুনিক তাপ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা
এই প্রকল্পের আওতায় টানেলের ছাদ বরাবর বসানো হবে লিনিয়ার হিট ডিটেক্টর—বিশেষ ধরনের অপটিক্যাল ফাইবার। নির্ধারিত মাত্রার বেশি তাপমাত্রা হলেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মেট্রোর কন্ট্রোল রুমে সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি নিরাপত্তাকে আরও জোরদার করবে বলে মেট্রো কর্তৃপক্ষ আশাবাদী।

 

POST A COMMENT
Advertisement