যোগ দিবসে কলকাতায় মোদী যোগাসনই মানবজাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে রবিবার কলকাতার রেড রোড থেকে এমনটাই বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ১২তম যোগদিবস বাংলায় এসে উদযাপন করতে পেরে তাঁর এক আত্মিক অনুভূতি হচ্ছে বলেও ব্যাখ্যা করেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে বাংলা তথা দেশের সকলের মানুষের সামনে ব্যাখ্যা করেন নিয়মিত যোগাসন করার উপকারিতা। কীভাবে ৪০ বছর বয়সেও ২০ বছরের মতো তরতাজা থাকা যায়, তা-ও বোঝালেন নমো।
১০ পয়েন্টে নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য
> প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কলকাতাবাসী স্বচ্ছতার সঙ্গে অভ্যর্থনা জানিয়েছে। এতে নাগরিক কর্তব্য পালনে বহু পরিশ্রম করতে হয়েছে। এই উদ্যোগ ও উদ্যম অত্যন্ত প্রশংসনীয়।'
> তিনি আরও বলেন, ' শ্রী অরবিন্দ, স্বামী বিবেকানন্দ এবং শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণের ভূমি পশ্চিমবঙ্গ। তাই এখানে যোগ দিবসের অনুষ্ঠান আরও গুরুত্বপূর্ণ। শ্রী অরবিন্দ বলতেন, আমার পুরো জীবনই যোগ। যোগ আসলে মানব চেতনার সঙ্গে যুক্ত।'
> প্রধানমন্ত্রীর কথায়, '২১ জুন পৃথিবীর একাংশে সবথেকে লম্বা দিন। কিন্তু যোগ দিবস হিসেবে মান্যতা পাওয়ার পরে তাঁর গুরুত্ব আরও বেড়ে গিয়েছে। যোগ সবাইকে জুড়ে দেয়। এখন ২১ জুন বিশ্বের সবচেয়ে বড় পার্বণে পরিণত হয়েছে। যোগ দিবস পালনে কলকাতায় আসতে পেরে আমার নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে।'
> প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ,‘যোগ আমাদের সুস্থ জীবনযাপনে সাহায্য করে। যোগ মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রেখে শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার মার্গ দেখায়। ৭০ বছর বয়সে ৫০ বছর বয়সের অনুভূতি দেয়। জীবনশৈলীতে ভারসাম্য আনে। যোগের কথা গীতাতেও শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন। যোগকে কোনও একদিনের অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমিত রাখা উচিত নয়। একে আমাদের জীবনের অঙ্গ করে নিতে হবে। সমাজ সুস্থ থাকলে দেশও সুস্থ থাকবে।’
> প্রধানমন্ত্রী বললেন, ১০০ দিনের অনলাইন যোগ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। ১৩০টি দেশের ৩০ লক্ষের বেশি মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। যখন সমাজ স্বাস্থ্যবান হবে, রাষ্ট্রও ততই সমৃদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী হবে। আমি সকলের জন্য কামনা করছি, সবাই সুখে থাকুন ও সব রোগ থেকে মুক্ত থাকুন।
> প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'যোগা জীবনকে ভারসাম্যের সঙ্গে জীবনযাপন করা শেখায়। কী করা উচিত, কী করা উচিত নয় তা শেখায়। যোগা শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যকেও পথ দেখায়। তাই যোগা শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের জন্য নয়, দুনিয়ার সকলের জন্য আবশ্যক।'
> প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, 'যোগব্যায়াম মানুষকে সারা জীবন নিজের শরীর ও মনের শিক্ষার্থী হয়ে থাকতে শেখায়। যোগ আমাদের শেখায় যে জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নিজের শরীর ও মন সম্পর্কে শেখার প্রক্রিয়া কখনও থামে না।' সুস্থ বার্ধক্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই বিষয়টিকে শুধুমাত্র প্রবীণদের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা উচিত নয়।
> মোদীর কথায়, 'সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ, এই থিমটি সব বয়সের মানুষের জন্য প্রাসঙ্গিক। শুধু বয়স্কদের জন্য নয়, তরুণ থেকে শিশু প্রত্যেকের জীবনেই যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।'
> প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, 'বয়স বাড়লেও যোগাভ্যাস মানুষকে তরুণ ও সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। যোগ শুধু শরীরচর্চা নয়, বরং জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অনুপ্রেরণা জোগায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেও যোগ আমাদের তরুণ ও সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। যোগ মানুষের জীবনে নিরন্তর উন্নতির আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলে। বয়সকে কখনও সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং মানুষের লক্ষ্য হওয়া উচিত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও নমনীয়, আরও উদ্যমী এবং আরও সুস্থ হয়ে ওঠা। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ৪০ বছর বয়সে ২০ বছরের তুলনায় আরও বেশি নমনীয় হওয়া, ৫০ বছর বয়সে ৩০ বছরের তুলনায় আরও বেশি উদ্যমী হওয়া এবং ৭০ বছর বয়সে ৪০ বছরের তুলনায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় আরও শক্তিশালী হওয়া।'
> মোদীর মতে, 'নিয়মিত যোগাভ্যাস মানুষের শরীর ও মনের সামগ্রিক উন্নতি ঘটায় এবং সুস্থ, সক্রিয় ও ইতিবাচক জীবনযাপনের পথ দেখায়। নিয়মিত যোগাভ্যাস শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পথ দেখায়।'