ধর্মতলার সংঘর্ষে আক্রান্ত সাংবাদিকদের পাশেও থাকার বার্তা দেন শুভেন্দু। Suvendu Adhikary press conference Kolkata: 'এরা কেউ ছাত্র নয়, এরা জামাতি, মৌলবাদী এবং ভারতবর্ষকে দুর্বল করতে চায়, অশান্তি করতে চায়।' নিট (NEET) কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে ধর্মতলার মিছিলে হিংসার ঘটনায় এভাবেই আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার শুভেন্দু বলেন, ধর্মতলায় তাণ্ডব চালানো দুষ্কৃতীদের সঙ্গে আসল ছাত্র আন্দোলন কিংবা ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) কোনও সম্পর্কই নেই। এরা বিদেশি শক্তি দ্বারা মদতপুষ্ট একদল উগ্রপন্থী দুষ্কৃতী হতে পারে।
ধর্মতলার সংঘর্ষে আক্রান্ত সাংবাদিকদের পাশেও থাকার বার্তা দেন শুভেন্দু। জানান, বিজেপি সব সময় গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের সুরক্ষায় বিশ্বাসী।
‘বিদেশি শক্তির উস্কানি ও প্রতিহিংসার রাজনীতি’
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'যারা এই তাণ্ডব চালিয়েছে, তারা কিন্তু নিজেদের দায় স্বীকার করছে না। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াতেও তা প্রকাশ পেয়েছে। এই শক্তিটা সম্পূর্ণভাবে বিদেশি শক্তির দ্বারা মদতপুষ্ট হতে পারে, যা তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখবেন।'
শুভেন্দুর বক্তব্য, 'গত ১০ সপ্তাহ ধরে যে নতুন রাষ্ট্রবাদী সরকার চলছে, তারা একাধিক কঠোর সিদ্ধান্ত ও আইন কার্যকর করেছে।' তাঁর দাবি, খারিজি মাদ্রাসার রেজিস্ট্রেশন নিয়ে তদন্ত, অবৈধ ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল, ১৯৫০ সালের পশু হত্যা আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা এবং শব্দদূষণ রোধে বিধিনিষেধ জারির ফলেই এই 'মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলি' ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। সেই বিষোদগার থেকেই প্রধানমন্ত্রীর ছবিতে লাথি মারা বা জাতীয় পতাকাকে অবমাননা করার মতো দেশবিরোধী কাজ চালানো হচ্ছে, দাবি শুভেন্দুর।
গত একাধিক নির্বাচনের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার স্মৃতি উস্কে দিয়ে শুভেন্দু বিগত সরকারকে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, '২০২৩-এর পঞ্চায়েত ভোট, ২০২২-এর পুরভোট, ভাঙড় কিংবা আরজি করের আন্দোলনেও অসংখ্য রিপোর্টার রক্তাক্ত হয়েছেন। কিন্তু তখন না পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেছে, না তখনকার প্রশাসন কাউকে গ্রেফতার করেছে। এবার কিন্তু দৃশ্য বদলেছে।'
মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, আক্রান্ত সাংবাদিকদের সাহস জোগাতে তিনি নিজে এসএসকেএম (PG) হাসপাতালে ছুটে যান। সাংবাদিকদের উদ্যোগেই মামলা দায়ের ও মেডিক্যাল সম্পন্ন হয়। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে ইতিমধ্যেই পুলিশ ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে।
ধর্মতলায় ধৃত বেড়ে ১৪, কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
শুক্রবার ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। শনিবার পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। রবিবার সকালে আরও তিন জনকে আটক করে পুলিশ। ফলে মোট ধৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪। পুলিশ সূত্রে খবর, ভিডিও ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করেই রাজাবাগান সহ কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকা থেকে এদের ধরা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই হেয়ার স্ট্রিট ও এন্টালি থানায় মোট সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। 'গুন্ডাদমন আইন' আরোপ করা হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'গতকাল বিধানসভায় যা বলেছি, আজও সেটাই বলছি; এরা ছাত্র নয়, এরা গুন্ডা। আর গুন্ডা দমনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটাই ফাইনাল কথা।'