সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী ও শমীক ভট্টাচার্যদমদম বিমানবন্দরের ভিতরে রানওয়ে লাগোয়া বাঁকড়া মসজিদকে সরানো ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে। এহেন পরিস্থিতিতে বড় ঘোষণা করলেন জমিয়ত উলেমা এ হিন্দের পশ্চিমবঙ্গের প্রধান সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। জানালেন, আগামিকাল অর্থাত্ শুক্রবার বাঁকড়া মসজিদে নমাজ পড়তে যাবেন তিনি। যদি তাঁদের বাধা দেওয়া হয়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা হবে। কোনও মাইকিং বা রাস্তায় ধর্না নয়। অন্যদিকে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ওই এলাকায় যদি মসজিদ না হয়ে হনুমানজির মন্দিরও থাকত, সেটিকেও সরানো হত।
বাঁকড়া মসজিদ নিয়ে ঠিক কী বিতর্ক?
এয়ারপোর্টের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য বাঁকড়া মসজিদকে সরানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই মসজিদে নমাজ পড়া বন্ধ। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এয়ারপোর্টের সম্প্রসারণ ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ওই মসজিদ অন্যত্র সরানো দরকার। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, মসজিদটির জন্য একধারে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ যাত্রীদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে। কারণ, কারা এই বিমানবন্দরের ভেতরে নমাজ পড়তে ঢুকছেন, তাঁদের জন্য কোনও বৈধ পাস ইস্যু হয় না। শুধুমাত্র আধার কার্ডের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে পৌঁছে তাঁরা নমাজ পড়েন। এছাড়া মসজিদটি রানওয়ে সংলগ্ন হওয়ায় সেকেন্ডারি রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। সেকেন্ডারি রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে রয়েছে এই মসজিদ। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সুরক্ষাবিধি স্পষ্ট বলছে, রানওয়ে থেকে যে কোনও কাঠামোর ন্যূনতম দূরত্ব অন্তত ২৪০ মিটার হওয়া বাধ্যতামূলক।
#WATCH | Kolkata, West Bengal: On entry to 136-year-old Kolkata airport mosque suspended, President Bankra Masjid Committee, former minister and president of West Bengal State Jamiat Ulama-i-Hind Siddiqullah Chowdhury says, "Tomorrow, we will hold peaceful prayers. Something… pic.twitter.com/NM4eAbyiR3
— ANI (@ANI) July 16, 2026
বাঁকড়া মসজিদে নমাজ পড়তে যাবেন সিদ্দিকুল্লাহরা
আজ অর্থাত্ বৃহস্পতিবার সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী জানান, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় তাঁরা বাঁকড়া মসজিদে নমাজ পড়তে যাবেন। সিদ্দিকুল্লাহ বলেন, 'আমরা আমাদের মুসলিম ভাইদের অনুরোধ করেছি, তাঁরা যেন এই ব্যাজ পরে জুম্মার নমাজ পড়তে যান, আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের প্রতিবাদ জানিয়ে ফিরে আসেন। এখানে কোনও মিছিল, বিক্ষোভ বা অশান্তির পরিকল্পনা নেই। মাইকিং হবে না, কোনও মিছিল বা বিক্ষোভ হবে না, কারও উপর জোরজবরদস্তিও করা হবে না। আমরা শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় মসজিদের গেটে গিয়ে নামাজ আদায় করব। এটি আমাদের মসজিদ এবং আইনসম্মতভাবে অনুমোদিত।'
এরপরেই কেন্দ্রের একটি চিঠি দেখিয়ে সিদ্দিকুল্লাহর দাবি, 'এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া, ভারত সরকারের দেওয়া সরকারি চিঠি। এই নথিতে মসজিদ সংক্রান্ত অনুমতির কথা রয়েছে। একইভাবে এখানে নমাজ ও রমজানে ইফতারেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই সমস্ত আসল নথি আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা আইনের পথেই চলব, কোনও বেআইনি কাজ করব না।'
'মুসলিমরা শুধু নমাজ পড়তে যাবেন'
সিদ্দিকুল্লাহর বক্তব্য, 'আমরা ১১ তারিখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তিনবার ফোন করেছি। এয়ারপোর্ট থানায় এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানায় দু’ঘণ্টা ধরে ঘুরেছি। কিন্তু কেউ আমাদের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজনও মনে করেননি। তবুও আমরা বলতে চাই, আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ। গোটা বাংলায় এমন একটি ঘটনাও দেখানো যাবে না, যেখানে আমরা আইন ভেঙেছি। আমরা সব সময় আইন মেনেই চলেছি। মুসলিমরা শুধু নামাজ পড়তে যাবেন। কোনও অশান্তি হবে না, কেউ রাস্তায় নামবেন না, কোনও জোর জবরদস্তি হবে না, মাইকিংও হবে না। আমরা শুধু এই ব্যাজ পরে শান্তিপূর্ণভাবে নমাজ আদায় করতে যাব। এতে আপত্তির কী আছে?'
রাজ্যের প্রাক্তন গ্রন্থাগার মন্ত্রীর দাবি, যদি সত্যিই উন্নয়নমূলক কাজের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে অন্তত একটি নোটিশ দেওয়া যেত। গত ২৪ বছর ধরে এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁদের সরকারি যোগাযোগ রয়েছে। একটি চিঠি দেওয়া বা আলোচনায় বসতে তাঁদের অসুবিধা কোথায় ছিল? তাঁদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা ঠিক হয়নি। এলাকায় হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলেমিশে থাকেন। আমরা বারবার পুনর্বাসন বা স্থানান্তরের কথা বলছি না। এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিষয় নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয়। কেন্দ্র সরকারের উচিত দারুল উলুম দেওবন্দ, জমিয়তে উলেমা-এ-হিন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলোচনা করা। প্রয়োজন হলে আমরাও তাঁদের সঙ্গে থাকব, যাতে আইন মেনে এবং আলোচনার মাধ্যমে কীভাবে স্থানান্তরের সমাধান করা যায়, তা নির্ধারণ করা যায়। সিদ্দিকুল্লাহ বলেন, 'আমরা বলেছি, ১ কোটি মুসলমান ওই মসজিদে নমাজ পড়তে যাবেন। মিছিল হবে না, মাইকিং হবে না।'