রবিবার কি গালিফ স্ট্রিটে হাট বসবে? শহরের শতাব্দী প্রাচীন পোষ্য মার্কেট ঘিরে এখন দুশ্চিন্তার ঘনঘটা। রঙিন মাছ থেকে শুরু করে পশু-পাখি প্রেমীরা গালিফ স্ট্রিটের ভবিষ্যৎ জানতে উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছেন। সকলেই জানতে চাইছেন, তাহলে ফাইনালি কি রবিবার বসতে চলেছে পেট মার্কেট?
গালিফ স্ট্রিট নিয়ে কী গণ্ডগোল?
শুরুটা হয়েছিল আজ থেকে ঠিক ৩ সপ্তাহ আগে, ২০ সেপ্টেম্বর। পুলিশি অভিযানে হাট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় মাছ, পশু-পাখির দোকান। এমনকি হঠিয়ে দেওয়া হয় গাছের দোকানদারদেরও। অভিযোগ একাধিক আইনকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে এতদিন গালিফ স্ট্রিটে অবাধে চলছিল প্রাণী কেনাবেচা। কিন্তু এনিয়ে ২০২০ সালে কলকাতা হাইকোর্ট একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সেই মামলায় হাইকোর্ট বাজার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। বলা হয় শুধুমাত্র বৈধ লাইসেন্স থাকলেই ব্যবসা করা যাবে। কিন্তু, হাট হওয়ায়, নির্দিষ্ট দোকান না থাকায় বহু ব্যাবসায়ীরই ট্রেড লাইসেন্সও নেই। ফলে গোটা হাটই উঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল ২০ সেপ্টেম্বর।
পরবর্তীতে ২৭ সেপ্টেম্বর, রবিবারে দেখা যায় শুনশান হাট। সকালের দিকে কিছু গাছ ব্যবসায়ী ও মাছের দোকানি থাকলেও বেলার দিকে পুলিশ আসতেই তাঁরা তল্পি গুটিয়ে সরে পড়েন। তারও পরের রবিবার অর্থাৎ ৪ অক্টোবর পুরো ফাঁকাই ছিল গালিফ স্ট্রিট মার্কেট। সকাল ৮টাতে গিয়েও দেখা পাওয়া যায়নি ব্যবসায়ীদের। এদিন বাজার ছিল বন্ধ। এরপর আসছে, ১১ অক্টোবর, রবিবার। আগামীকাল কি আদৌ হাট খোলা থাকবে?
হাইকোর্টে শুনানি হয়ে গিয়েছে
এরই মধ্যে ৬ অক্টোবর, মঙ্গলবার এই মামলায় শুনানি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের বেঞ্চ জানিয়েছে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন মেনে গালিফ স্ট্রিটের পাশাপাশি রাজ্যের অন্য জায়গাগুলিতেও ব্যবসা করা যাবে। তবে লাইসেন্স ছাড়া পশুপাখি বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে। হাইকোর্ট রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে, ব্যবসায়ীদের পশুপাখি বিক্রির বৈধ অনুমতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখে তবেই বিক্রির অনুমতি দিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে আগামী ১৪ অক্টোবর ফের সব পক্ষকে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
আগামী রবিবার, ১১ অক্টোবর কি হাট বসবে?
৬ অক্টোবর শুনানির সময়, ব্যবসায়ীদের আইনজীবী আদালতের কাছে আবেদন জানান, আগামী রবিবার ব্যবসায়ীদের বসার অনুমতি দিতে। কিন্তু উভয় পক্ষেও সওয়াল জবাব শোনার পর প্রধান বিচারপতি জানান, সমস্ত ব্যবসায়ীকে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নিতে হবে। একমাত্র সেক্ষেত্রেই হাটে বা রাজ্যের অন্য কোনও জায়গায় বসার অনুমতি পাওয়া যাবে। অর্থাৎ ১১ অক্টোবর, রবিবার টালার হাটে বসতে পারবেন শুধুমাত্র সেই ব্য়বসায়ীরাই, যাদের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স রয়েছে।
গালিফ স্ট্রিট শতাব্দী প্রাচীন হাট
উল্লেখ্য বিষয় হল, ইংরেজ আমলে চালু হয়েছিল এই পোষ্য বাজার। তবে আগে এই হাট বসত হাতিবাগান এলাকায়। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সাল নাগাদ যানজটের কারণে গলিফ স্ট্রিটে সরিয়ে দেওয়া হয় হাট। তখন থেকে সেখানেই প্রতি রবিবার করে এই হাট বসে। সেই হাটেই এবার বেআইনি বেচা কেনা নিষিদ্ধ করতে পদক্ষেপ নিয়েছে আদালত।