শুভেন্দু অধিকারী এক এক করে খোলা হচ্ছে দুর্নীতির ফাইল। অপরাধ প্রমাণিত হলেই হাজতবাস! সোমবার সন্ধ্যায় নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে বললেন ৪ জনের নাম। জানিয়ে দিলেন স্ক্যানারে থাকা তাঁদের সম্পত্তির পরিমাণও। শুভেন্দুর মুখে কার কার নাম শোনা গেল?
ক্যামাক স্ট্রিটের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'কলকাতা পুরসভার ফাইল খোলা হচ্ছে। কীভাবে এরা বাংলাকে লুটেছে, আপনারা ভাবতেই পারবেন না। আমরা আজ ক্যাবিনেটে কমিটি গঠন করে দিয়েছি। যে কমিটি এই লুটেরাদের খবর নেবে। ছেড়ে কথা বলার লোক নই আমরা। ৪টি নাম দিয়ে দিয়েছি আমি। বেলেঘাটার রাজু নস্কর, ১৮টি প্রপার্টি। কসবার সোনা পাপ্পু, ২৪টি প্রপার্টি। ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের ১৪, নিজের নামে ৪ এবং বাবার নামে আরও ৬। মোট ২৪টি প্রপার্টি। আর চতুর্থ নাম হল জাভেদ খানের ছেলে ফয়েজ। ৯০টি প্রপার্টি।' তাঁর সংযোজন, 'যেভাবে শান্তনু, সুজিত ভিতরে ঢুকে গিয়েছে। আগামী দিনে আইন মেনে বাকিদেরও হাজতবাস করাবে BJP সরকার।'
জয়ের পর প্রথমবার ভবানীপুর কেন্দ্রে এসে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'কেবলমাত্র ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে আমি কোনও কাজ করব না। গত ১৫ বছরে আপনারা বুঝতে পারেনি বিধায়ক কেমন হওয়া উচিত। কোনও পরিষেবা পাননি। কিন্তু এবার বুঝবেন, কারণ এবার আপনাদের ভাই বিধায়ক হয়েছে। গ্রামের একটা ছেলেকে এভাবে আপন করে নিলেন, মমতার আহংকার ভেঙে দিলেন।'
এরপরই শুভেন্দু বলেন, '৭টি ওয়ার্ডে আমি ওয়ার্ড অফিস খুলে দেব। সমস্ত পরিষেবা দেব। কিন্তু একমাত্র ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য আমি কিছু করব না। পরিষেবা দেব কি না, পরে ভেবে দেখব। ওখানে কোনও ওয়ার্ড অফিস খুলব না।' উল্লেখ্য, এই ওয়ার্ড মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা এবং সেখান থেকেই সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছেন শুভেন্দু। গত ৪ মে, রেজাল্ট আউটের দিনও তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, কোনও মুসলিম তাঁকে ভোট দেননি।
তিনি এদিন আরও জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিত্র ইনস্টিটিউশন ভোটকেন্দ্রের ৪টি বুথেই BJP এগিয়ে ছিলেন। ফিরহাদ হাকিমের বাসভবনের সামনে, তাঁর বুথ চেতলা গার্লসের সব বুথেও তিনিই এগিয়ে ছিলেন বলে জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, 'যে নিজের বুথে জিততে পারেন না, তাঁকে বাংলার মানুষ টাটা বাই বাই করে দিয়েছে। ৭৭ নম্বর থেকে উনি ১৯ হাজার ভোট পেয়েছেন আর চেতলার ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের হিন্দুরা আমায় ১৫ হাজার লিড দিয়েছে।'
শুভেন্দু মারওয়ারি, গুজরাটি, জৈন, শিখ সমাজের ভোটারদের ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে বলেন, 'আপনাদের ভাইকে আপনারা জিতিয়েছেন, সেই ঋণ আমি শোধ করে দেব। আমাকে ২-৪ সপ্তাহ একটু সময় দিন।'
শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বাংলাদেশের জামাতের চিড়বিড়ানি বেড়ে গিয়েছে বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, 'ম্যায় ডরনেওয়ালা আদমি নহি হু, রুখনেওয়ালা নহি হু। দেশকে সুরক্ষিত রাখার কাজ ভারতীয় জনতা পার্টি করবে। যে পথে অনুপ্রবেশকারীরা এসেছিল, SIR-এর পর সে পথেই যান বাংলাদেশ ফিরে যান। পার্কসার্কাসে পুলিশ ভাইদের উপর যারা পাথর ছুড়েছে, তাদের ফল ভুগতে হবে।'