Taratala Incident: তারাতলার জের, Under Construction বহুতলের জন্য নতুন Form প্রকাশ পুরসভার

Taratala Incident Enquiry Committee: শহরের সমস্ত নির্মীয়মাণ বহুতলের জন্য একটি নতুন ফর্ম প্রকাশ করল পুর কর্তৃপক্ষ। তারাতলার ঘটনার পর শহরের নির্মাণ পরিকাঠামো নিয়ে কড়াকড়ি শুরু করে প্রশাসন। বেআইনি এবং ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ রুখতে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Advertisement
তারাতলার জের, Under Construction বহুতলের জন্য নতুন Form প্রকাশ পুরসভারনতুন ফর্ম প্রকাশ করল পুর কর্তৃপক্ষ।
হাইলাইটস
  • শহরের সমস্ত নির্মীয়মাণ বহুতলের জন্য একটি নতুন ফর্ম প্রকাশ করল পুর কর্তৃপক্ষ।
  • তারাতলার ঘটনার পর শহরের নির্মাণ পরিকাঠামো নিয়ে কড়াকড়ি শুরু করে প্রশাসন।
  • বেআইনি এবং ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ রুখতে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

শহরের সমস্ত নির্মীয়মাণ বহুতলের জন্য একটি নতুন ফর্ম প্রকাশ করল পুর কর্তৃপক্ষ। তারাতলার ঘটনার পর শহরের নির্মাণ পরিকাঠামো নিয়ে কড়াকড়ি শুরু করে প্রশাসন। বেআইনি এবং ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ রুখতে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুরসভার ১১ জনের বিশেষ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির (High-Power Committee) সিদ্ধান্তের পর, সোমবার নতুন নির্দেশিকা ও ফর্ম প্রকাশ করেন পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে।

পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সমস্ত নির্মীয়মাণ বহুতল কর্তৃপক্ষকে এই নির্দিষ্ট ফর্মটি পূরণ করে অবিলম্বের নিজের এলাকার বরো অফিসে অথবা পুরসভার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (ই-মেল মারফত) জমা করতে হবে।

১৬টি বরোয় ১৬টি অডিট টিম, তালিকায় কলকাতা পুলিশও
শহরের বুকে গড়ে ওঠা বহুতলগুলির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে কলকাতা পুরসভার ১৬টি বরো এলাকার জন্য ১৬টি পৃথক বিশেষ অডিট টিম গঠন করা হয়েছে। এই দলগুলি শুধুমাত্র পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে গঠিত নয়; এতে পিডব্লিউডি (PWD), কেএমডিএ (KMDA), রাজ্য শ্রম দফতর-সহ একাধিক বিভাগের বিশেষজ্ঞদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নজরদারি আরও নিশ্ছিদ্র করতে প্রতি কমিটিতে কলকাতা পুলিশের প্রতিনিধিদেরও রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে যেখানে দরকার, সেখানে রাজ্য পুলিশও পূর্ণ সহযোগিতা করবে। বরো অফিসগুলির কাছে ইতিমধ্যেই যে সমস্ত অনুমোদিত ও নির্মীয়মাণ প্রকল্পের তালিকা রয়েছে, তা মিলিয়ে দেখে এবার সরাসরি ‘ফিল্ড ভিজিটে’ (Field Visit) নামছেন অডিট টিমের সদস্যরা।

Taratala Incident Enquiry Committee:

কী হবে এই অডিট রিপোর্টের ভিত্তিতে?
অডিট টিমের সদস্যরা প্রতিটি নির্মাণস্থল ঘুরে খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করবেন। সেই রিপোর্ট জমা পড়বে নবান্ন ও পুরসভার শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টেকনিক্যাল কমিটির কাছে। সেই বিশেষ কমিটি সমস্ত কারিগরি দিক খতিয়ে দেখার পরেই সবুজ সংকেত বা পুনরায় কাজ শুরু করার অনুমতি দেবে।

শুক্রবার নবান্নে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, এই স্ক্রুটিনি ও অডিটের ভিত্তিতে মূলত তিন ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে,

Advertisement

আবেদন বাতিল: যদি কোনও নির্মাণে গুরুতর বিধিভঙ্গ বা গাফিলতি ধরা পড়ে, তবে সেই আবাসন বা বাণিজ্যিক প্রকল্পের অনুমোদন সরাসরি বাতিল করা হবে।

সংশোধনের নির্দেশ: যদি সামান্য কিছু ত্রুটি থাকে, তবে নির্মাণ সংস্থাকে তা শুধরে নেওয়ার সময় ও নির্দেশ দেওয়া হবে।

ছাড়পত্র: সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে পর্যায়ক্রমে কাজের ক্লিয়ারেন্স মিলবে।

ঠিক কোন কোন এলাকায় এই নিয়ম প্রযোজ্য?
তারাতলা কাণ্ডের পর প্রাথমিকভাবে কলকাতা, বিধাননগর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন, রাজারহাট-নিউটাউন, কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (KDA), এনকেডিএ (NKDA), পুজালি, বারুইপুর, বজবজ, মহেশতলা এবং রাজপুর-সোনারপুর এলাকাকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এর পরিধি আরও বাড়িয়ে দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি, বরানগর এবং হাওড়া পুরসভার আংশিক এলাকা, বিশেষ করে গঙ্গার তীরবর্তী সমস্ত নির্মীয়মাণ প্রকল্পকে এই নিয়মের আওতায় আনা হয়েছে।

তবে জনস্বার্থ এবং জরুরি পরিষেবার কথা মাথায় রেখে রেল, মেট্রো রেল, জাতীয় ও রাজ্য সড়ক, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সরকারি প্রকল্প এবং নির্বাচন সংক্রান্ত কাজকে এই নির্দেশিকার বাইরে রাখা হয়েছে।

৩১ জুলাই পর্যন্ত কি সব কাজ বন্ধ?
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঢালাওভাবে সব কাজ বন্ধ রাখার উদ্দেশ্য সরকারের নেই। যে ওয়ার্ড বা নির্দিষ্ট প্রকল্পের স্পেশাল অডিট শেষ হবে এবং গ্রিন সিগন্যাল মিলবে, তারা সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু করতে পারবে। কাউকেই অহেতুক অপেক্ষা করতে হবে না। তবে ৩১ জুলাইয়ের পর আগামী ৯০ দিনের জন্য হাইরাইজ ও বাণিজ্যিক ভবনগুলিতে ফায়ার সেফটি (অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা), লাইটনিং অ্যারেস্টার-সহ অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আরও একটি বিশেষ অডিট চালানো হবে।

নবান্নের স্পষ্ট বার্তা, 'উদ্দেশ্য নগরায়ণ থামিয়ে দেওয়া নয়। উদ্দেশ্য হল গার্ডেনরিচ, কসবা, তিলজলা এবং তারাতলার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা। মানুষের জীবনের মূল্য অনেক বেশি, সেখানে কোনও আপস নয়।'

 

POST A COMMENT
Advertisement