মাটি সঙ্কটে ভাঁড়ের আকাল, কলকাতার চায়ের দোকানগুলিতে কী পরিস্থিতি?

বাঙালির চা-সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে মাটির ভাঁড়। রাস্তার ধারের চায়ের দোকানে ধোঁয়া ওঠা ভাঁড়ে চায়ে চুমুক দিতে দিতে আড্ডা, এ যেন এক চিরচেনা ছবি। কিন্তু সেই ভাঁড়ই এখন ক্রমশ উধাও হতে বসেছে কলকাতার বহু চায়ের দোকান থেকে। তার জায়গা নিচ্ছে কাগজের কাপ। ফলে অনেক চা-প্রেমীর মুখেই দেখা যাচ্ছে অসন্তোষের ছাপ।

Advertisement
মাটি সঙ্কটে ভাঁড়ের আকাল, কলকাতার চায়ের দোকানগুলিতে কী পরিস্থিতি?শেক্সপিয়র সরণীর চা বিক্রেতা রাকেশ। ছবি: প্রতিবেদক
হাইলাইটস
  • বাঙালির চা-সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে মাটির ভাঁড়।
  • রাস্তার ধারের চায়ের দোকানে ধোঁয়া ওঠা ভাঁড়ে চায়ে চুমুক দিতে দিতে আড্ডা, এ যেন এক চিরচেনা ছবি।

বাঙালির চা-সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে মাটির ভাঁড়। রাস্তার ধারের চায়ের দোকানে ধোঁয়া ওঠা ভাঁড়ে চায়ে চুমুক দিতে দিতে আড্ডা, এ যেন এক চিরচেনা ছবি। কিন্তু সেই ভাঁড়ই এখন ক্রমশ উধাও হতে বসেছে কলকাতার বহু চায়ের দোকান থেকে। তার জায়গা নিচ্ছে কাগজের কাপ। ফলে অনেক চা-প্রেমীর মুখেই দেখা যাচ্ছে অসন্তোষের ছাপ।

চা বিক্রেতাদের দাবি, গত প্রায় এক মাস ধরে ভাঁড়ের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। কোথাও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, কোথাও আবার টাকা দিয়েও ভাঁড় পাওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, অনেক দোকান বাধ্য হয়ে কাগজের কাপে চা পরিবেশন করছে।

থিয়েটার রোড এলাকার এক চা বিক্রেতা রাকেশ জানান, এখনও পুরোপুরি ভাঁড়ের সরবরাহ বন্ধ না হলেও তা পাওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। এক্সাইড মোড়ের আর এক চা বিক্রেতার কথায়, 'অনেক ক্রেতাই ভাঁড়ে চা খেতে চান। কিন্তু আমাদের কাছে ভাঁড়ই নেই। সরবরাহকারীদের কাছেও পর্যাপ্ত মজুত নেই।'

এই সংকটের মূল কারণ মাটির অভাব বলে দাবি করছেন ভাঁড় প্রস্তুতকারকেরা। ওয়েস্ট বেঙ্গল আর্থ পট মেকার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, এতদিন ডায়মন্ড হারবার, কুলতলি, হাওড়া-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মাটি এনে ভাঁড় তৈরি করা হত। কিন্তু বর্তমানে মাটি সংগ্রহে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

তাঁদের দাবি, আগে যেসব উৎস থেকে মাটি সংগ্রহ করা হত, সেগুলির অনেকটাই এখন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নতুন সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের আশাও দেখছেন তাঁরা।

হাওড়া উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক উমেশ রাইও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন। সমাজমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, মাটি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এতদিন অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই মাটি তোলা হত। বর্তমানে সেই প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে। তবে সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

Advertisement

শুধু চায়ের ভাঁড়ই নয়, মাটির অভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন প্রদীপ ও অন্যান্য মৃৎশিল্প সামগ্রী প্রস্তুতকারকেরাও। বিশেষ করে উৎসবের মরশুমের আগে এই পরিস্থিতি তাঁদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

চা বিক্রেতাদের হিসেব বলছে, আগে ১০০টি ভাঁড় কিনতে খরচ হত ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। এখন সেই একই পরিমাণ ভাঁড়ের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০ টাকা। আবার অনেক ক্ষেত্রে চড়া দাম দিয়েও ভাঁড় জোগাড় করা যাচ্ছে না।

ফলে প্রশ্ন উঠছে, বাঙালির চায়ের আড্ডা কি এবার মাটির ভাঁড় হারিয়ে ফেলবে? যদিও চা বিক্রেতা ও ভাঁড় প্রস্তুতকারক, দু’পক্ষই আশাবাদী। তাঁদের আশা, প্রশাসনিক উদ্যোগে দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে এবং আবারও কলকাতার চায়ের দোকানে ফিরবে সেই চেনা মাটির ভাঁড়।

 

POST A COMMENT
Advertisement