সন্দীপ ঘনিষ্ঠ প্রসূনের বদলি ঘিরে বিতর্কফের বিতর্কে ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতাল। কলকাতার এই সরকারি হাসপাতালের একটি নির্দেশ ঘিরেই যত সমস্যা। সেই অর্ডারে লেখা রয়েছে, হাসপাতালের মেডিক্যাল রেকর্ড বিভাগে ডিইও হিসেবে কর্মরত প্রসূন চট্টোপাধ্যায়কে পেডিয়াট্রিক মেডিসিন বা শিশুরোগ বিভাগে ট্রান্সফার করা হয়েছে। আর এই নির্দেশিকা সামনে আসার পরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আঙুল তুলতে শুরু করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। কারণ, আরজি কাণ্ডের দিন সেই বিশেষ সেমিনার রুমে ন্যাশনাল মেডিক্যালের এই কর্মীকে দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ। এমনকী পরবর্তী সময় তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। তাঁকে আটকও করা হয়। আর সেই ব্যক্তিকে কীভাবে পেডিয়াট্রিক মেডিসিন বিভাগে ট্রান্সফার করা হল, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।
১৯, মে একটি নির্দেশিকা জারি করে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার কাম ভাইস প্রিন্সিপ্যাল। সেখানেই প্রসূনকে মেডিক্যাল রেকর্ড বিভাগ থেকে পেডিয়াট্রিক মেডিসিন বিভাগে ট্রান্সফার করার কথা বলা হয়েছে। আর এই নির্দেশের প্রতিলিপি সামনে আসার পরই মুখ খুলেছে এনএমও (শিক্ষক চিকিৎসক, চিকিৎসক ও মেডিক্যাল পড়ুয়াদের সংগঠন)। তাদের দাবি, আরজি কর কাণ্ডের দিন সেই সেমিনার রুমে দেখা যায় প্রসূনকে। তিনি আরজি কর হাসপাতালের তৎকালীন প্রিন্সিপ্যাল সন্দীপ ঘোষের কাছের লোক। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সেই ব্যক্তিকে কেন পেডিয়াট্রিক মেডিসিনের মতো জরুরি বিভাগে পোস্টিং দেওয়া হল, এই নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় তদন্তেরও দাবি জানান হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে এনএমও দক্ষিণবঙ্গের সাধারণ সম্পাদক অর্ণপ কুমার পাল বলেন, 'প্রসূন চট্টোপাধ্যায় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের একজন কর্মচারী। ইনি পারমানেন্ট নন। টেম্পোরারি একজন কর্মচারী। তাকে আরজি কর কাণ্ডের দিন ওই সেমিনার হলে দেখা যায়। একজন ব্যক্তি যিনি ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের একজন কর্মচারী, তিনি আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ওই সেমিনার রুমে কী করছিলেন? এখান থেকে আমাদের মনে একটা প্রশ্ন জাগে। পরবর্তীকালে জানা যায় উনি হচ্ছে সন্দীপ ঘোষের খুব ঘনিষ্ঠ। তৎকালীন শাসকদলের উনি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। আন্দোলনও হয় ওনার বিরুদ্ধে। কিন্তু সেই সময় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি এমআরডি বিভাগে পোস্টিং ছিলেন।'
যদিও রাজ্যে পালা বদলের সুযোগ নিয়ে বর্তমান কর্তৃপক্ষ প্রসূনকে পেডিয়াট্রিক বিভাগে ট্রান্সফার করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করলেন অর্ণপ। তাঁর কথায়, 'এখন পশ্চিমবঙ্গের একটা রাজনৈতিক পালাবদল ঘটছে। এই সুযোগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আবার মূল ধারায় ওনাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন বলে আমরা মনে করছি।'
এমন পরিস্থিতিতে প্রসূনের বিরুদ্ধে আবার বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার দাবি জানাচ্ছে এনএমও এবং চিকিৎসকদের একাংশ। তাদের দাবি, আরজি কর মামলায় এবং আর্থিক দুর্নীতিতে এই সন্দীপ ঘোষ ঘনিষ্ঠ কতটা যুক্ত, সেটা দেখা হোক। সেখানে উনি দোষী সাব্যস্ত হলে যোগ্য শাস্তি হোক। উনি নির্দোষ হলে কোনও সমস্যা নেই। কাজ করুন।
পাশাপাশি এনএমও এর পক্ষ থেকে জানান হয়, সবে এই অর্ডার তারা হাতে পেয়েছেন। এরপর নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে স্বাস্থ্য ভবনে এবং সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগ জানান হবে।
এই সমস্ত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে প্রসূন চট্টোপাধ্যায়কে ফোন করা হয়। তিনি বলেন, 'কোনও মন্তব্য করব না।' ও দিকে হাসপাতালের এমএসভিপি ডা: অর্ঘ্য মৈত্র বিষয়টা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি।