সুখেন্দুশেখর রায় ও শুভেন্দু অধিকারীসেই আরজি কর কাণ্ড থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকাশ্য সমালোচনা শোনা যাচ্ছিল মাঝে মধ্যেই। নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পরে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। কয়েকদিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছিলেন তিনি। লিখেছিলেন, 'পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অসহনীয় নৈরাজ্যের অবসান ঘটিয়েছেন।' এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ সুখেন্দুশেখর। বললেন, 'নন্দীগ্রাম আন্দোলন শুভেন্দু না থাকলে সফল হত না।'
শুভেন্দু সরকারের প্রশংসায় সুখেন্দুশেখর
সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে সুখেন্দুশেখর বললেন, 'শুভেন্দু অধিকারীর পুরো পরিবারের সঙ্গে আমার ভাল খাতির রয়েছে। প্রত্যেককে ব্যক্তিগত ভাবে চিনি। এখনও শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে যে যে কাজ নতুন করেছে, তাতে বাংলার জনগণ অত্যন্ত খুশি। সঠিক রাস্তায় চলছে সরকার। এই রকম ভাবেই সরকার চলা উচিত।'
#WATCH | Kolkata | TMC MP Sukhendu Sekhar Roy says, "Regarding the work undertaken so far by the new government under the leadership of Suvendu Adhikari, the steps the government has taken, the general public is currently very pleased. The government is moving in the right… pic.twitter.com/4wRTTvtkns
— ANI (@ANI) May 28, 2026
নন্দীগ্রাম আন্দোলন শুভেন্দু না থাকলে সফল হত না
এরপরেই শিশির অধিকারীর প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূল সাংসদ বললেন, 'শুভেন্দুকে চিনি, ওঁর সঙ্গে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদেরও অনেককে বহু বছর ধরে চিনি। শিশিরদার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ৪০ বছর ধরে। ওঁরও ৪০ বছরের বেশি রাজনৈতিক কেরিয়ার। শুভেন্দুরও রাজনৈতিক কেরিয়ার অনেক দীর্ঘ। এত কম বয়সে বড় বড় পদ সামলেছেন,সাংসদ ছিলেন, বিধায়ক ছিলেন, রাজ্যের মন্ত্রী ছিলেন। শুভেন্দুর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে, প্রশাসনিক কাজেরও অভিজ্ঞতা রয়েছে। আর শুভেন্দু ভীষণ পরিশ্রমী। অত্যন্ত পরিশ্রমী নেতা। আমি এরকম পরিশ্রমী নেতা খুব কম দেখেছি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে। নন্দীগ্রাম আন্দোলন শুভেন্দু না থাকলে সফল হত না। শুধু নন্দীগ্রামই নয়, তৃণমূলের বহু পার্টিকর্মী যখন সিপিএম-এর অত্যাচারে ঘরছাড়া ছিল, তখন শুভেন্দু তাদের শেল্টার দিয়েছিলেন।'
'দুটো পাওয়ার সেন্টার কখনও দলে থাকা উচিত নয়'
গত মঙ্গলবারও অর্থাত্ ২৬ মে এক্স হ্যান্ডেলে জুলিয়াস সিজার হত্যার ঘটনা টেনে লেখেন, 'পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অসহনীয় নৈরাজ্যের অবসান ঘটিয়েছেন।' একটি বাংলা নিউজ চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, 'আমি রাজ্যসভায় যে ৩ বার নির্বাচিত হয়েছি, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই। কিন্তু, তৃতীয়বার যখন আমার নমিনেশন হল, সেবার আমার নাম বাদ দেওয়ার কথা হয়েছিল৷ তাঁরা সাকসেসফুল হতে পারেননি৷ মমতা ব্যানার্জির জন্য৷' এমনকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতার টানাপোড়েন নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন সুখেন্দুশেখর। বললেন, 'দুটো পাওয়ার সেন্টার কখনও দলে থাকা উচিত নয়। কংগ্রেসে একসময় ছিল, কংগ্রেসও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।'