অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় (ফাইল ছবি) বিলবোর্ড মামলায় শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর থানা থেকে বেরোলেন তিনি। বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দাবি করেন, সেদিন বেআইনিভাবে তৃণমূলে পার্টি অফিসের বিলবোর্ড খোলা হয়েছিল। সেজন্য তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন। তাঁর আদালতের উপর ভরসা আছে।
অভিষেক বলেন, 'সারা ক্যামাক স্ট্রিটে অনেক বিলবোর্ড আছে। কতগুলি খোলা হয়েছে। আসলে ওরা তৃণমূলকে ভয় পেয়েছে। সেই কারণে পার্টি অফিস ভাঙছে, দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা কেস দিচ্ছে। এত কর্মীকে জেলে ঢুকিয়েছে। আসলে ওরা চুরি করে জিতেছে। সেই কারণে ওরা ভীত। বারবার আমাদের উপর আক্রমণ নামিয়ে আনছে।'
এরপরই তিনি দিল্লিতে CJP-র দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেফতারি নিয়ে মুখ খোলেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, 'কেন ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতাকে গ্রেফতার করা হল? হাতে জাতীয় পতাকা নেওয়া কি অপরাধ? ওরা তো জাতীয় পতাকা হাতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছিল মাত্র। ভারতবর্ষকে পাকিস্তান যদি কেউ বানায় তাহলে নরেন্দ্র মোদী, আমিত শাহরা বানিয়েছে। আমার দেশে তেরঙা পতাকা দেখানোর অধিকার নেই। এটা কেমন ব্যাপার? ব্রিটিশদের সময় যা হোতো এখন তাই হচ্ছে। ওই সিজেপি নেতারা তো কোনও শান্তি বিঘ্নিত করেননি বা দাঙ্গা লাগাননি। আসলে এই সরকার জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচাতে চাইছে। জ্ঞানেশ ডুবলে সবাই ডুববে। বিজেপির সব নেতা গ্রেফতার হয়ে যাবে। তাই জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই গ্রেফতার করা হচ্ছে।'
মঙ্গলবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, 'ওই মহিলা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ছুরি নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।উনি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলে নয়, উনি একজন মহিলা। যেভাবে কাল ঘটনাটি ঘটেছে। আমি কালীঘাট কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলাম যখন এই ঘটনাটি ঘটে, আমি যতটুকু শুনেছি বা সংবাদমাধ্যমে দেখেছি, যেভাবে ছুরি নিয়ে এগিয়ে আসা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী কথায় কথায় বলেন যে উনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে জেড প্লাস নিরাপত্তা দেন। এই যদি জেড প্লাস নিরাপত্তার নিদর্শন হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ বা নারীদের নিরাপত্তা কোথায়, তা আপনারাই বুঝে নিন।'