Surendranath Law College: সুরেন্দ্রনাথ ল' কলেজে চলত OYO রুম? মারাত্মক সব অভিযোগ ছাত্রীদের

কলকাতার নামী এই আইনের কলেজে চূড়ান্ত অচলাবস্থা চলছে। কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল মহম্মদি তরন্নুমকে ঘিরে যাবতীয় অশান্তির মধ্যেই একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ করছেন ছাত্র-ছাত্রীরা। দুই ছাত্রীর দাবি, অন্যান্য সরকারি কলেজের তুলনায় তাঁদের কলেজ ফি অনেক বেশি।

Advertisement
সুরেন্দ্রনাথ ল' কলেজে চলত OYO রুম? মারাত্মক সব অভিযোগ ছাত্রীদেরসুরেন্দ্রনাথ ল কলেজ
হাইলাইটস
  • সুরেন্দ্রনাথ ল' কলেজে OYO রুম? 
  • ঠিক কী পরিস্থিতি সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজে?
  • সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ক্লাস চালু করেছিল

সুরেন্দ্রনাথ ল' কলেজে কত নৈরাজ্য, তার প্রমাণ ছাত্রীদের করা মারাত্মক সব অভিযোগ ইঙ্গিত মিলছে। ছাত্রীদের দিনের পর দিন কম্প্রোমাইজ বা আপোষ করতে বলা হত! দু'জন ছাত্রীর অভিযোগ, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কয়েকজন সিনিয়র ও তাদের শাগরেদরা ছাত্রীদের অশালীন মেসেজ পাঠাত। ক্যাম্পাসের বাইরে দেখা করতে বলত। প্রতিবাদ করলেই অ্যাটেনডেন্স কেটে নেওয়া বা কলেজে টিকতে না দেওয়ার হুমকি চলত। 

সুরেন্দ্রনাথ ল' কলেজে OYO রুম? 

সুরেন্দ্রনাথ ল' কলেজের এক ছাত্রীর কথায়, 'TMC জমানায় ছাত্রীদেরকে কম্প্রোমাইজ করার কথা বলে গেছে শিবাশিস ও দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। আপনারা বাথরুমে গিয়ে দেখুন, ছিটকিনি নেই। একজন ছাত্রী যখন ওয়াশরুমে যাচ্ছেন, তাঁকে আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে যেতে হয়। এত এত টাকা যে উনি নিচ্ছেন পরিকাঠামোর নামে, সেটা কোথায় যাচ্ছে? পরিকাঠামো গড়ার নামে আমাদের কলেজে OYO রুম রয়েছে। যে টাকাগুলি আমরা শিক্ষার জন্য দিয়েছি, সেগুলো দিয়ে  OYO রুম বানিয়েছে।'

ঠিক কী পরিস্থিতি সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজে?

কলকাতার নামী এই আইনের কলেজে চূড়ান্ত অচলাবস্থা চলছে। কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল মহম্মদি তরন্নুমকে ঘিরে যাবতীয় অশান্তির মধ্যেই একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ করছেন ছাত্র-ছাত্রীরা। দুই ছাত্রীর দাবি, অন্যান্য সরকারি কলেজের তুলনায় তাঁদের কলেজ ফি অনেক বেশি। কোর্স ফি বাবদ ১২ থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। কলেজে কোনও ক্যান্টিন নেই, ক্লাসরুমের ফ্যান খারাপ হয়ে পড়ে থাকে এবং বাথরুমের দরজায় ছিটকানিনেই। পরিকাঠামোর উন্নয়নের নামে প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ তোলা হলেও সেই টাকার সঠিক ব্যবহার কোথায় হচ্ছে, তার কোনও সদুত্তর নেই।

সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ক্লাস চালু করেছিল

গত বুধবার থেকেই সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজে ছাত্রবিক্ষোভ চলছে। অ্যাটেন্ডেন্সের হার ৪০ শতাংশের নীচে থাকায় এ বছর ওই পড়ুয়াদের পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পরীক্ষার্থীদের দাবি, ক্লাসই হত না কলেজে। এ বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে অভিযোগ জানানোর পর কর্তৃপক্ষ সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ক্লাস চালু করে। পড়ুয়াদের অভিযোগ, অতো সকালে মেট্রো পরিষেবা না থাকায় অনেকেই ক্লাসে যোগ দিতে পারেনি। তাঁদের উপস্থিতি সংক্রান্ত কোনও নথিও কর্তৃপক্ষের কাছে নে'

Advertisement

রাতে ঘেরাও আন্দোলন এবং ভাইস প্রিন্সিপালের পদত্যাগপত্র নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের সমস্ত দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন পড়ুয়ারা। তাঁদের দাবি, জোর করে সাদা কাগজে সই করিয়ে নেওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ভিপি নিজেই সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্রে সই করেছেন। ছাত্রীদের দাবি, সেদিন রাতভর তাঁরা ভিপির সঙ্গেই ছিলেন এবং নিয়মানুযায়ী তাঁকে ঠান্ডা জল ও খাবার দেওয়া হয়।

এর আগে ভাইস প্রিন্সিপাল মহম্মদি তরন্নুম অবশ্য পুরো ঘটনার দায় চাপিয়েছিলেন বহিরাগত এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মহলের ওপর। তাঁর দাবি ছিল, বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার নিয়ম মেনেই ৬৫ শতাংশ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক এবং ৯১৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৭০০ জনেরই অ্যাটেনডেন্সের ঘাটতি রয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের একাংশকে ভুল বুঝিয়ে উসকানি দেওয়া হচ্ছে।

POST A COMMENT
Advertisement