scorecardresearch
 
 

Partial Lockdown : নেই গণপরিবহণ, বিমান ধরতে মাঝ রাতে বেরিয়ে পড়তে হয়েছে ওঁদের

গাড়ি না পেয়ে তাঁরা যেতে সময় মতো পৌঁছতে না পারেন, এমন ঘটনা আটকাতেই তাঁরা অনেক আগে চলে এসেছেন। বিমান যাতে তাঁদের ছেড়ে যেতে না-পারে, তাই অনেক আগেই তারা পৌঁছে যাচ্ছেন বিমানবন্দর (Dumdum Airport)-এ।

অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়েই পড়েছেন এক যাত্রী (বাঁদিকে), ফাঁকা কলকাতা বিমানবন্দর। রবিবার সকালে। ছবি: অরিন্দম ভট্টাচার্য অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়েই পড়েছেন এক যাত্রী (বাঁদিকে), ফাঁকা কলকাতা বিমানবন্দর। রবিবার সকালে। ছবি: অরিন্দম ভট্টাচার্য
হাইলাইটস
  • করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে আংশিক লকডাউন আরও কড়া করেছে রাজ্য
  • বন্ধ করা হয়েছে গণপরিবহন
  • আর তাই বিমানবন্দরে ৮-৯ ঘণ্টা আগে পৌঁছে যেতে দেখা গেল যাত্রীদের

করোনাভাইরাস (Coronavirus)-এর সংক্রমণ রোধে আংশিক লকডাউন আরও কড়া করেছে রাজ্য। বন্ধ করা হয়েছে গণপরিবহন। আর তাই বিমানবন্দর (Dumdum Airport)-এ ৮-৯ ঘণ্টা আগে পৌঁছে যেতে দেখা গেল যাত্রীদের।

গাড়ি না পেয়ে তাঁরা যেতে সময় মতো পৌঁছতে না পারেন, এমন ঘটনা আটকাতেই তাঁরা অনেক আগে চলে এসেছেন। বিমান যাতে তাঁদের ছেড়ে যেতে না-পারে, তাই অনেক আগেই তারা পৌঁছে যাচ্ছেন বিমানবন্দর (Dumdum Airport)-এ। অনেকেই ভোররাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন।

রবিবার কলকাতা বিমানবন্দর (Dumdum Airport)-এ এমনই ছবি দেখা গেল। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এমন অভিজ্ঞতার কথা জানা গেল। মাঝ রাস্তায় কোনও সমস্যায় পড়ার বদলে বিমানব্দরে অপেক্ষা করতে রাজি।

উত্তর ২৪ পরগনায় থাকেন অনন্ত মণ্ডল। তিনি যাবেন কাতারে। আর তাঁর বিমান দুপুর তিনটে কুড়িতে। তবে বিমান যাতে ধরতে পারেন, তার জন্য গভীর রাতেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন।

এদিন তিনি বলেন, আমি কাতারে যাব। আমি উত্তর ২৪ পরগনা বনগাঁ থেকে এসেছি। আজ বেলা তিনটা কুড়ি সময় আমার বিমান রয়েছে। তবে সকাল ছ'টা নাগাদ বিমানবন্দরে পৌঁছে গিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলাম ভোররাতে। তখন তিনটে বাজে। এই আংশিক লকডাউনের ব্যাপারে জানতাম। আমি ভেবেছিলাম কোনও যানবাহন পাব না হয় তো। তাই জন্য তাড়াতাড়ি চলে এসেছি। 

শুধু তিনি নন, এরকম অজস্র যাত্রীকে পাওয়া গিয়েছিল কলকাতা বিমানবন্দরে। যাঁরা তাঁদের বিমানযাত্রার ৮-৯ ঘণ্টা আগে চলে এসেছিলেন। অনেক আগেই বাড়ি থেকে বিমানবন্দরের দিকে যাত্রা শুরু করেছিলেন।

তাঁদের একটাই আশঙ্কা ছিল, বাইরে বেরিয়ে যদি কোনও গাড়ি না পাওয়া যায়। বা কোথাও যদি আটকে পড়তে হয়। তাহলে বিমান ধরতে পারবেন না। আর সে জন্যই তারা আগে থেকে পৌঁছে গিয়েছিলেন বিমানবন্দরের। সেখানে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেন বা করতে শুরু করেন।

ঘটনা হল, বিমান ধরতে যাচ্ছেন, এমন কোনও গাড়িকে এই নিষেধাজ্ঞা থেকে বাদ রাখা হয়েছিল। তবে বিমানযাত্রীদের মধ্যে আশঙ্কা ছিল। তাই কোন রকম ঝুঁকি ছাড়াই পৌঁছতে পারেন, সে কারণে অনেক আগেই চলে এসেছিলেন।

তারা যাতে বিমানবন্দরে পৌঁছতে পারেন, তাই এই পন্থা নিয়েছেন। তারা ঠিক করে নিয়েছিলেন বিমানবন্দরে অপেক্ষা করবেন, তা-ও ভাল। কিন্তু মাঝপথে যাতে কোনও সমস্যায় পড়তে না হয়।

এদিন বিধাননগর, নিউটাউন ঘুরে দেখা গেল বেশ ফাঁকা। সেখানে রবিবার সকাল থেকে লোকজন খুব কম। ফাঁকা রাস্তা বলে দিচ্ছে মানুষ মেনে নিয়েছে সরকারের সিদ্ধান্ত। করোনা সংক্রমণ রুখতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। আর তা মেনে নিয়েছেন মানুষ।

এদিন সকাল ছটা থেকে শুরু হয়েছে নয়া বিধিনিষেধ। বিধাননগর, নিউটাউন, বিধাননগর স্টেশন এলাকা (উল্টোডাঙ্গা)-র বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা গেল লোকজন প্রায় নেই বললেই চলে। ভিআইপি রোড বলতে বোঝায় একের পর এক গাড়ি, মানুষ। আবার কখনও যানজট। এদিন উল্টো ছবি।