শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রচারে নেমে পড়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই প্রচারে এবার তিনি পাশে চান অভয়ার মা-কে। জনসমক্ষেই একথা জানিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। আজ, বৃহস্পতিবার তিনি পানিহাটিতে অভয়ার মা ও বাবার সঙ্গে দেখা করেন। সেখানেই অভয়ার মা-কে ভবানীপুরে আসার জন্য অনুরোধ করেন।
পানিহাটি কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন খোদ অভয়ার মা। তিনি নিজেই বিজেপির হয়ে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই প্রস্তাব মেনে নিয়েছি দিল্লির গেরুয়া নেতৃত্ব। সেখানে তৃণমূলের টিকিটে লড়ছেন প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ওই কেন্দ্রে মূলত লড়াই হবে ওই দুই প্রার্থীর মধ্যেই।
তবে শুভেন্দু তা মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, সেই কেন্দ্র থেকে জিতবেন তো বটেই, বরং মার্জিনে রেকর্ড গড়বেন অভয়ার মা। শুভেন্দু বলেন, 'আমাদের দল বোন অভয়ার মায়ের কাছে কৃতজ্ঞ। সেই ঘটনায় বিচার না পাইয়ে দেওয়ার মূল কারিগর মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের দলের বিরুদ্ধে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থীপদ স্বীকার করেছেন তিনি। আমার বিশ্বাস এখানকার জনতা রেকর্ড মার্জিনে তাঁকে জেতাবেন। যা স্বাধীনতা উত্তর পানিহাটি কেন্দ্রে কেউ কোনওদিন জেতেননি।'
অভয়াকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু আজও দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চক্রান্তের কারণেই অভয়া বিচার পাননি। তাঁকে ধর্ষণের পর খুন হতে হয়। তৃণমূলের বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ তুলে বলেন, 'সেদিন অভয়ার দেহ জোর করে ছিনিয়ে এনেছিল তৃণমূলের লোকেরা। বাড়িল লোকের সম্মতি না নিয়ে দেহকে তাড়াতাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। বাড়ির লোককে ইলেকট্রিক চুল্লির টাকাও মেটাতে দেওয়া হয়নি। সেদিন সজল ঘোষ, কৌস্তভ বাগচী, অগ্নিমিত্রা পালরা প্রতিবাদ করেছিলেন। তারপর সিবিআই তদন্ত হাতে নেওয়ার আগে বিনীত গোয়েল, অতীন ঘোষ, নির্মল ঘোষেরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে ও নির্দেশে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছিলেন। সেই চক্রান্তের অন্যতম নায়ক বিনীত গোয়েলের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেছিলেন মেনকা গুরুস্বামী। তাঁকে তৃণমূল রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে।
সেজন্য অভয়ার আন্দোলনের সময় যে সব মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন, পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের কাছে আমাদের আবেদন প্রার্থীর পাশে দাঁড়ান।'
এরপরই শুভেন্দু জানান, তিনি অভয়ার মা-কে অনুরোধ করেছেন, পানিহাটিতে প্রচারের পর সময় বের করে যেন ভবানীপুরেও যান তাঁর হয়ে প্রচারে। কারণ, আরজি কর কাণ্ডের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বাস্থ্য, পুলিশমন্ত্রীও ছিলেন। সেই কারণে তৃণমূল নেত্রীকে হারাতে অভয়ার মা-কে তিনি পাশে চান।