
তারাতলার দুর্ঘটনার পর নির্মাণে কড়া নিয়ম আনছে রাজ্য সরকার।Taratala Incident: তারাতলার ঘটনার পর রাজ্যে নির্মাণ সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, ভবিষ্যতে কোনও নির্মাণে নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন বরদাস্ত করা হবে না। সব নির্মীয়মাণ প্রকল্পের নকশা, অনুমোদন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হবে। কিন্তু ঠিক কোন কোন ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য? শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে বিষয়টি স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
নির্মাণের বিষয়ে যা বললেন শুভেন্দু:
১. 'আমরা যে এলাকাগুলিকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করেছি, সেগুলি হল কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন, বিধাননগর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন, রাজারহাট-নিউটাউন, কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (KDA), এনকেডিএ, পুজালি, বারুইপুর, বজবজ, মহেশতলা, রাজপুর-সোনারপুর। আজ এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি, বরানগর এবং হাওড়া পুরসভার আংশিক এলাকা, বিশেষ করে গঙ্গার ধারে যেসব নির্মীয়মাণ প্রকল্প রয়েছে।'
২. 'রেল, মেট্রো রেল, সরকারি প্রকল্প, নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ, জাতীয় সড়ক, স্টেট হাইওয়ে, ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের অন্যান্য প্রকল্প এই নির্দেশিকার বাইরে থাকবে।'
৩. 'প্রশ্ন উঠতে পারে, ৩১ জুলাই পর্যন্ত সব কাজ বন্ধ থাকবে কি? না। যে ওয়ার্ড বা প্রকল্পের স্পেশাল অডিট শেষ হবে এবং ছাড়পত্র মিলবে, তারা সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু করতে পারবে। সবাইকে একসঙ্গে অপেক্ষা করতে হবে না।'
৪. 'আজ দুপুর আড়াইটে থেকে টিম কাজ শুরু করছে। কলকাতা পুরসভাকে নোডাল সংস্থা করা হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার, সার্ভেয়ার, সয়েল টেস্ট বিশেষজ্ঞ এবং পুলিশের প্রতিনিধিরাও থাকবেন। যেখানে প্রয়োজন, রাজ্য পুলিশও সাহায্য করবে।'
৫. 'অডিটে তিন ধরনের সিদ্ধান্ত হতে পারে। প্রথমত, গুরুতর নিয়মভঙ্গ থাকলে আবেদন বাতিল হবে। দ্বিতীয়ত, সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হবে। তৃতীয়ত, সব ঠিক থাকলে পর্যায়ক্রমে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হবে।'
৬. 'আমাদের উদ্দেশ্য নগরায়ণ থামিয়ে দেওয়া নয়। উদ্দেশ্য হল গার্ডেনরিচ, কসবা, তিলজলা এবং তারাতলার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা। মানুষের জীবনের মূল্য অনেক বেশি।'
৭. '৩১ জুলাইয়ের অডিটের পাশাপাশি এই কমিটিকে আরও ৯০ দিনের একটি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হাইরাইজ ও বাণিজ্যিক ভবনগুলিতে ফায়ার সেফটি, লাইটনিং অ্যারেস্টার এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিশেষ অডিট করা হবে।'

শুভেন্দু বলেন, 'তারাতলার দুর্ঘটনা রাজ্যের কাছে বড় সতর্কবার্তা। তাঁর কথায়, মানুষের প্রাণ নিয়ে কোনও রকম ঝুঁকি নেওয়া হবে না। তাই নির্মাণ সংক্রান্ত নিয়ম কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে রাজ্যজুড়ে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। নিরাপত্তা বিধি মেনে কাজ হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই সেফটি অডিট শুরু হয়েছে।'
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিল্ডিংয়ের প্ল্যানেই ত্রুটি ছিল। সেই কারণেই শুধু ঘটনাস্থল নয়, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে অনুমোদন পাওয়া একাধিক নির্মীয়মাণ প্রকল্পও অডিটের আওতায় আনা হচ্ছে।
এই অডিটের জন্য রাজ্য সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে রয়েছেন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি পূর্ত দফতর, দমকল, পুলিশ, দুর্যোগ মোকাবিলা দফতর এবং প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের দায়িত্ব হবে নথি পরীক্ষা, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া।
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আবারও অভিযোগ করেন, অতীতে নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, বেআইনি ভাবে অনুমোদন দেওয়া বা নিয়ম লঙ্ঘনের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, তাঁদের কাউকেই ছাড়া হবে না। তদন্তে যে-ই অভিযুক্ত হোন না কেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তারাতলা দুর্ঘটনার জেরে রাজ্যজুড়ে নির্মাণ প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সরকারের দাবি, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে নির্মাণের প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি চালানো হবে।