আমতলার অফিস আর ভাঙা যাবে না, হাইকোর্টের স্থগিতাদেশে স্বস্তি অভিষেকের

স্বস্তি পেলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আমতলার অফিসে বুলডোজার চালানোর উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট ৷ রবিবার বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর বিশেষ বেঞ্চ নির্দেশে জানিয়েছে, জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত অথবা যতদিন না এই মামলার শুনানি হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত স্থগিতাদেশ বজায় থাকবে।

Advertisement
আমতলার অফিস আর ভাঙা যাবে না, হাইকোর্টের স্থগিতাদেশে স্বস্তি অভিষেকেরআপাতত আর ভাঙা যাবে না অভিষেকের আমতলার দফতর

স্বস্তি পেলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আমতলার অফিসে বুলডোজার চালানোর উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট ৷ রবিবার বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর বিশেষ বেঞ্চ নির্দেশে জানিয়েছে, জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত অথবা যতদিন না এই মামলার শুনানি হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত স্থগিতাদেশ বজায় থাকবে। আদালত সূত্রে খবর, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন করে কোনও পদক্ষেপ নয় বলেই জানানো হয়েছে।

হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর আমতলার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৫ তলা অফিসটি  ভাঙার কাজ বন্ধ রাখতে হবে। এই বাড়ি নির্মাণে যাবতীয় সমস্ত তথ্য তলব করেছে আদালত। সব কিছু খতিয়ে দেখে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আদালত জানায়, তারা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এখন যে অবস্থা রয়েছে, সেই অবস্থাই বহাল থাকবে। তবে এ যাবৎ যা হয়েছে, তাতে হস্তক্ষেপ করল না আদালত। শনিবারের পরে রবিবারও সেই দফতরের একাংশ ভাঙার কাজ শুরু হয়েছিল। হাইকোর্ট দুপুরে নির্দেশ দিতেই সেই ভাঙার কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়টি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং কোনও অনুমোদিত প্ল্যান ছাড়াই গড়ে তোলা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুনানির জন্য জোড়া নোটিসও পাঠানো হয়। সেই রেশ ধরেই শনিবার আমতলার ওই কার্যালয়ের সামনে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। অভিষেকের অফিসের সামনে বুলডোজারও নিয়ে আসা হয়। বুলডোজ়ার চালিয়ে আমতলার দফতর ভাঙচুর করা হয়েছে, এই অভিযোগ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’। 

আমতলায় অভিষেকের কার্যালয়ে বুলডোজার অ্যাকশনের  ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে লিপস্ অ্যান্ড বাউন্ডস্ প্রাইভেট লিমিটেড। সূত্রের খবর, আমতলার ওই কার্যালয়ের মালিক লিপস্ অ্যান্ড বাউন্ডস্ প্রাইভেট লিমিটেড। রবিবার জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আর্জি জানান হয় আদালতে। বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর এজলাসে এই শুনানি হয়।

Advertisement

অভিযোগ উঠেছে যে, জমির বৈধ দলিল থাকা সত্ত্বেও বিজেপি নেতাদের উপস্থিতিতে অফিসটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে জরুরি আবেদন করা হয়। শুনানিতে লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থা আইনজীবী কিশোর দত্ত সওয়াল করে জানান, আমতলায় অভিষেকের দফতরের একাংশ ভাঙার আগে ভবনের মালিককে শুনানির জন্য কোনও নোটিসই দেওয়া হয়নি। যে লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে পাঁচতলা ভবনের জমি কেনা হয়েছিল, সেই সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টরকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। বিচারপতিতে পঞ্চায়েত আইন খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেন  অভিষেকের আইনজীবী।স্ট্যাটুয়েটারি স্কিম অনুযায়ী মালিককে আগে নোটিস দেওয়া উচিত বলে দাবি করেন তিনি। আইনজীবী কিশোর দত্ত বলেন, 'শুনানির সুযোগ দিতে হয়। কী অভিযোগ জানিই না। বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়নি।” সওয়াল শুনে বিচারপতি অর্ডার দেখতে চান। অভিষেকের আইনজীবী জানান, “আমাকে তো দেওয়াই হয়নি। পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে নির্মাণ ভাঙা হচ্ছে।'

সরকারি আইনজীবী সওয়াল করে জানান, ওই নির্মাণ বেআইনি।  রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র বলেন, '৩০ জুন নোটিস পেয়েছে। কী কী প্রভিশন আছে তা সব জানানো হয়েছে। এরা প্রত্যন্ত এলাকায় থাকেন না যে নোটিসে কি আছে জানতে পারেনি। বিল্ডিংয়ের কোনও অনুমোদন ছিল না।' বিচারপতি রাজা বসুচৌধুরী প্রশ্ন তোলেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের নোটিস কি জানতেন ভবনের জমির মালিক? তার পরেই আমতলার ভবন ভাঙার উপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে নতুন করে কিছু করা যাবে না। অর্থাৎ, এখন যে অবস্থায় রয়েছে, তা-ই বহাল থাকবে।

POST A COMMENT
Advertisement