রাজারহাট নিউটাউনেও বিল্ডিং নির্মাণের কাজ আপাতত বন্ধকলকাতা পুরসভায় তৃণমূলের আমলে পাশ হওয়া নির্মীয়মাণ ইমারত তৈরি আপাতত বন্ধ থাকবে। আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ওই নির্মীয়মাণ ইমারতগুলির স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হবে। ছাড়পত্র মিললে তবেই ফের শুরু হবে নির্মাণকাজ। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে একথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরবর্তীতে হাওড়া এবং বিধাননগরেও একই ভাবে অডিট করা হবে বলে জানিয়েছিলেন শুভেন্দু। এই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই এলাকা বাড়িয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আগামী ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত কোথায় কোথায় সব বিল্ডিং নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকবে তা জানিয়ে দেন তিনি।
বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘৪ সপ্তাহ পর্যন্ত সব বিল্ডিং নির্মাণ কাজ বন্ধ। ছাড় শুধু জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কোনও নির্মাণ থাকলে। KMC, রাজারহাট, পূজালি, বজবজ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর গ্রামীণ এলাকা, সোনারপুর, মহেশতলা-সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় আগামী ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হচ্ছে। সব রিপোর্ট অডিট হওয়ার পরে সিদ্ধান্ত। দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলবে সরকার।’
প্রসঙ্গত, বুধবারই কলকাতার সব নির্মীয়মান বিল্ডিং খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য সরকার। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, তৃণমূল সরকারের আমলে যে সমস্ত বাড়ি বা বহুতলের নকশা (বিল্ডিং প্ল্যান) অনুমোদিত হয়েছিল, সেগুলির নির্মাণকাজ ৩১ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। প্রতিটি নির্মাণকাজ যথাযথ নিয়ম মেনে হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে একটি প্রতিনিধিদল। এই প্রতিনিধিদলে থাকবেন রাজ্যের পূর্ত, অসামরিক প্রতিরক্ষা দফতর, দমকল, কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভার আধিকারিকেরা। তাঁরা বাড়ির নকশা খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দেবেন। যাঁরা নিয়ম মেনে কাজ করছেন, তাঁরা ১ অগাস্ট থেকে আবার কাজ শুরু করতে পারবেন। তবে জরুরি পরিষেবার কাজের ক্ষেত্রে কোনও বাধা থাকবে না।
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিবৃতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী চার সপ্তাহ কলকাতা পুরসভা, রাজারহাট নিউটাউন, মহেশতলা, বজবজ, পূজালি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর গ্রামীণ এলাকা, সোনারপুর, বারুইপুর পুর এলাকায় সমস্ত নির্মীয়মান বিল্ডিং এর কাজ বন্ধ রাখা হচ্ছে। আর তারতলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই রাজেশ পাণ্ডে আইএসএস-এর নেতৃত্বে কমিটি তৈরি করা হচ্ছে। এই কমিটিতে থাকবেন স্মিতা পাণ্ডে, রচনা ভগত, রাজেশ সিনহা, খলিল আহমেদ, আইআইটি, পূর্ত দফতর চিফ ইঞ্জিনিয়ার, ডিজি বিল্ডিং। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সব বিল্ডিং প্ল্যান অডিট করানো হবে। তারপর গলদ পেলেই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জেল খাটানো হবে। দুর্নীতি নিয়ে একেবারে জিরো টলারেন্স নিচ্ছে রাজ্যের বিজেপি সরকার।