'অভিষেকের মধ্যে অনেক সম্ভাবনা ছিল,' বিদ্রোহী MP শতাব্দীর তাত্‍পর্যপূর্ণ মন্তব্য

বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ শতাব্দী রায় জাতীয় রাজধানী দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরলেন। আজতককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'এটা অবশ্যই একটা চ্যালেঞ্জ। মানুষ অন্য জায়গায় ভোট দিয়েছেন কারণ তাঁরা পরিবর্তন চেয়েছিলেন।'

Advertisement
'অভিষেকের মধ্যে অনেক সম্ভাবনা ছিল,' বিদ্রোহী MP শতাব্দীর তাত্‍পর্যপূর্ণ মন্তব্যসমীকরণ বদলে দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরলেন শতাব্দী


তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদের শিবিরে তিনি অন্যতম মুখ। দিল্লিতে তাঁর বাংলোতেই বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়ির বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন শতাব্দী রায়। ত্রিপুরার ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন'স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর সঙ্গে মিশে গেল লোকসভায় তৃণমূলের 'বিদ্রোহী' ২০ জন সাংসদ ৷ তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শতাব্দী রায়ও। স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে সোমবার দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরেছেন বীরভূমের সাংসদ। 

কলকাতায় ফিরে শতাব্দী মানলনে, 'এটা অবশ্যই একটা চ্যালেঞ্জ'। শতাব্দী বলেন, 'অন্যান্য জায়গায় মানুষ ভোট দিয়েছে কারণ তারা পরিবর্তন চেয়েছিল। আমরা NDA-র সহযোগী হব।' অভিষেক প্রসঙ্গে শতাব্দীর বক্তব্য, 'আমি এখনও বিশ্বাস করি অভিষেক একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ যুবক। সে অনেক কিছু অর্জন করতে পারত, কিন্তু কোনও এক কারণে তাকে ভুল পথে চালিত করা হয়েছিল। তার রাজনৈতিক সম্ভাবনা ছিল।'

এনসিপিআই-এর সঙ্গে মিশে যাওয়া প্রসঙ্গে শতাব্দী রায় বলেন, 'আমরা এখনও একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে আছি। ২০০৯ সালে যখন তৃণমূল সঙ্কটে পড়েছিল, আমি  পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। আমি ১৭ বছর দিয়েছি। ক্ষোভ পাহাড়ের মতো জমে উঠেছে। এইসব ঘটনার পর নেওয়া এই সিদ্ধান্তটি নিঃসন্দেহে সবাইকে প্রভাবিত করেছে।'

প্রসঙ্গত, বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ আগেই বলেছিলেন, অপরাধবোধ কাজ করলেও এই মুহূর্তে তাঁর কিছু করার নেই। তার জন্য দায়ীও স্বয়ং তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই! বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায় জানিয়েছিলেন, 'বর্তমান সরকার পূর্বতন সরকারের কর্মকাণ্ডে যেখানে হাত দিচ্ছেন সেখানেই দুর্নীতির যোগ পাচ্ছেন। আমরা দুর্নীতির বিষয়ে যেটুকু জানতাম, সেটুকু জানানো হত। কিন্তু তাতে কোনও স্টেপ নেওয়া হত না কখনও।' সেই অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হত কিনা জানতে চাওয়ায় শতাব্দী রায় জানান, 'না, দিদিকে বলা হলে তিনি সবসময় বলতেন ভুল বোঝাচ্ছে তোমাদের।' অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনযাত্রা নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন সাংসদ শতাব্দী। বলেন,'অভিষেক দলে যেভাবে লিড করে, জীবনযাত্রা যেভাবে তৈরি করেছে, সেটা চোখে লাগার মতো এবং ওর চলাফেরা, ব্যবহার, এসবের জন্য ও সবার কাছে অভিযোগের কারণ। যেখানে দিদি মাটিতে বসে চা খায়, সেখানে অভিষেক মাটিতে বসে না। আর এই ক্ষোভগুলি এখন প্রকাশিত হচ্ছে।'

Advertisement

উল্লেখ্য, স্পিকারের সঙ্গে রবিবার দেখা করা  এই 'বিদ্রোহী' দলে ছিলেন- কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, আবু তাহের, খলিলুর রহমান, অরূপ চক্রবর্তী, মালা রায়, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ, জুন মালিয়া, ডা. শর্মিলা সরকার, অভিনেতা দেব, জগদীশ বাসুনিয়া, মিতালি বাগ, ইউসুফ পাঠান, পার্থ ভৌমিক, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, বাপি হালদার, অসিত মাল, কালীপদ সোরেন ও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷
 

POST A COMMENT
Advertisement