বকরি ইদ নিয়ে কী বললেন অজয় নন্দ?বৃহস্পতিবার ছিল বকরি ইদ। আর কোনও রকম ঝামেলা-অশান্তি ছাড়াই এবার কলকাতায় এই উৎসব পালিত হয়েছে। রেড রোডের বদলে নমাজ পড়া হয়েছে ব্রিগেডে। আর এই জন্য কলকাতা পুলিশের সমস্ত স্তরের কর্মীদের ধন্যবাদ জানালেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ। পাশাপাশি তিনি পুলিশ বাহিনীকে বিধানসভা নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে করার জন্য অভিনন্দন জানান।
কলকাতা পুলিশের কর্মীদের উদ্দেশে একটি সরকারি বার্তা দেন কমিশনার। সেখানে তিনি তাঁদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান, কঠিন ও চাপে ভরা পরিস্থিতির মধ্যেও পুলিশকর্মীরা একত্রিতভাবে চেষ্টা করেছেন। তার ফলেই শহরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা গিয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গিয়েছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা সম্ভব হয়েছে।
এই বার্তায় তিনি লেখেন, 'নমাজ, কোরবানি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ করা এবং উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। এটা আপনাদের অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বের প্রতি অটল নিষ্ঠা ছাড়া সম্ভব হতো না। আপনাদের সবার চেষ্টা শহর জুড়ে জনগণের নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং আইনের শাসন বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।'
পাশাপাশি আগামিদিনেও শহরের পুলিশকে একইভাবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান কমিশনার।
এই বার্তাতেই মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে কলকাতা পুলিশের 'জিরো টলারেন্স' নীতির কথা নতুন করে মনে করিয়ে দেন কমিশনার। সেই সঙ্গে শহরকে নিরাপদ ও অপরাধ প্রতিরোধে আরও সক্রিয় হওয়ার বার্তাও দেন।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শুরুতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সামনে রেখে অজয় নন্দকে কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদে নিয়োগ করা হয়। বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত কলকাতাকে তিনি সামলেছেন। এরপর সামলে নিলেন বকরি ইদও।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন, নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়। এরই অংশ হিসেবে নন্দকে নিয়ে আসা হয় কলকাতা পুলিশের কমিশনার হিসেবে। আর আপাতত তিনি নিজের কাজে 'সফল' হয়েছেন।
এই প্রসঙ্গে বলি, সাধারণত কলকাতায় রেড রোডেই বকরি ইদ পালিত হতো। কিন্তু যানজটের কথা মাথায় রেখে এ বছর আর সেখানে ইদের নমাজ অনুষ্ঠান হয়নি। বরং ব্রিগেডে হয়েছে নমাজ। আর তাতে অংশগ্রহণ করেছেন প্রচুর মানুষ। তাঁরা বেশ খুশিই হয়েছেন এই পরিবর্তনে।