সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় বিধানসভায় মুখ খুললেন শুভেন্দুশুক্রবার ধর্মতলায় ধুন্ধুমার নিয়ে বিধানসভায় মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিকদের উপর শারীরিক হেনস্থার তীব্র নিন্দা করে শুভেন্দু জানান, এই ঘটনায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের কাউকে ছাড়া হবে না জানিয়ে, ৫ জন 'গুন্ডা'র নামও বিধানসভায় বলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারী এদিন বিধানসভায় বলেন, "পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া ছিল সরকারের নির্দেশ ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলে কোনওরকম বলপ্রয়োগ করা যাবে না। কিছু বাম ও SUCI-এর ছাত্র সংগঠন, যাদের কলেজে অস্তিত্ব নেই, তারাও আন্দোলনে ঢুকে পড়ে। মিছিল শান্তিপূর্ণভাবেই এগোচ্ছিল, পুলিশের হিসাব ছিল ৯ হাজারের মতো লোক হবে। ডোরিনা ক্রসিংয়ে আসার পর জুতো ও বোতল দিয়ে আক্রমণ শুরু করে। তবে পুলিশ সংযত ছিল, পুলিশের যাঁরা ডিউটিতে ছিলেন, তাঁদের ধন্যবাদ।"
তিনি বলেন, "সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় মোট ৭টি দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলিতে গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগ করা হয়েছে। এই হামলার সঙ্গে যুক্ত ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের কেউ ছাত্র নয়। রাজাবাগানের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ, মোমিনপুরের তনভির ইকবালকে চিহ্নিত করা হয়েছে । গুন্ডাদমন আইনে এমন ব্যবস্থা নেব যাতে গুন্ডাদের এক পুরুষ নয়, তিন পুরুষ মনে রাখবে ঘটনা ঘটনোর আগে। এই জন্যই গুন্ডাদমন আইন পাশ হয়েছে। এর প্রয়োজন কতটা এবার মানুষ দেখবে।"
গতকাল কী হয়েছিল?
শুক্রবার দুপুর ২টো নাগাদ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র-যুব সংগঠনের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক মানুষ ডোরিনা ক্রসিংয়ে (জওহরলাল নেহরু রোড ও রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ মোড়) জমায়েত হন। অভিযোগ, পুলিশের কোনও অনুমতি ছাড়াই ওই জমায়েত করা হয়েছিল। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন সংগঠনের পতাকা ও ব্যানার বহন করছিলেন। মামলায় AIDSO, AIDYO, CPIM(L), DYFI, AISA, PDSF, AFSA, DSF, ISU এবং APDR-সহ একাধিক সংগঠনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা মাইক ব্যবহার করে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখছিলেন এবং সমর্থকদের পুরো ডোরিনা ক্রসিং দখল করার জন্য উৎসাহিত করছিলেন। এর ফলে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
কলকাতা পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত অভিযোগে বলা হয়েছে, নসমাবেশটিকে পুলিশ বেআইনি ঘোষণা করে এবং বারবার এলাকা ছেড়ে শান্তি বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নির্দেশ মানা হয়নি। বরং নেতাদের নির্দেশে ভিড় পুলিশের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের কর্মী এবং সাধারণ পথচারীদের লক্ষ্য করে জলের বোতল, জুতো, লাঠি ও পাথর ছোড়ে বলে অভিযোগ। এতে কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হন।
কলকাতা পুলিশের আরও দাবি, বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল এবং তারা পুলিশকে প্ররোচিত করার চেষ্টা করলেও পুলিশ সংযম দেখিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং নির্দিষ্ট পরিসরের মধ্যে জমায়েতকে সীমাবদ্ধ রাখে। এই ঘটনার জেরে দীর্ঘ সময় ধরে যান চলাচল ও জনজীবন কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ১৫ মিনিট নাগাদ বিক্ষোভকারীরা এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ।