মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নাকে কটাক্ষ শুভেন্দু অধিকারীরতৃণমূল কংগ্রেসের চরম দুর্দিন। যে কোনও মুহূর্তে দলটি ভেঙে যেতে পারে। একের পর এক কাউন্সিল গ্রেফতার। দুর্নীতির পর্দাফাঁস হচ্ছে রোজ। এহেন সময়ে অস্তিত্ব রক্ষার শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মঙ্গলবারের ধর্নাকে তীব্র কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নায় ১০ জন বিধায়ককেও পাওয়া গেল না
বস্তুত, যে দলের ৮০ জন বিধায়ক (ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করায় কমে ৭৮), সেই তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নায় ১০ জন বিধায়ককেও পাওয়া গেল না। যোগ দিলেন গুটি কয়েক সাংসদ। অর্ধেকের বেশি চেয়ারই খালি পড়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের এই দুরাবস্থাকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বললেন, 'দলটির অবস্থা ফলতার মতো। এরকম দুর্দিন আসবে, আমিও জানতাম না।'
'এই দলটার অবস্থা একেবারে ফলতার মতোই'
শুভেন্দুর কথায়, 'আমাকে কেউ একটা ছবি পাঠিয়েছিল। এই রকম দুর্দিন আসবে, ভাবিনি। গুটি কয়েক লোকও ছিল না। খুব বেশি হলে দেড়শো লোক জড়ো হয়েছিল। ২০০ মতো সাংবাদিক। রাজ্যসভা, বিধানসভা মিলিয়ে এত এমপি, এমএলএ, শুনলাম মাত্র ৬ জন বিধায়ক এসেছিলেন। এই দলটার অবস্থা একেবারে ফলতার মতোই।'
গদ্দারদের নিশানা করেন মমতা
মঙ্গলবারের ধর্নায় মমতার পাশে দেখা যায় ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, অসীমা পাত্রদের মতো কয়েকজন পরিচিত মুখকে । সাংসদদের মধ্যে ছিলেন ডেরেক ও'ব্রায়েন, মালা রায়, সামিরুল ইসলাম। দল ভাঙার ইস্যুতে গদ্দারদের নিশানা করেন মমতা। বলেন, 'শুনুন, যারা অন্যায় করেছে, তারাই আজ গদ্দারিটা বেশি করছে ৷ পার্টি কোনওদিন কারও কাছে পয়সাকড়ি নেয়নি ৷ কিছু বেনোজল, ক্ষমতায় যারাই থাকে ঢুকে যায় এবং তারা সুযোগটা নেয় ৷ আবার যখন অন্য কোনও রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসে, তখন সেখানে তারা চলে যায় ৷ যারা ভাবছেন, এরা তাদের অ্যাসেট, তারা কিন্তু অ্যাসেট নয় ৷ ওরা আমাদের দল থেকে চলে গিয়েছে, আমরা বেঁচে গিয়েছি ৷ কারণ, দলটাকে আমরা নতুন করে তৈরি করব যাতে এই ধরনের লোক আর না আসে ৷' তিনি আরও বলেন, 'যারা যারা ভয় পাচ্ছে, পার্টির থেকে টিকিট পেয়ে এমএলএ হয়েছে ৷ পার্টির থেকে টিকিট পেয়ে এমপি হয়েছে৷ এতদিন ক্ষমতা এনজয় করেছেন৷ আজকে যেই পার্টি হেরে গিয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে অন্য পার্টির সঙ্গে আন্ডারস্ট্যান্ডিং৷'