নিউমার্কেটের ক্লক টাওয়ার।-ফাইল ছবিদশ বছর পর আবারও ঘুরতে শুরু করেছে ঘড়ির কাঁটা, বেজে উঠেছে ঘণ্টাধ্বনি। নিউ মার্কেটের শতাব্দীপ্রাচীন টাওয়ার ক্লক যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেল। বিকেল ঠিক ৩টে ৪৫ মিনিটে প্রথমে ত্রৈমাসিক সুর, তারপর পরপর পাঁচটি ঘণ্টাধ্বনি, মুহূর্তেই চত্বর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আবেগ আর উচ্ছ্বাস। দীর্ঘদিন পর সেই চেনা শব্দ শুনে অনেকেরই চোখে-মুখে নস্টালজিয়ার ছাপ স্পষ্ট। বহু পুরোনো দোকানদারদের কথায়, 'মনে হল সময় যেন পিছিয়ে গেল। পরিবেশটাই বদলে গেল এক নিমেষে।' কলেজ পড়ুয়া থেকে ট্যুরিস্ট, সবার কাছেই মুহূর্তটি ছিল স্মরণীয়।
নিউ মার্কেটের ঐতিহ্যবাহী টাওয়ারে বসানো চারমুখী জিলেট অ্যান্ড জনস্টন ওয়েস্টমিনস্টার ঘড়িটি বহুদিন ধরেই জীর্ণ ও নিস্তব্ধ অবস্থায় পড়ে ছিল। অবশেষে দীর্ঘ সংস্কারের পর মঙ্গলবার তা ফের সচল হল। এর মাধ্যমে শেষ হল প্রায় পাঁচ মাসের পুনরুদ্ধার প্রকল্প।
সংস্কারের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে দুই পিতা-পুত্র জুটি। স্থাপত্য সংস্থা ‘অ্যাপ্রোপ্রিয়েট অল্টারনেটিভ’-এর অঞ্জন মিত্র ও সপ্তর্ষি মিত্র টাওয়ারের গঠনমূলক সংস্কারের দায়িত্ব সামলান। অন্যদিকে স্বপন দত্ত ও সত্যজিৎ দত্ত ঘড়ির সূক্ষ্ম যন্ত্রাংশ ও ঘণ্টাধ্বনির জটিল প্রক্রিয়াকে পুনরুজ্জীবিত করেন। তাঁদের দক্ষতায় আবারও সচল হয়েছে ঐতিহ্যের এই প্রতীক।
প্রায় ৪৪ লক্ষ টাকার এই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে টেকনো ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড। এর মধ্যে শুধু ঘড়ির সংস্কারেই ব্যয় হয়েছে ৬ লক্ষ টাকা। সংস্থার সিএসআর প্রধান হিনা গোরসিয়া জানান, দেশে এ ধরনের মাত্র চারটি ঐতিহাসিক ঘড়ির একটি সংস্কারের অংশ হতে পেরে তাঁরা গর্বিত। অন্য তিনটি ঘড়ি রয়েছে মুম্বইয়ের আইআইইএসটি শিবপুর ক্যাম্পাসে, লোয়ার পারেল রেলওয়ে ওয়ার্কশপে এবং চেন্নাই পুরসভায়।
টাওয়ার সংস্কারের কাজ শুরু হয় ২৪ জুলাই ২০২৫-এ। এবং শেষ হয় ২২ ডিসেম্বর। পরে ঘড়ির যন্ত্রাংশ মেরামতের কাজ সম্পন্ন হয়। পুরসভার হাতে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের আগে পরীক্ষাও করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হলেই বহু বছর ধরে সচল থাকবে এই ঐতিহ্যবাহী সময়-সাক্ষী।