স্কুল ইউনিফর্ম নিয়ে সিদ্ধান্ত।-প্রতীকী ছবিরাজ্যের সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির ইউনিফর্মে ফের বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ২০২২ সালে সব সরকারি স্কুলে একরকম নীল-সাদা ইউনিফর্ম চালু হওয়ার আগে যে ব্যবস্থা ছিল, সেই অনুযায়ী স্কুলভিত্তিক ইউনিফর্মের তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। এর জেরে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, তবে কি আবারও স্কুলগুলিকে নিজেদের পছন্দের ইউনিফর্ম বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া হবে?
স্কুল শিক্ষা দফতরের ৮ জুলাইয়ের নির্দেশে জেলার স্কুল পরিদর্শকদের (ডিআই) সমীক্ষা চালানোর কথা বলা হয়েছে। এই সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ইউনিফর্ম তৈরির আগে ২০২২ সালের পূর্বে বিভিন্ন স্কুলে প্রচলিত ইউনিফর্মের রং ও কাপড়ের চাহিদা নির্ধারণ করা।
২০২২ সালের ২০ মার্চ তৎকালীন রাজ্য সরকার নির্দেশ দিয়েছিল, সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও স্পনসরড স্কুলের প্রাক-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য নেভি ব্লু ও সাদা রঙের অভিন্ন ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক হবে। সেই সঙ্গে শার্ট বা কামিজে 'বিশ্ব বাংলা' লোগো ব্যবহারও বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। সরকারের যুক্তি ছিল, সব আর্থ-সামাজিক স্তরের পড়ুয়াদের মধ্যে বৈষম্য দূর করাই এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য।
এবারের সমীক্ষায় স্কুলগুলির প্রধান শিক্ষকদের একটি গুগল ফর্ম পাঠানো হয়েছে। সেখানে স্কুলের নিজস্ব ইউনিফর্মের রং এবং কতজন পড়ুয়ার জন্য ইউনিফর্ম প্রয়োজন, সেই তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। আগামী ১২ জুলাইয়ের মধ্যে এই তথ্য জমা দিতে হবে। এরপর ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) দফতর ইউনিফর্ম তৈরির প্রস্তুতি শুরু করবে।
স্কুল শিক্ষা দফতরের নির্দেশে বলা হয়েছে, বিভিন্ন রঙের কাপড়ের চাহিদা নির্ধারণ করে সময়মতো উৎপাদনের ব্যবস্থা করাই এই সমীক্ষার লক্ষ্য, যাতে নতুন শিক্ষাবর্ষের আগেই সমস্ত যোগ্য পড়ুয়ার হাতে ইউনিফর্ম পৌঁছে দেওয়া যায়।
২০২২ সালের আগে বহু স্কুলেরই নিজস্ব পরিচয় বহনকারী আলাদা ইউনিফর্ম ছিল। যেমন, চেতলা গার্লস হাই স্কুলের পড়ুয়ারা সাদা টপের সঙ্গে সবুজ চেক-কাটা স্কার্ট পরতেন, যেখানে স্কুলের নিজস্ব লোগোও থাকত।
শিক্ষা দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিন্ন ইউনিফর্ম চালুর সময় বহু সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল আপত্তি জানিয়ে দফতরে চিঠি দিয়েছিল। এমনকি পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি হাই স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্ররাও তখন নিজস্ব ইউনিফর্ম ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন।
নতুন এই সমীক্ষাকে ঘিরে তাই শিক্ষামহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেরই আশা, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই হয়তো রাজ্যের বহু স্কুল আবার নিজেদের ঐতিহ্যবাহী ইউনিফর্মে ফিরতে পারে।