জারি বৃষ্টির পূর্বাভাস বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত রাজ্যের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। জানাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। তবে স্বস্তির খবর, ৯ অগাস্ট থেকে ১১ অগাস্ট পর্যন্ত রাজ্যে আর কোনও বড় আবহাওয়া সতর্কতা নেই। ওই সময়ে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হলেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের চার জেলায় বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে এক বা দুই জায়গায় ভারী বৃষ্টির (৭-১১ সেন্টিমিটার) সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় লাগাতার বৃষ্টির কারণে ছোটখাটো ধস, জল জমা এবং পাহাড়ি নদী-ঝরনায় জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এছাড়া কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদা-সহ উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গে পশ্চিমাঞ্চলের জেলায় নজর
বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গে কলকাতা-সহ অধিকাংশ জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে এক বা দুই জায়গায় ভারী বৃষ্টির (৭-১১ সেন্টিমিটার) পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, নদিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ-সহ প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে বজ্রঝড়ের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
শুক্রবারও ভারী বৃষ্টি
শুক্রবার উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টি কিছুটা কমলেও জলপাইগুড়ি ও মালদায় এক বা দুই জায়গায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে। পাশাপাশি দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, মালদা, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গে এদিন বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে এক বা দুই জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতা-সহ বাকি জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। ফলে খোলা মাঠ, জলাশয় কিংবা বড় গাছের নীচে আশ্রয় না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে হাওয়া অফিস।
৯ অগাস্ট থেকে বড় সতর্কতা নেই
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৯ অগাস্ট থেকে ১১ অগাস্ট পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের কোথাও ভারী বৃষ্টি নিয়ে কোনও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়নি। ওই সময়ে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বিভিন্ন জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তা স্বাভাবিক বর্ষাকালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
অর্থাৎ, গত কয়েকদিনের মতো প্রবল বর্ষণ বা বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ভারী বৃষ্টির পরিস্থিতি আপাতত দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম। এতে জলমগ্ন এলাকা থেকে জল নামার প্রক্রিয়া দ্রুত হতে পারে এবং স্বাভাবিক জনজীবনও ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরবে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
গত ২৪ ঘণ্টায় কোথায় কত বৃষ্টি?
গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গেই সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। কোচবিহারের কোচবিহার শহরে ২৫৪.২ মিলিমিটার, আলিপুরদুয়ারের রায়ডাক টি এস্টেটে ২৫২.২ মিলিমিটার এবং জলপাইগুড়ির ডোমোহানিতে ২২৩.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে সর্বাধিক বৃষ্টি হয়েছে বীরভূমের নলহাটিতে ৯১.৪ মিলিমিটার। কলকাতায় এই সময়ে ১৬.৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।