কলকাতা পুরসভায় ‘অপারেশন লোটাস’? বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগে ৫০ TMC কাউন্সিলর, জল্পনা তুঙ্গে

কয়েকদিন আগেই কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশন ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই আবহে বিজেপি কাউন্সিলার তথা বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষ মন্তব্য করেছিলেন, 'দরজা একটু খুলে দিলেই পুরসভায় আর তৃণমূলের বোর্ড থাকবে না। বিজেপিতে আসার লাইন পড়ে যাবে।' তাঁর এই মন্তব্য যে নিছক রাজনৈতিক হুঙ্কার নয়, তার ইঙ্গিত মিলছে শাসকদলের অন্দরেই।

Advertisement
কলকাতা পুরসভায় ‘অপারেশন লোটাস’? বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগে ৫০ TMC কাউন্সিলর, জল্পনা তুঙ্গেকলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশন।-ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • ‘অপারেশন লোটাস’, গত কয়েক বছরে দেশের রাজনীতিতে বহুল চর্চিত এই শব্দবন্ধ ফের উঠে আসছে বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে।
  • রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এবার কলকাতা পুরসভাকেও ঘিরে শুরু হতে পারে বড়সড় রাজনৈতিক অদলবদল।

‘অপারেশন লোটাস’, গত কয়েক বছরে দেশের রাজনীতিতে বহুল চর্চিত এই শব্দবন্ধ ফের উঠে আসছে বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এবার কলকাতা পুরসভাকেও ঘিরে শুরু হতে পারে বড়সড় রাজনৈতিক অদলবদল। কারণ তৃণমূলের অন্দরেই এখন জোর গুঞ্জন, কলকাতা পুরসভার অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন কাউন্সিলার নাকি ইতিমধ্যেই বিজেপির সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। সুযোগ পেলেই তাঁরা শিবির বদল করতে পারেন বলেও জল্পনা তুঙ্গে।

৪ মে-র পর কলকাতা পুরসভার মেয়র, মেয়র পারিষদ এবং কাউন্সিলারদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই বৈঠকেই অনুপস্থিত ছিলেন একাধিক হেভিওয়েট নেতা। মেয়র পারিষদদের মধ্যে তারক সিং, দেবাশিস কুমার ও জীবন সাহার অনুপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কাড়ে। পাশাপাশি, আরও বহু কাউন্সিলার ওই বৈঠকে যাননি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই গরহাজিরদের একাংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন।

কয়েকদিন আগেই কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশন ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই আবহে বিজেপি কাউন্সিলার তথা বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষ মন্তব্য করেছিলেন, 'দরজা একটু খুলে দিলেই পুরসভায় আর তৃণমূলের বোর্ড থাকবে না। বিজেপিতে আসার লাইন পড়ে যাবে।' তাঁর এই মন্তব্য যে নিছক রাজনৈতিক হুঙ্কার নয়, তার ইঙ্গিত মিলছে শাসকদলের অন্দরেই।

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই একাধিক কাউন্সিলারের আচরণ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। শ্যামপুকুর এলাকার কাউন্সিলার ইলোরা সাহা ও সুনন্দা সরকারের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উত্তর কলকাতা তৃণমূলের তথাকথিত অভিভাবক সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কটূক্তি করার অভিযোগও উঠেছে কয়েকজন কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে, উল্টোডাঙা অঞ্চলের কাউন্সিলার অনিন্দ্যকিশোর রাউতের সঙ্গে বিজেপি নেতা সজল ঘোষের এক অনুষ্ঠানে উপস্থিতি নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে। সিটি কলেজের প্রাক্তনীদের অনুষ্ঠানে সজল ঘোষকে সংবর্ধনা দেওয়া নিয়েও রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। আবার রুবি ও কসবা এলাকার এক কাউন্সিলারের বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগের খবরও ছড়িয়ে পড়েছে। বাইপাস সংলগ্ন একটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলার নাকি পুরনো আরএসএস-যোগও ঝালিয়ে নিতে শুরু করেছেন বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

Advertisement

চলতি বছরের শেষেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার আগেই যদি বড়সড় দলবদল শুরু হয়, তাহলে কলকাতার রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। আর সেই কারণেই এখন রাজনৈতিক মহলের নজর কলকাতা পুরসভার অন্দরে, সত্যিই কি শুরু হতে চলেছে বাংলার নতুন ‘অপারেশন লোটাস’?

 

POST A COMMENT
Advertisement