ফাইল ছবিমে মাসের শুরুতেই তুষারের সাদা চাদরে ঢেকে গেল দার্জিলিং ও সিকিমের একাধিক পার্বত্য এলাকা। অকাল তুষারপাত ঘিরে উচ্ছ্বসিত পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আশা, আবহাওয়ার এই মনোরম পরিবর্তনের জেরে আগামী কয়েক সপ্তাহে পাহাড়মুখো পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে।
বুধবার সিকিমের নাথু-লা এবং দার্জিলিং জেলার সান্দাকফুতে ভারী তুষারপাতের খবর মিলেছে। প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ভারত-চিন সীমান্তের নাথু-লায় সকাল থেকেই বরফ জমতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং যান চলাচল সচল রাখতে দ্রুত রাস্তা পরিষ্কারের কাজে নামে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ স্থান সান্দাকফুতেও ভোরের দিকে তুষারপাত হয়। ১১ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থিত এই পর্যটনকেন্দ্র মুহূর্তে সাদা বরফে ঢেকে যায়। পাহাড়ের এই অপূর্ব রূপ দেখতে পর্যটকদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টা নাগাদ তুষারপাত শুরু হয়েছিল এবং কিছু সময় স্থায়ী হয়। গত কয়েক বছর ধরেই মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে এই এলাকায় তুষারপাত হচ্ছে। গত বছরও ১ মে বরফ পড়েছিল। এখন আবহাওয়া পরিষ্কার রয়েছে। ফলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পর থেকেই দার্জিলিং ও সিকিমে পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই বহু পর্যটক পাহাড়ে আসতে শুরু করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ১৫ জুন পর্যন্ত ভালো পর্যটন মরশুম চলতে পারে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসও ইতিবাচক। গ্যাংটকের আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে দার্জিলিং ও সিকিমে আকাশ পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী কয়েকদিন ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা নেই।
আবহাওয়াবিদ গোপীনাথ রাহা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে ঘন ঘন নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্তের জেরে এই অঞ্চলে বৃষ্টি ও ঠান্ডা আবহাওয়া বজায় ছিল। সেই কারণেই মে মাসেও উঁচু পার্বত্য এলাকায় তুষারপাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে আগামী দিনে আবহাওয়ার উন্নতি হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।