শমীক ভট্টাচার্য কালীপুজোর পর কি বাংলার শিল্পচিত্রে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতে চলেছে? মুম্বই থেকে শিল্পপতিদের একটি দল পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখাচ্ছে? এই মুহূর্তে শিল্পমহলে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় এটিই। BJP-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য ঘিরেই তৈরি হয়েছে এই জল্পনা। তাঁর দাবি, নবি মুম্বইয়ের একদল তরুণ শিল্পোদ্যোগী পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। শুধু তাই নয়, কালীপুজোর পর শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়কে মুম্বইয়ে আমন্ত্রণ জানাতে চান তাঁরা। সেখানে আরও বড় পরিসরে বৈঠক হওয়ার কথা। কিন্তু ঠিক কী ধরনের বিনিয়োগ আসতে পারে? কত টাকা বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে? তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, সম্প্রতি শিল্পমন্ত্রীকে সামনে রেখে বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি বৈঠক হয়েছে। সেখানে তিনি নিজেও আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের সমস্ত বিষয় প্রকাশ্যে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নবি মুম্বইয়ের একদল তরুণ শিল্পপতি ও উদ্যোগপতি পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে আগ্রহী। তাঁদের অনেকেরই বাংলার সঙ্গে পারিবারিক বা শিকড়ের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁরা বাংলায় ফিরে এসে নতুন করে শিল্পে বিনিয়োগ করতে চান বলে দাবি শমীকের।
এখানেই শেষ নয়। ওই বৈঠকে এমন দু’জন শিল্পোদ্যোগীও উপস্থিত ছিলেন, যাঁদের ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাঁরা নিজেদের ব্যবসা আরও সম্প্রসারণ করতে চান। পাশাপাশি অন্য বিনিয়োগকারীদেরও বাংলায় নিয়ে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন BJP-র রাজ্য সভাপতি।
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য অনুযায়ী, বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, শিল্পের জন্য কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যায়, জমির নীতি কেমন হবে, আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি কী, জলসম্পদের ব্যবহার কীভাবে করা সম্ভব। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে কী ধরনের আর্থিক প্রণোদনা বা ইনসেন্টিভ দেওয়া যেতে পারে, তা নিয়েও কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অতীতে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের জমি নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। সিঙ্গুর থেকে নন্দীগ্রাম, রাজ্যের শিল্পায়নের আলোচনায় জমির প্রশ্ন বারবার সামনে এসেছে। তাই নতুন করে বিনিয়োগ আনতে হলে সরকারকে এমন জমিনীতি তৈরি করতে হবে, যাতে শিল্পের প্রয়োজন মেটে, আবার কৃষক ও স্থানীয় মানুষের অধিকারও সুরক্ষিত থাকে।
শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, বৈঠকে মাঝারি কর্পোরেট সংস্থা এবং MSME ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এই ক্ষেত্রের শিল্পোদ্যোগীরা কীভাবে দ্রুত রাজ্যে যোগ দিতে পারেন এবং তাঁদের ব্যবসা কীভাবে সম্প্রসারিত হতে পারে, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তার প্রভাব রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পড়তে পারে। কারণ ছোট ও মাঝারি শিল্প সবসময় বড় শহরকেন্দ্রিক হয় না। উপযুক্ত জমি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বাজারের সুযোগ থাকলে জেলা স্তরেও শিল্প গড়ে উঠতে পারে।
শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, 'রাতারাতি পরিস্থিতি বদলে দেওয়া যাবে না। আজ ঘোষণা করলেই কাল থেকে সব বেকার যুবকের চাকরি হয়ে যাবে, এমনটা বাস্তবসম্মত নয়। রাজ্যের বাইরে চলে যাওয়া দক্ষ ও মেধাবী তরুণদের ফিরিয়ে আনতেও সময় লাগবে। তবে শিল্পের পরিবেশ তৈরি হলে ধীরে ধীরে সেই সুযোগ তৈরি হতে পারে।'
রিপোর্টার: সুজয় ঘোষ