শুক্রবার বিধানসভার বাইরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন শুভেন্দু। ইডি বাধা না দিয়ে ভালই করেছে। মত শুভেন্দু অধিকারীর। শুক্রবার বিধানসভার বাইরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন। মুখ্যমন্ত্রী ও আইপ্যাকের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। বৃহস্পতিবার সল্টলেকের আইপ্যাক দফতরে ইডি-র তল্লাশির মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর ফাইল বের করে নিয়ে আসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝড় উঠেছে রাজ্য রাজনীতিতে। তার মধ্যে শুভেন্দুর এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল।
এদিন এক সাংবাদিক জানতে চান, মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিশ যখন আইপ্যাকের অফিস থেকে ফাইল নিয়ে বেরিয়ে এলেন, তখন ইডি-র কেন্দ্রীয় বাহিনী কি তাঁদের বাধা দিতে পারত না? উত্তরে শুভেন্দু বলেন, 'করতে গেলেই সমস্যা হত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচুর পুলিশকর্মী নিয়ে গিয়েছিলেন।' তাঁর অভিযোগ, 'গোটা বিষয়টি এক ধরনের গুণ্ডামি।' শুভেন্দু বলেন, 'রাজীব কুমারও সারদা মামলায় অভিযুক্ত। এটা পুলিশের কাজের মধ্যে পড়ে না। পুলিশ নীতি লঙ্ঘন করেছে।' তাঁর দাবি, ইডি বাধা না দিয়ে সঠিক কাজই করেছে। 'রাজ্যের মানুষ তো সব দেখেছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে মুখ্যমন্ত্রী চোরেদের, দুর্নীতিগ্রস্তদের আটকাতে যান,' কটাক্ষ করেন।
শুভেন্দুর আরও দাবি, ইডি-র বিবৃতি অনুযায়ী আইপ্যাকের বিরুদ্ধে হাওলা কেস, কয়লার টাকা, গোয়া ভোটে উদ্ধার হওয়া অর্থ এবং দিল্লির লিকার স্ক্যামের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এখানেই থামেননি বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, 'আমি তথ্যপ্রমাণ দিচ্ছি। কেন্দ্রীয় সরকারের জল জীবন মিশনে রাজ্য সরকার ৮ হাজার কোটি টাকা পেয়েছিল। সেই টাকা পুরো হাওলা হয়ে গিয়েছে।' তাঁর বক্তব্য, 'কেজি কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি সংস্থা দক্ষিণ ২৪ পরগনায় রাজ্য পিডব্লুডি থেকে ১৭৮ কোটি টাকার বরাত পায়। পরে ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের সময় সেই সংস্থা ১৬ কোটি টাকা আইপ্যাকের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে।' বেসরকারি ব্যাঙ্কের নাম ও চেক নম্বর উল্লেখ করে দাবি করেন শুভেন্দু।
মুখ্যমন্ত্রীর তড়িঘড়ি আইপ্যাক অফিসে যাওয়ার সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। শুভেন্দুর অভিযোগ, 'লক্ষ্মীপুজোর আগের দিন কলকাতায় বৃষ্টির সময় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী বাড়িতে বসে ছিলেন উত্তরবঙ্গে বাঁধভাঙা বৃষ্টিতে ৫০ জনের মৃত্যুর সময়ও সঙ্গে সঙ্গে যাননি মুখ্যমন্ত্রী। কার্নিভাল সেরে ২ দিন পর গিয়েছিলেন। এখানে এত তড়িঘড়ি কেন এলেন?'
বিরোধী দলনেতার দাবি, এই ঘটনায় আলাদা করে তথ্যপ্রমাণের প্রয়োজন নেই। 'সব কিছু সবার চোখের সামনে হয়েছে,' বলেন তিনি। তাঁর কথায়, 'পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দলমত নির্বিশেষে কঠোর পদক্ষেপ চায়। এখন নজর আদালতের দিকে; কোর্ট কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই দেখার।'
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ইডি-র তল্লাশির সময়ই আইপ্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে সবুজ রঙের ফাইল হাতে বেরিয়ে আসেন তিনি। পরে সল্টলেকের আইপ্যাক দফতরেও পৌঁছোন। পুলিশকর্মীরা ফাইলের গোছা মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ির পিছনের আসনে তুলে রাখেন। প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে ছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, নির্বাচনের আগে তাঁর দলের নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। এই ঘটনার পর থেকেই কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত এবং তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে রাজ্য রাজনীতিতে।