নাখোদা মসজিদ সামনেই বকরি ইদ। একে কুরবানির ইদও বলা হয়ে থাকে। কারণ ইসলামিক প্রথা অনুযায়ী, ওই পরবের দিন পশু জবাই করে তা কুরবানি দেওয়া হয়। এদিকে, রাজ্যে BJP সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকাশ্যে পশু জবাই নিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সরকারি নির্দেশিকা কি মানা হবে বকরি ইদের দিন? কী জানাচ্ছে নাখোদা মসজিদ? রাস্তায় নমাজ পাঠ কি বন্ধ এবং মাইকে আজান নিয়েও কী মতামত এই মসজিদ কর্তৃপক্ষের। কথা বলল bangla.aajtak.in.
বকরি ইদে প্রকাশ্যে গরু কাটা হবে?
নাখোদা মসজিদের মুখপাত্র নাসির ইব্রাহিম বলেন, 'আমরা আইন মেনে চলা নাগরিক। কেন আমরা আইন অমান্য করব? রাজ্যের সরকার যখন বলে দিয়েছে, প্রকাশ্য প্রাণী জবাই করা যাবে না, তখন বকরি ইদের দিনও তা হবে না। আর এমনটা তো করা উচিতও নয়। অন্য ধর্মের মানুষ পাশে থাকেন, তাঁদের তো অস্বস্তিও হতে পারে।' নাখোদা মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে মুসলিম সমাজের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে কোনও ভাবেই বকরি ইদে কুরবানির জন্য প্রকাশ্য রাস্তায় প্রাণী জবাই না করা হয়।
অসুস্থ, ১৪ বছরের ঊর্ধ্ব প্রাণী হতে তবেই জবাই করার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। তা-ও সরকার অনুমোদিত স্থানে, প্রকাশ্যে নয়। এ প্রসঙ্গে নিয়মের খানিকটা শিথীলতা চাইছে নাখোদা মসজিদ। নাসিক ইব্রাহিমের কথায়, '১৯৫০ সালের আইন এটি। জবাইয়ের আগে সার্টিফিকেট জোগাড় করতে হবে, আর জবাই কসাইখানায় করতে হবে। এই নিয়ম ছিল। জায়গায় জায়গায় কসাইখানা বানিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। এমনটা আগের সরকার করেনি। তবে আমরা চাইব আইনে সামান্য অনুমোদন করে ওই একটি পরবের দিন ১৪ বছরের ঊর্ধ্ব প্রাণী জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া হোক। কারণ কম বয়স ছাড়া গরু বিক্রিই হয় না।' সেক্ষেত্রে আইন অনুমোদন না হলে আপাতত গরু কাটতেই নিষেধ করছে নাখোদা মসজিদ। কমিটি মুসলিমদের ছাগল, ভেড়া কুরবানি দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
রাস্তায় নমাজ পাঠ হবে?
নাখোদা মসজিদ জানাচ্ছে, মুসলিমদের সকালে একবারই নমাজ পাঠ হতো। ফলে মসজিদের ভিতরে না ধরলে বাইরে রাস্তায় বা ফুটপাছে নমাজ পাঠে বসে যেতেন অনেকে। সেক্ষেত্রে এবার থেকে মসজিদগুলিকে ২টি শিফটে সকালের নমাজ পাঠ করাতে অনুরোধ করেছে। যাতে রাস্তায় কোনও ভাবেই নমাজ পাঠ না হয়। বিশৃঙ্খলা এড়াতে সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার কথাই জানাচ্ছে নাখোদা মসজিদ। কেবলমাত্র রেড রোডে ইদের দিন সেনার অনুমতি নিয়ে নমাজ পাঠ করতে দেওয়া হয়। প্রকাশ্যে মাইক বাজানো বন্ধ করার সরকারি নির্দেশিকায় মেনে করার পরামর্শ তাদের।