Suvendu Adhikari: 'পার্থকে ভোটে লড়ালেও অবাক হব না', বিধানসভায় 'পদোন্নতি' নিয়ে তীব্র কটাক্ষ শুভেন্দুর

উদাহরণ হিসেবে অনুব্রত মণ্ডলের নামও তুলে ধরেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, অনুব্রত মণ্ডলের ক্ষেত্রে কার্যত ‘পদোন্নতি’ হয়েছে, নিরাপত্তা বেড়েছে, এমনকি এসআরডিএ-র মতো মন্ত্রী পদমর্যাদার নীল বাতির গাড়িও দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর কটাক্ষ, 'অর্থাৎ যাঁরা এই ধরনের অসামাজিক কাজ করবে, তাঁদেরই সম্মান দেওয়া হবে, এটাই তৃণমূলের নীতি। তাই পার্থ ভোটে লড়লেও আশ্চর্যের কিছু নেই।'

Advertisement
'পার্থকে ভোটে লড়ালেও অবাক হব না', বিধানসভায় 'পদোন্নতি' নিয়ে তীব্র কটাক্ষ শুভেন্দুরশুভেন্দু অধিকারী ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়।-ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • মঙ্গলবার বিধানসভায় নতুন দায়িত্ব পেলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
  • নিয়োগ দুর্নীতি মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত পার্থ বর্তমানে জামিনে মুক্ত।

মঙ্গলবার বিধানসভায় নতুন দায়িত্ব পেলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত পার্থ বর্তমানে জামিনে মুক্ত। তাঁকে বিধানসভার লাইব্রেরি কমিটির সদস্য করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন, অগ্নিনির্বাপণ ও বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটিতেও তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

বিধানসভায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই ‘ফেরত’ ঘিরে কটাক্ষে সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, 'আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ভোটে দাঁড় করালেও আমি অবাক হব না।' শুভেন্দুর দাবি, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও যাঁরা দলের প্রতি অনুগত, তাঁদেরই পুরস্কৃত করার সংস্কৃতি রয়েছে তৃণমূলে।

এই প্রসঙ্গে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বঙ্গ সফরের মন্তব্য তুলে ধরেন শুভেন্দু। শাহ বলেছিলেন, 'তৃণমূল মানেই দুর্নীতি।' পাশাপাশি তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন, যদি দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা-মন্ত্রীদের টিকিট না দেওয়া হয়, তবেই বোঝা যাবে মুখ্যমন্ত্রী সত্যিই তাঁদের কাজ সমর্থন করেন না। শুভেন্দুর মন্তব্য, 'আমার নেতা অমিত শাহ যা বলেছিলেন, সেটাই আজ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে।'

উদাহরণ হিসেবে অনুব্রত মণ্ডলের নামও তুলে ধরেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, অনুব্রত মণ্ডলের ক্ষেত্রে কার্যত ‘পদোন্নতি’ হয়েছে, নিরাপত্তা বেড়েছে, এমনকি এসআরডিএ-র মতো মন্ত্রী পদমর্যাদার নীল বাতির গাড়িও দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর কটাক্ষ, 'অর্থাৎ যাঁরা এই ধরনের অসামাজিক কাজ করবে, তাঁদেরই সম্মান দেওয়া হবে, এটাই তৃণমূলের নীতি। তাই পার্থ ভোটে লড়লেও আশ্চর্যের কিছু নেই।'

একই সঙ্গে সদ্য তৃণমূল ছেড়ে জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করা বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, হুমায়ুন কবীরকে দিয়ে এই সব কাজ করাচ্ছে তৃণমূলই। কারণ, মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু সমাজ ওবিসি, ওয়াকফ-সহ একাধিক ইস্যুতে তৃণমূলের উপর ক্ষুব্ধ। সেই ভোট যাতে বিজেপির দিকে না যায়, তাই বাবরের নাম তুলে ধর্মীয় আবেগে উসকানি দিয়ে সংখ্যালঘু ভোট ধরে রাখার কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর। শুভেন্দুর মতে, ভোটের পর কয়েকটি আসন নিয়ে হুমায়ুন কবীর ফের তৃণমূলে ফিরে যাবেন।

Advertisement

বামেদের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, প্রকাশ্যে তৃণমূলের বিরোধিতা করলেও বামেদের এই রাজনীতি কার্যত প্রায় ৬ শতাংশ ভোট কেটে শাসকদলকে সুবিধা করে দিচ্ছে। তাই আসন্ন নির্বাচনে ‘নো ভোট টু তৃণমূল’ নিশ্চিত করার ডাক দেন শুভেন্দু অধিকারী।

 

POST A COMMENT
Advertisement