শিয়ালদা স্টেশন চত্বরে বসতে চলেছে স্মারক মূর্তি।দেশভাগে সব হারানো মানুষদের স্মরণে শিয়ালদা স্টেশন চত্বরে একটি 'স্মারক মূর্তি' নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেজন্য একটি জায়গাও বেছে রাখা হয়েছে।
৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত জানান,'পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী শহরের এই ঐতিহ্যবাহী স্টেশন প্রাঙ্গণে ওই 'স্মারক মূর্তি'র জন্য জায়গা ঠিক করেছে ভারতীয় রেল'। সংস্কৃতি মন্ত্রকের উদ্যোগে নির্মিত এই স্মারকটির কাজ আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
চলতি বছর ৯ থেকে ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত 'হর ঘর তিরঙ্গা' কর্মসূচি উদযাপিত হবে। সেই উপলক্ই সংস্কৃতি মন্ত্রকের তরফে এই সূচনা পর্বের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। এই সময়সীমার মধ্যে দেশজুড়ে একাধিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের।
ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় মুক্তকলা কেন্দ্রের সদস্য সচিব সচ্চিদানন্দ জোশী জানান, বিগত কয়েক বছর ধরেই ১৪ অগাস্ট দিনটিকে 'দেশভাগ বিভীষিকা স্মৃতি দিবস' হিসেবে পালন করা হচ্ছে। চলতি বছরেও এই বিশেষ দিনটি স্মরণে পঞ্জাবের অমৃতসর এবং পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বড় আকারে কর্মসূচি করা হবে।
শিয়ালদার প্রস্তাবিত স্মারকটি ঠিক কী হতে চলেছে, এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জোশী জানান, এটি বিমূর্ত ভাস্কর্য হতে চলেছে। দেশভাগের যে নিদারুণ যন্ত্রণা লক্ষ লক্ষ মানুষকে সইতে হয়েছিল, ভাস্কর্যটিতে মূলত সেই ব্যথাই ফুটে উঠবে।
তিনি আরও জানান, স্মারকটি যেহেতু কলকাতায় তৈরি হচ্ছে, তাই এটি পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সেই সমস্ত উদ্বাস্তুদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবে, যাঁদের দেশভাগের জাঁতাকলে পড়ে নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে চলে আসতে হয়েছিল।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের শৃঙ্খলমুক্ত হয়ে ভারত স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। কিন্তু দেশ দ্বিখণ্ডিত হয় ভারত ও পাকিস্তানে। তৎকালীন অবিভক্ত পঞ্জাব পশ্চিমে এবং অবিভক্ত বাংলা প্রদেশ পূর্বে দ্বিখণ্ডিত হয়ে পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তান হয়েছিল। দেশের দুই সীমান্তেই নজিরবিহীন রক্তপাত এবং নরসংহারের বিভীষিকা দেখতে হয়েছিল দেশকে। ১৯৪৬ সালে তৎকালীন কলকাতা দেখেছে ভয়াবহ হিংসা।