scorecardresearch
 

৩ ঘণ্টা ধরে বাড়িতে তল্লাশি, এবার নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার BJP নেতা রাকেশ সিং, বাদ গেল না ২ ছেলেও

ছেলেদের আটকের পরেই গ্রেফতার হন রাকেশ। পূর্ব বর্ধমানের গলসি থেকে গ্রেফতার করা হয় রাকেশকে। রাকেশের মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন দেখেই তাঁর খোঁজ পায় পুলিশ।

 Rakesh Singh Rakesh Singh
হাইলাইটস
  • দিনভর নাটকের পর গ্রেফতার রাকেশ সিং
  • বর্ধমানের গলসি থেকে গ্রেফতার বিজেপি নেতা
  • রাকেশের ২ ছেলে সুভম ও সাহেবও পুলিশের জালে

পামেলা গোস্বামী  মাদক মামলায় মঙ্গলবারই রাকেশকে হাজিরা দিতে বলে কলকাতা পুলিশ। কিন্তু দিল্লিতে পূর্ব নির্ধারিত কাজ থাকায় ২৬ তারিখের পর তিনি তদন্তকারীদের সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানিয়েছিল রাকেশ। কলকাতা পুলিশের সমনকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিজেপি নেতা। কিন্তু তাতে সুরাহা কিছু হয়নি। পুলিশের নোটিস খারিজ করার কোনও প্রশ্নই নেই, স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন বিচারপতি। হাইকোর্টে মামলা হারতেই রাকেশ সিংহের বাড়ি ঘিরে ফেলে কলকাতা পুলিশ।  কোকেন কাণ্ডে রাকেশের খোঁজে মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর বাড়িতে যায় বিশাল পুলিশবাহিনী। কিন্তু বাড়ির ভেতরে ঢুকতে বেশ বেগ পেতে হয় লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগকে। শেষমেশ বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েও অবশ্য বিশেষ কিছু মেলেনি এই আবহে ফেরার পথে রাকেশের দুই ছেলেকে লালবাজারে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। আর তা নিয়েই উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। প্রমাণ না মেলা সত্বেও কেন গ্রেফতার করা হল তাঁদের,  তা নিয়ে গলা ফাটাচ্ছে রাজেশের পরিবার। অনৈতিক ভাবে দুই ভাইকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি রাকেশের কন্যা সিমরণের।

রাকেশের মেয়ে সিমরণ
রাকেশের মেয়ে সিমরণ

এদিন শুরু থেকেই অভিযোগ ছিল বাড়িতে তল্লাশি চালাতে পুলিশকে বাধা দিয়েছে রাকেশের ছেলেরা। পুলিশের সঙ্গে এক ছেলের বচসাও হয়। অন্যদিকে রাকেশের ছোট ছেলের দাবি,পরোয়ানা না দেখাতে পারলে বাড়ি তল্লাশি করতে দেওয়া হবে না। সরকারি কাজে বাধা দিলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ। ফলে এ নিয়ে শুরু হয়েছে টানাপড়েন। যদিও পরে রাকেশের বাড়িতে ঢোকে পুলিশ। ঠিক বিকেল পাঁচটা নাগাদ রাকেশের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে ঢোকে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। তিন ঘণ্টা পর বেরিয়ে আসে পুলিশ। এরপরেই রাকেশের বড় ছেলে সুভম সিং (২৫) সংবাদমাধ্যমকে জানায়, বাড়িতে আলমারি থেকে খাট সবকিছুতেই তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। কিন্তু কিছুই মেলেনি। তাঁর বাবার সঙ্গে ভাইয়ের কথা হয়েছে বলেও দাবি করেন সুভম। এর মাঝেই পুলিশ গাড়িতে তুলে নেয় রাকেশের ছোট ছেলে সাহেব সিং(২১)-কে। এরপরে আটক হয় সুভমও। কোনকিছু না জানিয়ে এভাবে দুই ভাইকে আটক করার বিষয়টিকে কিডন্যাপের সঙ্গে তুলনা করেছে রাকেশের মেয়ে সিমরণ। তবে পুলিশের দাবি জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই দুই ছেলেকে আটক করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে রয়েছে সরকারি কাজে অসহযোগিতার অভিযোগও।

এদিকে ছেলেদের আটকের পরেই গ্রেফতার হন রাকেশ। পূর্ব বর্ধমানের গলসি থেকে গ্রেফতার করা হয় রাকেশকে। রাকেশের মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন দেখেই তাঁর খোঁজ পায় পুলিশ। এদিন  রাকেশ সিংহ দাবি করেছিলেন তিনি দিল্লিতে যাচ্ছেন। তবে পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ জানতে পারে রাজ্যেই রয়েছেন রাকেশ। কোনও হাইওয়ের ধারেপাশে রয়েছেন , জানা যায় সেটাও। তারপর রাকেশ সিংহের মোবাইল টাওয়ার লোকেশান ট্র্যাক করতে শুরু করে পুলিশ। শুরু হয় বর্ধমানের হাইওয়ের ধারে নাকা-চেকিং। তারপরই একটি গাড়িতে সেই এলাকা পেরোনো রাকেশ সিংহকে হাতেনাতে পাকড়াও করে পুলিশ। মাদকযোগে আগেই গ্রেফতার হয়েছিলেম পামেলা গোস্বামী। তিনিই অভিযোগ করেছিলেন তাঁকে ফাঁসিয়েছেন কৈলাস বিজয়বর্গীয় ঘনিষ্ট বিজেপি নেতা রাকেশ সিং।